|
|
এখনো শুরু হয়নি বাড়ি ভাড়া \ ফ্লাইট খালি যাওয়ার আশঙ্কা
মিয়া হোসেন : হজ্জ ফ্লাইটের সময় ঘনিয়ে আসলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়ি ভাড়া শুরু করতে পারেনি এজেন্সিগুলো। বাড়ি ভাড়ার টাকা সৌদি আরবে পাঠাতে না পারার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন না হলে ফ্লাইট খালি যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হজ্জযাত্রীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, হজ্জযাত্রীদের বাড়ি ভাড়ার টাকা পাঠাতে না পারায় মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়ার চুক্তি করতে সৌদি আরবে যেতে পারছে না হজ্জ এজেন্সির মালিকরা। বিমানের হজ্জ ফ্লাইটের আর মাত্র ১৯ দিন বাকি। যথাসময়ে মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া করা সম্ভব না হলে বিমানের হজ্জ ফ্লাইট খালি যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সুষ্ঠু হজ্জ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হবে।
এদিকে, হজ্জযাত্রীদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে সারাদেশে নীরব চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। হাব সভাপতি হাজী জামাল উদ্দিন আহমেদ দুমাস আগে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের সাথে তার দফতরে এক বৈঠকে হজ্জযাত্রীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন না করার প্রস্তাব উত্থাপন করলে পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে না বলে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। ঐ বৈঠকে হজ্জ অফিসার মোঃ বজলুল হক বিশ্বাসও উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে হাব কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রীয় ভূমিকার কারণে হজ্জ অফিসার বজলুল হক বিশ্বাস ১ লাখ ৯ হাজার বেসরকারি হজ্জযাত্রীর পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য সারাদেশে হজ্জযাত্রীদের তালিকা প্রেরণ করেন। যেসব হজ্জযাত্রী ১৫ দিন অথবা ১ মাস আগেও নতুন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন তাদেরও কেন পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে তা বোধগম্য নয় বলে মনে করছেন এক হজ্জ এজেন্সির মালিক। কুমিল্লা জেলার হোমনা থানায় হজ্জ এজেন্সি গ্রীণ এয়ার ইন্টারন্যাশনালের একজন হজ্জযাত্রীর পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে ১ হাজার টাকা করে বখশিস নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী হজ্জ এজেন্সির মালিকরা যথাসময়ে সৌদি আরবে হজ্জযাত্রীদের বাড়ি ভাড়ার রিয়াল পাঠাতে না পেরে হাব নেতৃবৃন্দের কাছে সহায়তা চেয়েও কোনো সাড়া পাচ্ছে না।
সূত্র আরো জানায়, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের চরম উদাসিনতা ও গাফলতির দরুণ প্রত্যেক হজ্জযাত্রীর ৭ হাজার সৌদী রিয়াল করে সৌদীতে প্রেরণ সম্ভব হয়ে উঠছে না। প্রতিদিন হজ্জ এজেন্সির মালিকরা সোনালী ব্যাংকে ধরণা দিয়েও হজ্জযাত্রীদের বাড়ি ভাড়ার কোটি কোটি টাকার রিয়াল সৌদি আরবে পাঠাতে পারছে না। সোনালী ব্যাংক বলছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার হাতে না পাওয়া পর্যন্ত হজ্জযাত্রীদের কোনো রিয়াল সৌদি আরবে পাঠানো যাবে না। মক্কা বাংলাদেশ হজ্জ মিশনের কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে নির্ধারিত ব্যাংকের ট্রাভেল চেকের মাধ্যমে সৌদি আরবে হজ্জযাত্রীদের যাবতীয় ব্যয়ের টাকা পাঠাতে হবে। এতে ব্যাংকের কার্যক্রম শেষে মক্কায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে বাড়ি ভাড়ার রিয়াল উত্তোলন করতে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় লাগবে। ফলে মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হবে। দীর্ঘ দুই মাস আগে হজ্জযাত্রীদের মোয়াল্লেম ফি জমা নিলেও সোনালী ব্যাংকের চরম উদাসিনতা ও গাফলতির দরুণ তা এখনো সৌদি আরবে পাঠানো হয়নি।
এ বিষয়ে হাব সভাপতি জামাল উদ্দিন আহমেদ দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, সৌদি আরবে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একাউন্টের সার্বিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এজেন্সির মালিকদেরকে ২৫-২৬ তারিখ থেকে বাড়ি ভাড়ার জন্য যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা সৌদী গিয়ে একাউন্ট খোলে রিয়াল সংগ্রহ করে বাড়ি ভাড়া করতে পারবে।
হাব মহাসচিব এম এ রশিদ শাহ সম্রাট দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, এজেন্সি মালিকরা সোনালী ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি না পাওয়ার কারণে সৌদীতে টাকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। যার কারণে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়ি ভাড়া শুরু করা যায়নি। পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হজ্জ্বযাত্রীদের হয়রানি করার বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন করার সিদ্ধান্ত ছিল না। কেন এখন তাদের হয়রানি করা হচ্ছে তাও বোধগম্য নয় বলে তিনি মনে করেন। তিনি পুলিশী হয়রানি থেকে হজ্জ্বযাত্রীদের রেহাই দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

