Quantcast
ঢাকা, রোববার 26 August 2012, ১১ ভাদ্র ১৪১৯, ৭ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৬৮ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

সরকারের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ

বিশ্ব ব্যাংকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে কেন এখন তাদের কাছে মাফ চাইছেন

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য পেশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বর্তমান সরকারকে বেহায়া উল্লেখ করে বলেছেন, এ সরকারের লজ্জা বলতে কিছুই নেই। প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যরা এতদিন বিশ্ব ব্যাংকের বিরুদ্ধে এমনভাবে বিষোদগার করেছে পারলে তাদের দেশ থেকে বের করে দেয়। এখন আবার ঋণের জন্য তাদের পায়ে ধরা বাকি আছে। এরা যে কতটা নিচু মানের সরকার তা বিশ্বের কাছে আবারো প্রকাশ করলো। তিনি জানতে চান বিশ্ব ব্যাংকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে কেন এখন তাদের কাছে মাফ চাইছেন? কেন আবারো তাদের কাছে ভিক্ষা চাইছেন? এর দ্বারা প্রমাণ করে বর্তমান সরকার একটি অদক্ষ ও দুর্নীতিপরায়ণ সরকার। এদের আর বেশী দিন ক্ষমতায় রাখা যাবে না। তাই আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। গতকাল শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত ‘চলমান সংকট নিরসনে সরকারের ভূমিকা ও জনগণের প্রত্যাশা' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহর সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমীন, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি এমএম মেহবুব রহমান, কামরুজ্জমান সেলিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা নয়, বিএনপি এখন সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার কর্মসূচির কথা ভাবছে। তিনি বলেন, রূপরেখার কথা বলে আন্দোলন অন্যদিকে নিয়ে যেতে চাই না। তাই এমন কৌশল অবলম্বন করা হবে যাতে ক্ষমতাসীনদের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে বাধ্য করা যায়। সরকারকে সংকট প্রিয় আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এদেরকে সংকট সর্বস্ব সরকার নাকি সংকট প্রিয় সরকার বলব তা বুঝতে পারছিনা। এ সরকার নিজ ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে একের পর এক সংকট তৈরি করে চলেছে। তারা চাইছে এসব করে জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নিতে। কিন্তু তাদের এই ভাবা ভুল হবে যে মানুষ কিছুই বুঝেনা। তারা সব পুঞ্জীভূত সংকটের ক্ষোভ আগামী নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে দেবে।

এ সরকার যতো দিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা যাবে না মন্তব্য করে সাবেক এ আইনমন্ত্রী বলেন, তারা শেযারবাজার হতে ৮৬ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। খালেদ ইব্রাহীমের তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে শেয়ারবাজারে সঙ্কট হয়ত কাটানো যেতো।  তিনি বলেন, আইন-শৃংখলার যে পরিস্থিতি তাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৫০ বার পদত্যাগ করা দরকার ছিলো। তাদের অব্যবস্থাপনার জন্যই এ সংকট। সরকার এখন পর্যন্ত সাগর-রুনি, সোদি দূতাবাসের কর্মকর্তা হত্যার সাথে জড়িত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করছে। আমাদের সভা সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, দেশের বিচার বিভাগ, দুদক, নির্বাচন কমিশন সহ এমন কোন সেক্টর নেই যাকে দলীয়করণ করা হয়নি। দুদক বনে বসে সরকারি দলকে হোয়াইট সার্টিফিকেট দিচ্ছে। আর বিরোধী দলকে হয়রানি করছে।  তিনি আরও বলেন, চলমান আন্দোলন আরও বেগবান হবে। সরকার পরিবর্তন হবে নির্বাচনের মাধ্যমে। সরকার জানে অবাধ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তাদের পরাজয় বরণ করতে হবে।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, এই সরকার কারা চালাচ্ছে তা নিয়ে ইতোমধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তারা তেজগাও থানায় দায়ের করা একটি মামলায় আমাদের ৩৩ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে দীর্ঘদিন জেল খাটিয়েছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এই কোর্টের এখতিয়ারই নেই আদালত পরিচালনা করার। কোন রকম গেজেট প্রকাশ ছাড়াই আদালত চলছে। এরপরও দেশে কোনো সরকার আছে বলব? তিনি বলেন, তাহলে এতদিন এসব আদালতে যাদের সাজা দেয়া হয়েছে তার দায় দায়িত্ব কে নেবে? এই আদালত যা করেছে সবই অন্যায় করেছে। অন্য কোন দেশ হলে সরকার ও আদালতের বিরুদ্ধে মামলা করতো।

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন,আমরা আশা করি সরকার সংকট নিরসন করবে। কিন্তু তারা তা না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ। তিনি বলেন, আসন সংখ্যার বিচারে আমরা কম হতে পারি। কিন্তু আমাদের সংসদে কথা বলতে দেওয়া হয় না। তাই গত সাড়ে তিন বছরে আমরা সংসদে যোগ দিতে পারিনি। এ সময় স্পিকারের বিরুদ্ধে দলীয় আচরণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, যারা বিএনপিকে বাদ দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের চিন্তা করছে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে উদ্দেশ্য করে ফারুক বলেন, আপনি হচ্ছেন করুণার মন্ত্রী। আবারও দফতর পেতে যেসব কথা বলছেন তা বন্ধ করুন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে উদ্দেশ্য করে ফারুক বলেন, আপনিও মুখ বন্ধ করুন। নইলে ভবিষ্যতে যে ক্ষয়ক্ষতি হবে তা তার দায় দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে।