|
|
ঈদ শেষে ঢাকায় ফেরা লাখ লাখ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ
স্বরূপে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানী। গতকাল শনিবার তোলা ছবি -সংগ্রাম
কামাল উদ্দিন সুমন : রাজধানীর প্রবেশ পথ যাত্রাবাড়ী এখন পুর্বাঞ্চলীয় পরিবহন যাত্রীদের জন্য চরম ভোগান্তির স্থান। গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী সড়কে চলাফেরা করা যাত্রীদের পক্ষে এ সড়ক দিয়ে এখন চলাচল করা রীতিমতো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। যানজটের কারণে মাত্র দশ মিনিটের এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে আড়াই থেকে ৩ ঘন্টা। ঈদ শেষে ঢাকায় ফেরা লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন যাত্রাবাড়ী এলাকায় এসে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুণ কষ্ট পোহাতে হয়। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার নির্মাণে সমন্বয়হীনতা, রাস্তার ওপর নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা এবং ডিসিসির রাস্তা খোঁয়ড়াখুড়ি, সায়েদাবাদে আন্তঃজেলা শত শত বাস পার্কিং ও দীর্ঘ সময় ধরে মেরামতের অভাবে রাস্তায় বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ পথের যাত্রীরা জানেন না এ অবস্থার শেষ কোথায়।
গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী, কাজলা শনির আখড়া, রায়েরবাগ, দনিয়া, মাতুয়াইল, দোলাইপাড়. সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, জয়কালী মন্দির, টিকাটুলী, দয়াগঞ্জসহ রাজধানীর পূর্বাঞ্চলীয় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি। সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে সায়েদাবাদ পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট। অনেকক্ষণ পর ২/৪টা বাস সামনে এগুলোই আবার দীর্ঘ সময় থেমে থাকে। কাদাময় রাস্তাঘাট আর পার্শ্বে বড় বড় গর্ত।
পূর্বাঞ্চলের ১৬টি জেলার সড়ক পথের যোগাযোগের মাধ্যম এসড়ক। দেশের সবচেয়ে জনবহুল জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানীতে সড়ক পথে যোগাযোগে এ রাস্তার কোনো বিকল্প নেই। এ অবস্থার কারণে চিটাগাং রোড থেকে সায়েদাবাদ আসতে প্রায়ই তিন-চার ঘণ্টা লেগে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করা, বিকল্প রাস্তা তৈরি না করা ও রাস্তা বন্ধ করে ফ্লাইওভারের কাজ করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া ফ্লাইওভারের কাজে ব্যবহৃত ভারী যানবাহন চলাচল ও ফ্লাইওভারের বড় বড় কংক্রীটের পাটাতন আনা-নেয়ায় রাস্তার ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণেও সড়কের এই বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী ও গুলিস্তান সড়কের দুরবস্থার জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকেও দোষারোপ করছেন। তারা বলেছেন, রাস্তার এ বেহাল দশা ও তীব্র যানজটের মধ্যেও পুলিশ সায়েদাবাদে রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার বাস পার্কিং করে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পার্কিং করা এসব গাড়িই সবচেয়ে বেশি ট্রাফিক জ্যাম তৈরি করছে।
যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিন নিজাম বলেন, চিটাগাং রোড থেকে সায়েদাবাদ আসতে ২০ মিনিট লাগলেও এখন কোনো দিনই দুই তিন ঘণ্টার কম লাগে না। কোনো কোনো দিন এক ঘণ্টায়ও একটি গাড়ি এক ইঞ্চিও নড়ে না। বেশি সময় লাগার কারণে পরিবহনকে দ্বিগুণ ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে যাত্রীদের। এটা দেখার কেউই নেই। সাইনবোর্ড থেকে গাজীপুরগামী যাত্রীবাহী বাস অনাবিল পরিবহনের যাত্রী শামসুন নাহার জানান, সাইনবোর্ড থেকে সায়েদাবাদ যেতে মাত্র ২০ মিনিট লাগার কথা কিন্তু বাসে বসে আছি প্রায় আড়াই ঘণ্টা। আমাদের এত কষ্ট আর দুর্ভোগে কারোর কি কিছু করার নেই।
ছালছাবিল পরিবহনের যাত্রী রোকনুজ্জামন জানান, সায়েদাবাদ থেকে যাত্রাবাড়ীর দূরত্ব এক কিলোমিটারের কম হলেও ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যামের কারণে যেতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগে। তাই অনেকেই গাড়িতে না উঠে বাধ্য হয়ে হেঁটে যান। কিন্তু পরিবার পরিজন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বসে থাকতে হয় অনেককে।
এদিকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় যানজটের কারণে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার কয়েক লাখ বাস যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এখানের যাত্রীবাহী বাস যানজটের কারণে লিংক রোড দিয়ে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অনেককে পোস্তগোলা হয়ে আসতে হয়। এতে করে একদিকে যেমন সময় বেশি লাগছে, অন্য দিকে লিংক রোডের আশপাশের এলাকার মানুষদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে। তাদের বাস না পেয়ে দীর্ঘ সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
সেতু পরিবহনের একজন কর্মকর্তা জানান, যানজটের কারণে আমরা যেমন যাত্রী নিতে পারি না। তেমনি একটি বাস গুলিস্তান থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে তা কখন গিয়ে পৌঁছবে তা বলা মুশকিল। এতে করে নারায়ণগঞ্জের পরিবহন মালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

