|
|
খালিদ সাইফুল্লাহ : ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে বাড়ি যাওয়ার মতোই ফিরতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পরিবহন সংকটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে যাত্রীদের। ফলে নানা ভোগান্তি ঈদের আনন্দকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দিয়েছে।
এবার রোজা ৩০টি পূর্ণ হওয়ায় চারদিন ছুটি ভোগ করেছেন দেশবাসী। ১৮ আগস্ট শনিবার থেকে ২১ আগস্ট মঙ্গলবার পর্যন্ত এ ছুটি ভোগ করেন তারা। তবে এবার এ ছুটির সাথে যোগ হয়েছে শুক্রবার, শব-ই কদর ও ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি। ২২ আগস্টের ছুটি শেষে আবার অনেকে বুধ ও বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়েছেন। এর সাথে শুক্রবার ও শনিবার যোগ হয়ে ১১ দিনের এক বিশাল ছুটির বহর পেয়েছেন অনেকে। তবে বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এত ছুটি ভোগ করতে পারেননি। আবার অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মঙ্গলবার ছুটি শেষে বুধবার থেকেই কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মব্যস্ত মানুষ পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ শেষে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। এজন্য গত বুধবার থেকে রাজধানীমুখী হওয়া শুরু করেন মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবারও রাজধানীতে ফেরার যাত্রীদের ভিড় ছিলো ব্যাপক। তবে সে তুলনায় গাড়ির সংখ্যা বাড়ায়নি মালিকরা। উল্টো টিকিটের দর বাড়িয়ে দিয়েছেন। পূর্বের ভাড়ার তুলনায় অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে ক্ষেত্র বিশেষে দেড়শ থেকে আড়াইশ টাকা। কোথাও কোথাও তারও বেশি। যশোর থেকে ঈগল পরিবহনে আসা মিজানুর রহমান নামে এক যাত্রী জানান, আগে যশোর থেকে ঢাকায় আসতে চেয়ার কোচে সাড়ে চারশ টাকা নেয়া হলেও এখন পাঁচশ ৬০ টাকা নেয়া হচ্ছে। গাড়ি ছাড়ার সময় নিয়েও রয়েছে বিড়ম্বনা। বুধবার যশোর থেকে আসা শরিফুল ইসলাম নামে এক যাত্রী জানান, আমার টিকিটে সময় দেয়া হয়েছে সকাল ১০টা। কিন্তু গাড়ি ছেড়েছে ১১ টায়। ফলে এক ঘণ্টা কাউন্টারে বসে অলস সময় কাটাতে হয়েছে। আবার ওই পরিবহনের অন্যযাত্রীদের সময় দেয়া হয়েছে সাড়ে ১০টা, পৌনে ১১ টা এ রকম যথেচ্ছভাবে। এদিকে, বুধ ও বৃহস্পতিবার তুলনামূলক যাত্রী কম মনে করছেন পরিবহনের কর্মর্কতারা। তারা মনে করছেন শুক্র ও শনিবার পরিবহনে চাপ থাকবে সবচেয়ে বেশি। এজন্য তারা আরো ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। যার কাছ থেকে যেমন পারা যায় দাম হাঁকিয়ে নিচ্ছেন। সাড়ে চারশ টাকার টিকিট সাড়ে সাতশ টাকায়ও ঠেকছে। ঈদের আগে বিভিন্ন সড়ক মেরামত করা হলেও এখনো অনেক সড়কে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাগুরার সীমাখালী থেকে যশোর পর্যন্ত এবং যশোর থেকে খুলনা মহাসড়কে রয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য এদিক ওদিক হলেই গাড়ি চলে যাচ্ছে রাস্তার পাশের খাদে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার এ রকম অনেক গাড়ি রাস্তার পাশে চলে যেতে দেখা গেছে। ট্রেন ও লঞ্চের যাত্রীদেরও একইভাবে নানা ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি ঠেলাঠেলি ও গাদাগাদি করে উঠতে হচ্ছে। লঞ্চে দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে আগের মতোই। তারা আগেই কেবিন কিনে রেখে পরে দিগুণ-তিনগুণ দামে যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি করছে। ছাড়ার সময় নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট বিড়ম্বনা। চাঁদপুর থেকে এমভি রফ রফ লঞ্চের যাত্রী নাজমুল আহসান রাজু জানান, ওই লঞ্চের অনেকে কেবিনে চারজন থেকে ১২ জন যাত্রী উঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তিনশ থেকে পাঁচশ টাকা রাখা হয়েছে। এতসব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে রাজধানীতে ফিরতে হচ্ছে মানুষকে। ঈদের আনন্দ পিছনে ফেলে কর্মব্যস্ত হয়ে উঠছেন তারা। বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন অফিস ঘুরে দেখা গেছে উপস্থিতির হার অর্ধেকের মতো। প্রথমদিন কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর গতকাল কাজে নেমে পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে চিরচেনা রাজধানী এখনো স্বরূপে ফেরেনি। চিরচেনা সেই দুঃসহ যানজটের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। আর এ সুযোগে অনেকেই এখনো ঈদের আনন্দ খুঁজে পেতে ঘুরছেন রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে।

