|
|
বাংলাদেশের জনশক্তি নেয়া বন্ধ
আব্দুল্লাহ আল শাহীন, দুবাই থেকে : বাংলাদেশের রেমিটেন্সের সিংহ ভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে প্রবাসী শ্রমিকের আয় থেকে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, বাহরাইন ও কুয়েতে বাংলাদশী শ্রমিক রয়েছে সবচেয়ে বেশি, সৌদি আরব সরকার অনেক আগে থেকে বাংলাদেশী শ্রমিক নেয়া থেকে বিরত রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন আইন করার ফলে বাংলাদেশের শ্রমিকরা অনেক সমস্যার মধ্যে রয়েছে এবং অনেককে দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজারের যখন এরকম অবস্থার সৃষ্টি হলো তখন বাংলাদেশী শ্রমিক আমিরাতের দিকে আসা শুরু করেছিল যার ফলে বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকের প্রায় ২০ ভাগই আমিরাতে রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ করে গত দুই সপ্তাহ থেকে আমিরাতেও বাংলাদেশী নতুন শ্রমিক নেয়া এবং নবায়ন বন্ধ করে দিয়েছে।
এ কারণে আমিরাতে অবস্থিত প্রায় বৈধ ১৮ লাখ বাংলাদেশীর মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে এবং পাশাপাশি ১৮ লাখ প্রবাসীর পরিবারে নেমে এসেছে হতাশা। শুধু এই পরিবার নয় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে তার প্রভাব পরবে তা বলার বাকি থাকে না ।
কি কারণে ভিসা বন্ধ ও নবায়ন করা বন্ধ রেখেছে তা পুরোপুরি জানা যায়নি, তবে গুজব রয়েছে মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমকে বাংলাদেশ আশ্রয় না দেয়ায় ভিসা বন্ধ রয়েছে, আমিরাতে অবস্থিত অবৈধ বাংলাদেশীদের সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়ায়, অবৈধ এই শ্রমিক বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়ায়, বা বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে ইসলামী ব্যক্তিত্বকে জেল জুলুমের কারণে বিশেষ করে উপমহাদেশের প্রভাবশালী ব্যক্তি অধ্যাপক গোলাম আযমের গ্রেফতারের কারণে ভিসা ও নবায়ন বন্ধ রয়েছে।
যে কারণেই বন্ধ হউক না কেন অতি তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধান চাই আমরা আমিরাত প্রবাসী বাংলাদেশীরা। এই সমস্যা যদিও এখন আমিরাতে কিন্তু এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে পড়বে না তা বলা যায় না। গত এক মাসে বাংলাদেশ থেকে নতুন ভিসা নিয়ে প্রায় ৩৬ হাজার বাংলাদেশী আমিরাতে এসেছে তাদের ভিসা লাগছে না ফলে তাদের যে কোম্পানি এনেছে সে কোম্পানি এবং নতুন এই শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছেন। আমিরাতের এই ভিসা বন্ধ ও নবায়ন না করার সিদ্ধান্তের কারণে ম্যান পাওয়ার ব্যবসায়ী, ভিসা প্রার্থী এবং প্রবাসে অবস্থানরত লাখ লাখ বাংলাদেশীরা হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে বিরাট অঙ্কের দিরহাম দিয়ে ভিসার আবেদন করেছেন তাদের টাকা ফিরে পাবে কি না এখনো জানে না।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সরকার ও শ্রম কল্যাণ মন্ত্রণালয় কি ব্যবস্থা নেয় সে দিকে তাকিয়ে আছেন প্রবাসীরা। এই মুহূর্তে যদি বাংলাদেশ সরকার, দূতাবাস এবং কন্সুলেট জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নেয় তা হলে পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে যায় তা বলা যায় না। এই বিষয়কে যদি সরকার হালকাভাবে দেখে তাহলে বাংলাদেশে বড় বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই অতি তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সুরাহা করার জন্য আমিরাত সরকারের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যোগাযোগ করতে হবে। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমিরাতের সরকারের সাথে বৈঠক করে এর সমাধান করেত হবে। শুধু ভিসা চালু বা নবায়ন নয় পাশাপাশি এই ভিসা নবায়ন না হওয়ার ফলে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় যে অর্থদন্ড হবে তা যেন না হয় সে বিষয়েও আমিরাতের সাথে আলোচনা করতে হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বার্থে, ১৮ লাখ প্রবাসীর স্বার্থে, তাদের পরিবার ও পরিজনের স্বার্থে অল্পদিনের মধ্যে বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে আমিরাত আসতে হবে, এসে নতুন ভিসা ও নবায়নের সমস্যাসহ সকল সমস্যার সমাধানের পথ বের করতে হবে।

