Quantcast
ঢাকা, রোববার 26 August 2012, ১১ ভাদ্র ১৪১৯, ৭ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৫৯৩ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

আগে সময় নষ্ট করে এখন অসময়ে সরকারের দৌড়ঝাঁপ

উপদেষ্টার বিদায়েও সব শর্ত পূরণ হবে না বিশ্বব্যাংকের

 অবশেষে বিশ্বব্যাংক রাজি হলেও টেন্ডার আহবানের ক্ষমতাও হারাবে সরকার

শাহেদ মতিউর রহমান : পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে সরকার সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নিয়ে এখন অসময়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। মন্ত্রীর পদত্যাগের পর এখন এক উপদেষ্টাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। অবশ্য সব মহল থেকে এখন প্রশ্ন উঠেছে উপদেষ্টার বিদায়ের মাধ্যমেই কি বিশ্বব্যাংকের সব শর্ত পূরণ হয়ে যাবে।  এদিকে বিশ্বব্যাংকের আরোপিত শর্তের মধ্যে সবগুলো  বাস্তবায়ন হলে টেন্ডার আহবান থেকে শুরু করে অন্যান্য দাতাদের কাছ থেকে সম্পদ সংগ্রহের ক্ষমতাও হারাবে সরকার।

বিশেষজ্ঞ মহল থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, পদ্মা সেতু সম্পর্কিত ঋণ চুক্তি পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও  বিশ্বব্যাংক আরোপিত নতুন শর্ত কিংবা আগের শর্ত বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের অহেতুক বিলম্বের কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়েই এখন একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে সরকার বিশ্বব্যাংকের দেয়া শর্ত প্রথমে পূরণ না করে এখন অসময়ে এসে শর্ত পূরণ করলে এর ফল ভাল হবে কিনা বা এখন নতুন  আরো কোন শর্ত জুড়ে দেয়া হবে কিনা সে বিষয়টি ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। বিশ্বব্যাংকের দেয়া শর্তসমূহ আগেই পূরণ না করায় এখন ঋণচুক্তির  প্রক্রিয়াটি অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়লো কিনা সে দিকটি খেয়াল রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে আমরা বিশ্বব্যাংকের সব শর্তই পূরণ করছি কিন্তু সব কিছুই হচ্ছে অনেক দেরিতে। কাজেই এখন বিশ্ব ব্যাংক আগের সেই শর্তে রাজি হবে কিনা বা নতুন এখন কোন শর্ত আরোপ করবে কিনা সেটিও এখন বিবেচ্য বিষয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিশ্বব্যাংকের সাথে দরকষাকষির কিংবা তাদের নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সরকার একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে। চুক্তি পুনর্বিবেচনার আবেদনের পদ্ধতিও সরকার অবহিত হয়েছে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। এখন চলছে সেই আবেদনের খসড়া তৈরির প্রস্তুতি। তবে বহুল আলোচিত এ পদ্মা সেতুর টেন্ডার আহবান ও সম্পদ সংগ্রহের দায়িত্ব সরকারের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে দাতা সংস্থাগুলোর এ ভূমিকায় চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু নিয়ে বেহালদশা কাটাতে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট দাতা সংস্থার সঙ্গে আলোচনাও চলছে। মন্ত্রী আবুল হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করায় আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আরেকটি পদত্যাগের বিষয় নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। একটি অনলাইন বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, এ সপ্তাহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমানকে সরে দাঁড়াতে হতে পারে। আর এটাও করা হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের শর্ত মেনেই। তবে ড. মসিউর রহমান অবশ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাকে পদত্যাগের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। আর এসব বিষয় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে না।

অন্য একটি সূত্র জানায়,  নতুন শর্তের মধ্যে মন্ত্রী পদমর্যাদার একাধিক ব্যক্তিকে ছুটিতে পাঠানোর পক্ষে বিশ্বব্যাংক। কিন্তু এদের নাম স্পষ্ট করে বিশ্বব্যাংক বা সরকার কেউ বলছে না। তবে এ ঋণ পেতে মরিয়া সরকার বিশ্বব্যাংকের সব শর্তই মেনে নেয়ার পক্ষে। প্রথম শর্ত আবুল হোসেনের মন্ত্রিসভা থেকে সরে যাওয়া। দ্বিতীয় শর্তটি হচ্ছে মন্ত্রী পদমর্যাদার একাধিক ব্যক্তির সরে যাওয়া অথবা ছুটিতে পাঠানো। আর তৃতীয় শর্ত দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিশ্বব্যাংকের একটি প্যানেলের প্রবেশাধিকার রেখে একটি টার্মস অব রেফারেন্স চূড়ান্ত করা। ইতোমধ্যে এসব শর্ত প্রতিপালনে সরকার অনেকটা এগিয়ে এসেছে। দুদকও এ বিষয়ে টার্মস অব রেফারেন্স সই করবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা সেতু নির্মাণে ১২০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতি দেয় বিশ্বব্যাংক। কিন্তু জুন মাসে এসে এ নিয়ে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। অভিযোগ ওঠে সেতু নির্মাণের জন্য কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সঙ্গে অবৈধ অর্থ লেনদেনের প্রস্তাব রয়েছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়নের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুটি নির্মাণে ২৯০ কোটি ডলার ব্যয় ধরা হয়েছিল। তার মধ্যে ১২০ কোটি ডলার বিশ্বব্যাংকের ঋণ ছাড়াও এডিবি ৬১ কোটি, জাইকা ৪০ কোটি এবং ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা সেতুতে অন্য দুই সহ-অর্থায়ন সংস্থা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি তাদের প্রতিশ্রুতি ঋণের কার্যকারিতার সময় ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মধ্যে এ বিষয়ে সম্মানজনক নিত্তি চায় সরকার।

এদিকে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সম্ভবত একজন উপদেষ্টাকেও সরে যেতে হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে তার পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, আমি এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না।

সূত্র মতে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার পুনর্বিবেচনা করতে বিশ্বব্যাংক তিনটি শর্ত দেয়। অর্থ মন্ত্রণালয় ওই শর্তানুযায়ী নতুনভাবে কাজ শুরু করেছে। বিশ্বব্যাংক তার ঋণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে যে শর্ত দিয়েছে তার দুটি হচ্ছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দুইজনের পদত্যাগ। এর মধ্যে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন ছিলেন। তিনি পদত্যাগ করেছেন। এক মাস পর হলেও আবুল হোসেনের পদত্যাগপত্র সরকার গ্রহণ করেছে। অপরজন হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। ড. মসিউর রহমান পদ্মা সেতু প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি এডভাইজার হিসেবে কাজ করছেন।