Quantcast
ঢাকা, রোববার 26 August 2012, ১১ ভাদ্র ১৪১৯, ৭ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১১৫ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

হিমায়িত খাদ্য রফতানি এক মাসে কমেছে ৮২ কোটি টাকা

এইচ এম আকতার : চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম মাস শেষে হিমায়িত খাদ্যের রফতানি কমেছে ৮২ কোটি টাকা। জুলাই মাসে হিমায়িত খাদ্যের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৮ মিলিয়ন ডলার বা ৪৭৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে রফতানি হয়েছে ৪৮ মিলিয়ন ডলার বা ৩৯৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে হিমায়িত খাদ্যের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০০ মিলিয়ন ডলার বা পাঁচ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক মাসে রফতানি করেছে ১৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। 

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, গত ২০১১-১২ অর্থবছরের একই সময়ে হিমায়িত খাদ্যের রফতানি হয়েছে ৪৯৫ কোটি টাকা। আর ২০১১ সালের জুলাই মাসে রফতানি হয়েছিল ৫৯ মিলিয়ন ডলার বা ৪৮৩ কোটি টাকা। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে ২০১২ সালের জুলাই মাসে হিমায়িত খাদ্যের রফতানি কমেছে ১৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। এছাড়া ২০১১-১২ অর্থবছরে হিমায়িত খাদ্যের রফতানির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৯০২ কোটি টাকা কম হয়েছে। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) ইউরোপীয় ইউনিয়নের চলমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে হিমায়িত খাদ্যের রফতানি কমছে বলে জানিয়েছে। বিএফএফইএ সভাপতি কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, গত দুই বছরে পর পর হিমায়িত খাদ্যের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। এবারও বছরের শুরুতে রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসাবে তিনি উল্লেখ করেন ইউরোপীয় ইউননিয়নের অর্থনৈতিক মন্দার। এছাড়া বিশ্ব বাজারে দেশী প্রজাতির চিংড়ির চাহিদা কমে যাওয়ায় রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বছরও আগের তুলনায় কম রফতানি হওয়ার আশংকা রয়েছে।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে ১৬ থেকে ২০ সাইজের চিংড়ি বেশি আমদানি করত, যেগুলোর দাম পড়ে সাড়ে ৫ থেকে ৬ ডলার পর্যন্ত। কিন্তু এখন ইউরোপীয় দেশগুলোর মন্দার কারণে তারা ছোট আকারের চিংড়ির প্রতি ঝুঁকছে। যেগুলোর দাম সাড়ে তিন থেকে ৪ ডলার, যা আমাদের দেশে সবচেয়ে কম উৎপাদিত হয়। ভ্যানামী জাতের ছোট আকারের এই সব চিংড়ি ভিয়েতনাম থেকে ইউরোপীয় দেশীগুলো ক্রয় করছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ প্রজাতির চিংড়ি চাষের অনুমোদন না থাকায় গলদা ও বাগদা চিংড়ি বিশ্ব বাজারে রফতানি করতে হচ্ছে। আমাদের দেশীয় বড় আকারের চিংড়ি এখন তিন বা চার ডলারে রফতানি করলে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ লোকসান গুনতে হবে, যা দেশের রফতানি আয়ে বিপর্যয় ডেকে আনবে।

বিএফএফইএ সূত্রে জানা গেছে, দেশের হিমায়িত খাদ্যের রফতানির বিপর্যয় কাটাতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান এ সেক্টরের উন্নয়নে নয়টি সুপারিশ দিয়েছেন। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে, হিমায়িত চিংড়ি রফতানি ঋণের ৩০ শতাংশ ব্লক একাউন্টে রাখার সুবিধা ২০১৩ সালে শেষ হচ্ছে। এই নীতিমালা ২০১৮ সালের জন্য পুনঃতফসীল করা এবং ২০১৪ সাল থেকে তা কার্যকর করার সুপারিশ জানানো হয়েছে। সরকার হিমায়িত খাদ্যে ১০ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। কিন্তু ইনভয়েস মূল্যের পরিবর্তে ট্যারিফ মূল্যের ভিত্তিতে প্রণোদনা দেয়ায় প্রকৃত প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রফতানিকারকরা। ট্যারিফ ভ্যালুর পরিবর্তে ইনভয়েস ভ্যালুর ভিত্তিতে প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রণোদনার হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সুপারিশে আরো বলা হয়েছে, হিমায়িত খাদ্য রফতানিকারকদের ব্যাংক থেকে প্রণোদনা পেতে ৫ থেকে ৬ মাস সময় লাগে। এ সময়সীমা কমানোর সুপারিশ জানানো হয়েছে। প্রণোদনা প্রদানের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিরীক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। এজন্য রফতানিকারকদের অতিরিক্ত ফি প্রদান করতে হয়। নিরীক্ষণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে নির্ধারিত ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত অডিট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষণ করানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করে বিএফএফইএ। সেখানে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয় বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দায় হিমায়িত খাদ্য ও চিংড়ি রফতানি গত কয়েক বছর ধরে ক্রমাগতভাবে কমেছে। ২০০৮-০৯, ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে বিশ্ব বাজারে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চিংড়ি খাতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এ সময় এ শিল্পের উদ্যোক্তাগণ ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সরকার এই বিনিয়োগের বিপরীতে ১১ শতাংশ সুদ প্রদান করে। কিন্তু তাতেও ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব হয়নি। এক্ষেত্রে সরকারের নগদ অর্থের প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোকে দীর্ঘ মেয়াদী পুনর্বাসনে ৪২৫ কোটি টাকা ক্ষতি পূরণ প্রদানে দাবি জানানো হয়।