|
|
লাশ পদ্মায় নিক্ষেপ \ কাটা মাথা নিয়ে উল্লাস
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : সন্ত্রাসীদের গুলীতে নৌকায় পড়ে থাকা নিহত ভুট্ট'র মৃতদেহ দেখছে উৎসুক জনতা -সংগ্রাম
মাহমুদ শরীফ ও শেখ সাইদুল ইসলাম প্রবীন : কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সন্ত্রাসীরা গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয় কমপক্ষে ১০ জন। হত্যার পর চেয়ারম্যানের মাথাবিহীন লাশ ও অপর ২ জনকে পদ্মা নদীতে নিক্ষেপ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ-পাবনা খেয়া ঘাটের মাঝ নদীতে এই হত্যার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নৌকার মাঝি আবু হানিফ জানান, পাবনা থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে শিলাইদহ ঘাটের উদ্দশ্যে রওনা হই। নৌকাটি মাঝ নদীতে পৌঁছালে ৮/১০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ইঞ্জিন চালিত নৌকায় এসে আগ্নেয় ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে। সন্ত্রাসীরা প্রথমে ৮/১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলী ছোঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর-ইসলাম ও তার সঙ্গে থাকা আনছার, ভূট্টো ও অজ্ঞাত একজনকে গুলী করে। পরে তাদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতারীভাবে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হলে সন্ত্রাসীরা এ সময় চেয়ারম্যানের মাথা কেটে মস্তকবিহীন লাশ পদ্মা নদীতে নিক্ষেপের পরে মাথা নিয়ে উল্লাস করতে করতে চলে যায়। এ সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গী আনছার ও অপর একজনের লাশও পদ্মায় নিক্ষেপ করা হয়। অপর সঙ্গী ভুট্টোর ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকে নৌকাতে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, নিহতরা সবাই পাবনা আদালতে একটি অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিয়ে ফিরে আসছিল।
এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলীতে নৌকার ১০ জন যাত্রী কমবেশি আহত হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পদ্মায় নিক্ষেপ করা চেয়ারম্যান ও দুই সঙ্গীর মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর পর স্থানীয় পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের ঘটনাস্থলে দেখা গেলেও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাউকেই দেখা যায়নি। তবে জেলা প্রশাসক বনমালী ভৌমিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনসাধারণকে বলেন এটি নিছক একটি ঘটনা। পূর্বে এই জেলাতে চরমপন্থিদের হাতে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। কিন্তু বিগত এক বছরে চরমপন্থিদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করে বলেন, পূর্বের যে কোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে আইন শৃক্মখলা পরিস্থিতি অনেক ভাল। এদিকে কুষ্টিয়াতে গত ৮ মাসে বিভিন্নভাবে ৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

