Quantcast
ঢাকা, বুধবার 29 August 2012, ১৪ ভাদ্র ১৪১৯, ১০ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৪২ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

১৮ দলীয় জোটের সাংবাদিক সম্মেলনে মির্জা ফখরুল

সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও একগুয়েমীর কারণে রাজনীতি বিপজ্জনক দিকে মোড় নিচ্ছে

গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

তত্ত্বাবধায়কসহ বিভিন্ন দাবিতে দেড় মাসের কর্মসূচি ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার : বর্তমান আওয়ামী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থতা, অযোগ্যতা এবং একগুয়েমীর কারণে বাংলাদেশের রাজনীতি বিপজ্জনক দিকে মোড় নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তারা জানে জনগণ আর তাদের সাথে নেই। তারা এখন সংবিধান পরিবর্তন করে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে আবারো ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখছে। তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, সরকার যেভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে দেশকে ক্রমান্বয়ে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাতে সব দায় দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।  গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৮ দলীয় জোটের সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি জোটের পক্ষ থেকে দাবি আদায়ে দেড় মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা মহানগর নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপি সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নীলু, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ন্যাপ'র চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, মুসলিম লীগের সভাপতি এ এইচ এম কামারুজ্জামান খান, পিপলস লীগের সভাপতি গরীব নেওয়াজ, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর সময় থেকে আমরা দেশে সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলে আসছি। এখন সরকারের আচরণে সে আশঙ্কা আরো ঘনিভূত হচ্ছে। নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধীনে নির্বাচনে দাবি আজ শুধু বিএনপি বা জোটের নয়। এটি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, জনমতকে উপেক্ষা করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে সরকার গণতন্ত্রের লেবাসে স্বৈরাচারী কায়দায় ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু দেশের জনগণ তা হতে দেবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা দেয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জোটের এই মুখপাত্র বলেন, আমাদের প্রস্তাবতো ত্রয়োদশ সংশোধনীতে বলাই আছে। তবে নির্দলীয় সরকারের বিষয়টি মেনে নিলে প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা করতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু মন্ত্রী আর এমপি তার পদে বহাল থেকে নির্বাচন করবেন এমনটি ভাবলে সরকার ভুল করবে। এটি পৃথিবীর কোথাও নেই। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনীর আলোকে নির্দলীয় সরকার হতে হবে। এটাই আমাদের মূল দাবি।

বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনায় চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের একগুয়েমী, অযোগ্যতা ও সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কারণে দেশের রাজনীতি বিপজ্জনক অবস্থায় মোড় নিয়েছে বলে আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করছি। সরকার সুপরিকল্পিতভাবে অসৎ উদ্দেশে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে পারস্পরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষার লক্ষ্যে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন আনতে হবে।

সরকারের ‘দুর্নীতির' সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক তা বাতিল করেছে। এই দুর্নীতির সাথে প্রধানমন্ত্রী, তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যসহ দলীয় লোকজনই জড়িত। তিনি বলেন, এটা এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে, এই সরকার বিশ্ব দুর্নীতিবাজ। সোনালী ব্যাংক থেকে হলমার্ক নামের একটি অখ্যাত কোম্পানির মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রীরাই সোনালী ব্যাংকের পর্ষদের সদস্য। সোনালী ব্যাংকের পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন, আওয়ামী লীগ নেতা সুভাষ সিংহ রায়, সাইমুম সরওয়ার, দৈনিক সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাশেম হুমায়ূন, মহিলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাত আরা। ডেসটিনি গ্রুপের মাধ্যমেও ক্ষমতাসীন দলের লোকজন সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মুখপাত্র। পুঁজিবাজারেও ক্ষমতাসীনরা প্রায় এক লাখ কোটি টাকা ‘লুট' করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ফখরুল আরো বলেন, সরকার বিচার বিভাগ ও সংসদকে আজ মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। গতকাল (সোমবার) হাইকোর্টের একটি রায়ে এই সঙ্কট আরো ঘনীভূত হয়েছে। স্পিকার নিরাপদ অবস্থানে থাকলেও ক্ষমতাসীন সরকারের দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের বক্তব্য আক্রমণাত্মক। তিনি বলেন, এটা শুধু সরকারের ব্যর্থতা নয় বরং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পারস্পরিক সংঘাতের মধ্যে ঠেলে দেয়ার অসৎ উদ্দেশ্য। তারা দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্যেই এসব করছে। তিনি বলেন, এই সরকার বিডিআর হত্যাকান্ডের মাধ্যমে আমাদের সীমান্তকে অরক্ষিত করেছে। আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা চায় দেশ একটি পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হোক। এই সরকার দেশের অর্থনীতি, গার্মেন্টসখাত, পোল্ট্রিখাত সবকিছুকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। অভাবের তাড়নায় মা-বাবা তার সন্তানদের হত্যা করেছে। এই খবর আমাদের ১৯৭৪ সালের সেই দুর্ভিক্ষের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করছি। কিন্তু সরকার সেটিতে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে এখন গুম, হত্যা, হামলা মামলার পথ বেঁছে নিয়েছে। দেশের কোথাও আইনের শাসন নেই। অতীতে যারা যেভাবে বাকশাল কায়েম করেছিল সেই একইভাবে ভিন্ন কৌশলে বাকশাল কায়েম করতে চাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য জনশক্তি আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। মালয়েশিয়াসহ অনেক রাষ্ট্র জনশক্তি নিচ্ছে না। তিনি বলেন, এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক কোন অধিকার নেই। কোন সভ্য সরকার হলে দায় নিয়ে পদত্যাগ করত।

