Quantcast
ঢাকা, রোববার 26 August 2012, ১১ ভাদ্র ১৪১৯, ৭ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২৯৫ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

সারা দেশে ডাক্তারদের দু'ঘণ্টার কর্মবিরতি

চুরিতে বাধা দেয়ার কারণেই খুন করা হয় ডা. নিতাইকে

স্টাফ রিপোর্টার : চুরিতে বাধা দেয়ার কারণে হাত-পা বেঁধে খুন করা হয় মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত নিতাইকে। এরপর অবস্থা বেগতিক দেখেই কোন মালামাল টাকা-পয়সা নেয়া ছাড়াই চোরের দল যে পথে প্রবেশ করেছিল সে পথেই পালিয়ে যায়। ডা. নারায়ণকে একজন ছুরিকাঘাত করে খুন করলেও চোরের দলে ছিল ৭ জন। তাদের মধ্যে ৪ জন দোতলায় উঠে আর বাকী ৩ জন বাসার নীচে দাঁড়িয়ে থাকে। এই চোরের দলের নেতৃত্ব দেয় জনৈক মিন্টু। তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকেলে মিন্টো রোডস্থ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব জানায় গ্রেফতারকৃত চারজন। তারা হচ্ছে- পেদা মাসুম (২৫), সাইদুল (৩৭), পিচ্চি কালাম (২৬) ও ফয়সাল (৩০)। গত শুক্রবার গোটা দিনভর রাজধানীর মহাখালী ও কামরাঙ্গীর চরে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। গতকাল তাদেরকে প্রেস ব্রিফিংয়ে হাজির করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনারের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ডিবি দক্ষিণ মনিরুল ইসলাম, উত্তরের মোল্লা নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গত ২২ আগস্ট বুধবার ভোর রাতে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের ডক্টরস কোয়ার্টারের ডুপ্লেক্স বাড়িতে নৃশংসভাবে খুন হন ডা. নিতাই (৪৮)। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে। তিনি আওয়ামী লীগপন্থী ডাক্তারদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। ডা. নিতাই খুন হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ থানা পুলিশ ঘটনাটিকে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা হিসেবে বলে আসলেও তার পরিবারের পক্ষ হতে এটাকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় বনানী থানায় ডা. নিতাইর পিতা তরিৎ কান্তি যে মামলাটি (নং-৩০) দায়ের করেছেন তাতেও চুরির ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গতকাল ঘটনার সাথে জড়িত হিসেবে যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারাও ঘটনাটিকে চুরি হিসেবে দাবি করেন। ডিবি পুলিশও একই দাবি করে আসছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনারের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম জানান, ডা. নিতাই খুনের মামলাটি চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ বিধায় থানা পুলিশের সাথে ডিবি পুলিশও ছায়া তদন্তে নামে। এর মধ্যেই মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর হলে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ইন্সপেক্টর আতাউরকে নিয়োগ করা হয়। ডিবি পুলিশের (উত্তর) একাধিক টিম অভিযানে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার দিন ও রাতে মহাখালী ও কামরাঙ্গীর চরে অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত হতে খুনের কাজে ব্যবহৃত ২টি স্টিলের রক্তমাখা ছোরা, একটি লোহার চাপাতি, গ্রীল ভাঙ্গার দু'টি শাবল, তাদের ব্যবহৃত দু'জোড়া স্যান্ডেল, একটি রক্তমাখা লুঙ্গি, একটি রক্তমাখা তোয়ালে, একটি রক্তমাখা সেন্ডো গেঞ্জি ও চুরিকৃত ৪ জোড়া হাতের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিসি ডিবি মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা ডা. নিতাইর বাসায় চুরির উদ্দেশে প্রবেশ করে। এ সময় ডা. নিতাই তাদেরকে বাধা দেয়। এতে তারা তাকে খুন করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আতাউর জানান, গ্রেফতার কৃত চারজনকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ রোববার তাদেরকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে সিএমএম আদালতে পাঠানো হবে। রিমান্ড মঞ্জুরের পর তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাদের সাথে জড়িত অন্যান্যদেরও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

গ্রেফতারকৃত চারজন প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, ডা. নিতাইর বাসায় চুরির জন্য জনৈক মিন্টুর পরিকল্পনায় তারা ৭ জন এ কাজে অংশ নেয় গত বুধবার মধ্যরাত থেকে। তাদের মধ্যে মিন্টু, ফয়সাল, পিচ্চি কালাম ও কামাল গ্রিল বেয়ে ডুপ্লেক্স বাড়ির দোতলায় উঠে। নীচে দাঁড়ানো ছিল সাইদুলসহ তিনজন। ফয়সাল গাউছিয়া মার্কেটে চাকরি করে। টাকার অভাবেই তারা এই চুরির কাজে অংশ নেয়।

তারা জানায়, দোতলা বেয়ে উঠার পর গ্রিল ভেঙ্গে ডা. নিতাইর রুমে ঢোকার পর তিনি টের পেয়ে যান। এ সময় তারা চারজন ছোরা, চাকু দেখিয়ে ডা. নিতাইকে হাত-পা বেঁধে খাটের ওপর ফেলে রাখে। এরপর চিৎকার শুরু করলে তার মুখে কাপড় ঢুকিয়ে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করা হয়। ফয়সাল ছুরিকাঘাত করে ডা. নিতাইকে বিছানার ওপর ফেলে রাখে। বাকীরা আলমারী ভেঙ্গে স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়। ডা. নিতাইর গোঙ্গানির শব্দে তার মা দোতলায় এসে রুমের দরজায় কড়া নাড়া এবং নিতাই নিতাই বলে ডাকাডাকি শুরু করলে চোরের দল মালামাল ফেলেই ভাঙ্গা গ্রিলের ফোকর দিয়ে নীচে নেমে পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতরা ডা. নিতাইর বাসা থেকে কোন টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ও মালামাল না নিয়ে যাওয়ার দাবি করলেও তার পিতা তরিৎ দত্ত থানায় ৪০ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা মামলার এজাহারে উল্লেখ করে। গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়েও ৪ জোড়া চুরিকৃত চুড়ি উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ দাবি করে। এ দাবির সাথে একমত ছিল না গ্রেফতারকৃত ৪ জন। তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের অনেক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যায়। তারা পুলিশ কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত ও ইশারা মোতাবেক প্রশ্নের জবাব দেয়।

এদিকে ডা. নিতাইর খুনীদের গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি ও খুনের নিন্দায় গতকাল সারা দেশে দু'ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করে ডাক্তাররা। তারা আজো দু'ঘণ্টার কর্মবিরতি একই দাবিতে পালন করবে।