Quantcast
ঢাকা, বুধবার 29 August 2012, ১৪ ভাদ্র ১৪১৯, ১০ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৬৭ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

আন্দোলনরত মেডিকেলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ

কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নয় ভর্তি বাণিজ্যকে প্রসারিত করবে

আজ মুখে কালো কাপড় বেঁধে টিএসসিতে অবস্থান ধর্মঘট

স্টাফ রিপোর্টার : কোচিং বাণিজ্য ঠেকাতে সরকার এবারের মেডিকেলে ভর্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেও তা কোচিং বাণিজ্য বন্ধ না করে বরং ভর্তি বাণিজ্যকে প্রসারিত করবে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। জিপিএ-এর ভিত্তিতে ভর্তি হলে দরিদ্র মেধাবীরা এখন থেকে সরকারি মেডিকেলেও পড়তে পারবে না বলেও তাদের অভিমত। মেধা নয় টাকা আর ক্ষমতা হয়ে উঠতে পারে মেডিকেলে ভর্তির অন্যতম মাপকাঠি।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঈদের পর দিতীয় দিনের মতো আন্দোলনে নামে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা এসব কথা বলেন। সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী মঞ্চ' ব্যানারে মানববন্ধন ও পরে বিক্ষোভ মিছিল করে। জিপিএ'র ভিত্তিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে অভিভাবকরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। বেলা পৌনে ১টার দিকে সংহতি সমাবেশ শেষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা। আজ বুধবার সকাল ১০টায় মুখে কালো কাপড় বেঁধে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান ধর্মঘট আহবান করেছে তারা।

ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিলের প্রতিবাদে মানববন্ধনে মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সাথে মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি কেন? এক দফা এক দাবি, ভর্তি পরীক্ষা কবে দিবি, বুয়েট ও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরীক্ষা নিতে পারলে স্বাস্থ্য অধিদফতর কেন পারবে না- এমন সব লেখার প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়ায় শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, তারা নিজেদের যুক্তিসঙ্গত দাবি আদায়ের জন্য পড়ার টেবিল ছেড়ে রাজপথে এসেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের পক্ষে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কথায় সামঞ্জস্যতা নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক বলছে, পরীক্ষা নেয়া ঝামেলাপূর্ণ, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কোচিং সেন্টারের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে এটি করা হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মেধাকে প্রকৃত মূল্যায়ন করতেই এটা করা হয়েছে।

গত সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে না দেয়ায় সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। সেদিন তাদের কয়েকজনকে পুলিশ লাঠিপেটায় আহত করে। বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে গত সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয় তারা। এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়। এছাড়া গতকাল কর্মসূচি পালনকালে চট্টগ্রামে আন্দোলনরতদের ওপর লাঠিচার্জ ও গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ করেন তারা।

মানববন্ধনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী তন্ময় সাহা বলেন, মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তির জন্য পরীক্ষায় অংশ নেয়ার দাবি ন্যায়সঙ্গত। সে দাবি পূরণে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেরও অধিকার রয়েছে আমাদের। কিন্তু পুলিশ গতকাল কর্মসূচিতে বাধা দেয়া ছাড়াও আমাদের ৯ জনকে আটক করে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন না চালিয়ে তাদের দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী তানভির সোহেল বলেন, বুয়েটসহ দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিতে পারলে মেডিকেলে কেন পরীক্ষা নিতে পারবে না? ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করতে হলে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু সরকার তা না করে শুধু মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করার পেছনে ভর্তি বাণিজ্য ছাড়াও আরো কোনো উদ্দেশ্য আছে। জিপিএ'র ভিত্তিতে ভর্তি হলে অর্থ বার্ণিজ্য হতে পারে বলেও আশঙ্কা ব্যক্ত করেন তিনি।

ছাত্ররা আরো বলেন, সরকার যদি কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তাহলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেন এর শিকার হবো। শিক্ষার্থীরা বলেন, যেখানে এর সঙ্গে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর স্বপ্ন ও জীবন জড়িত সেখানে সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই এটা বাস্তাবায়ন হঠকারী সিদ্ধান্ত। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও অভিভাবক শ্যামলী।

তিনি বলেন, সরকার হঠাৎ করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় তা হঠকারী সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে শিক্ষার্থীদের সময় দেয়া উচিত ছিল। তাই অবিলম্বে জিপিএ'র ভিত্তিতে মেডিকেল ও ডেন্টালে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হোক।

হুমায়রা পারভীন নামে এক অভিভাবক বলেন, সরকারের এটি একটি হটকারি সিদ্ধান্ত। ছেলেমেয়েরা মেডিকেলে ভর্তির জন্য পরীক্ষার আগে তিন/চার মাস যে পরিমাণ পড়াশোনা করে তাতে তাদের মেধার অনেক উন্নয়ন ঘটে থাকে। যা দেশেরও কাজে লাগে। জিপিএ'র ভিত্তিতে ভর্তি হলে সে সুযোগ থাকবে না।

আরিফা জামান নামে এক অভিভাবক বলেন, জিপিএ'র ভিত্তিতে ভর্তির নিয়ম হলে দরিদ্ররা ভর্তির সুযোগ পাবে না। দুর্নীতি ও টাকা দিয়ে ধনি ও ক্ষমতাসীনরা ভর্তির সুযোগ পাবে।

বিলকিস ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে এবার দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেবে। সরকারি এ সিদ্ধান্তের পর সে পড়া ছেড়ে দিয়েছে। পরীক্ষা হলে অন্তত তারা চান্স না পেলেও মনে তৃপ্তি থাকে যে, অন্তত মেধা যাচাই করে বাদ পড়েছে।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভর্তি নিয়ে ব্যবসার দুরভিসন্ধি চলবে না। ভর্তি ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানায় সংগঠনটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এইচএসসি পরীক্ষার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা মেডিকেলে ভর্তিকোচিং করেছে, অর্থ ব্যয় করেছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া নতুন ভর্তি পদ্ধতি চালু করে শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ ও বদলি নিয়ে দুর্নীতি এবং সরকারি হাসপাতালে অনিয়ম, চুরি, দুর্নীতির অভিযোগ করে ছাত্র ফেডারেশন। ভর্তির নতুন পদ্ধতি আরো ব্যাপক দুর্নীতির সুযোগ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সংগঠনটি। সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধে আন্তরিক হলে ফলাফল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বুয়েট ভিসিকে অপসারণ করা হয়নি কেন সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

মানববন্ধন শেষে প্রেস ক্লাবের সামনে একটি মিছিল বের হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে আবার প্রেস ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে সংহতি সমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা। আজ বুধবার সকাল ১০টায় মুখে কালো কাপড় বেঁধে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করবে তারা।

গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে, চলতি বছর থেকে ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের জিপিএ'র ভিত্তিতেই এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ভর্তির সিদ্ধান্ত হয়। এরপর থেকে মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।

এদিকে, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জিপিএ-৫ পাওয়া অনেকটা ডালভাতের মতো অবস্থা হয়ে গেছে। প্রতিবছর জিপিএ-৫ পাওয়ার রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। সরকার পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার হার বাড়ানোর পরিকলল্পনার অংশ হিসেবে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা শিক্ষকদের খাতা দেখার আগেই নম্বর বাড়িয়ে দিতে বলেন বলে শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়। এ কারণে অনেক কম মেধাবীরাও জিপিএ-৫ পেয়ে যাচ্ছে। ফলে মেডিকেলে জিপিএ'র ভিত্তিতে ভর্তি হলে তাতে মেধার সঠিক মূল্যায়ন হবে না।