কঠোর কর্মসূচির কথা বলে বিক্ষোভ সমাবেশ, জনসভা ও গণসংযোগের মতো কর্মসূচি দেয়ার কারণ জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, যেকোনো আন্দোলন সফল করে জনগণ। তাই  জনগণের কষ্ট হোক এমন কর্মসূচি আমরা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। তবে সরকার দাবি না মানলে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, আপনারা ভালো করেই জানেন আন্দোলনের একটা পর্যায় আছে। যেকোনো আন্দোলনই একবারে হয় না। দাবি আদায়ে আমাদের কর্মসূচিও ধাপে ধাপে দেয়া হবে।

সরকারের বিরুদ্ধে সারা দেশে সংগ্রাম কমিটির কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, এ কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। অনেক জেলায় কমিটিও হয়েছে। স্পিকারের রুলিং বিষয়ে সোমবারের আদালতের রায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে সরকার বিচার বিভাগ ও সংসদকে মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

কর্মসূচি : নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে আগামী দুই মাসজুড়ে জনসভাসহ জনসংযোগে কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি  জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে জোটের এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কর্মসূচির মধ্যে সংবিধান সংশোধন করে নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ১৮ দলীয় জোট আগামী ৭ সেপ্টেম্বর হতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জোটের দেশব্যাপী গণসংযোগ, মহানগর, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে গণমিছিল ও জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই সকল গণমিছিল ও জনসভাতে অংশগ্রহণ করবেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর হতে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বিরোধী দলীয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে সকল মহানগর ও জেলা সদরে সভা করেননি সেই সকল মহানগর ও জেলা সদরে ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত জনসভাগুলোতে বক্তব্য রাখবেন এবং সারা দেশে গণসংযোগ করবেন। সারা দেশে সরকারের দলীয়করণ, সন্ত্রাস এবং অব্যবস্থাপনার কারণে বুয়েটসহ গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যে অচলাবস্থ ও সুপরিকল্পিতভাবে শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস করার চক্রান্তের প্রতিবাদে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীসহ সকল মহানগর সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পদ্মা সেতুসহ সকল ক্ষেত্রে সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির প্রতিবাদে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। চাল, ডাল, তেলসহ সকল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কেরোসিন, ডিজেল, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মহানগর, জেলা ও উপজেলা সদরে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ সমাবেশ।

বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী, সিলেট জেলা ছাত্রদল নেতা ইফতেখার দিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা শামীম হাসান সোহেল, শিবির নেতা মোকাদ্দেস ও ওয়ালিউল্লাহসহ সকল বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গুম, খুন ও নির্যাতনের প্রতিবাদে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর মহানগর, জেলা, উপজেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং বেগম খালেদা জিয়াসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, বিচারের নামে প্রহসন, গ্রেফতার ও হয়রানির প্রতিবাদে এবং গ্রেফতারকৃত সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে ১৮ দলের উদ্যোগে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর মহানগর, জেলা ও উপজেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচি শেষে আবার জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিরোধীদলীয় নেতা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানান মির্জা ফখরুল।