Quantcast
ঢাকা, বুধবার 29 August 2012, ১৪ ভাদ্র ১৪১৯, ১০ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৫৮ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

টিপাইমুখ নিয়ে বাংলাদেশকে নথি দিল ভারত ঢাকার স্বার্থ বিপন্ন হয় এমন কোনো পদক্ষেপ করবে না নয়াদিল্লী

রাজ্যশ্রী বকসী, কলকাতা : নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে ঢাকাকে জানিয়ে দেয়া হল, বাংলাদেশ চাইলে তারাও এই টিপাইমুখ পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পে যৌথ অংশীদারিত্বে লগ্নি করতে পারে। বরাক নদীর ওপর টিপাইমুখ পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের মনে যাতে ‘সংশয়-সন্দেহ' না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সোমবার এই পদক্ষেপ নিল নয়াদিল্লী। সোমবার দু'দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের অধীনে টিপাইমুখ সংক্রান্ত বৈঠকে এই প্রকল্প সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ঢাকার হাতে তুলে দেয়া হল। দেয়া হল ৬ খন্ডের বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট বা ডিপিআর।

টিপাইমুখ পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। গত অক্টোবর মাসে বিষয়টি আরো উচ্চগ্রামে ওঠে যখন এই প্রকল্পের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ সংস্থা তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে মণিপুর সরকার, জাতীয় পানিবিদ্যুৎ শক্তি সংস্থা বা এনএইচপিসি এবং শতদ্রু পানিবিদ্যুৎ নিগম একটি ‘প্রোমোটারস এগ্রিমেন্ট' সই করে। তখন এই বার্তাই ঢাকায় যায় যে, ঢাকার আপত্তি সত্ত্বেও টিপাইমুখ প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লী। এর ফলে পানির সংকট হবে বাংলাদেশে।

টিপাইমুখ সম্পর্কে যে তথ্য বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, প্রতি বছরের ন্যায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভারত এবং বাংলাদেশ উভয়পক্ষই। টিপাইমুখ প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত বাঁধ নির্মাণ হলে সেই বন্যার পানি আটকানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি এই প্রকল্পের ফলে যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে, তা যেমন ভারত নেবে তেমনই পাবে বাংলাদেশও। গত বছরই এই প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, টিপাইমুখ প্রকল্প নিয়ে ঢাকার সঙ্গে সব রকম আলোচনা করতে কেন্দ্র প্রস্তুত। অন্যদিকে দিল্লী ধারাবাহিকভাবে জানিয়েছে যে, ঢাকার স্বার্থ বিপন্ন হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে না।

সোমবারের বৈঠকেও বাংলাদেশকে বলা হয়েছে, মনমোহন সরকার এমন কিছু করতে চাইছে না যাতে হাসিনা সরকার বিপদে পড়ে। ভারত-বাংলাদেশের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের যে অগ্রগতি হাসিনা আসার পর হয়েছে, তা কোনো কারণে বাধাগ্রস্ত হোক, এটা দিল্লী মোটেও চায় না।

সরকারের এক কর্তার বক্তব্য, ‘‘২০০৯ সালে বাংলাদেশের একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দলকে আমরা টিপাইমুখের প্রস্তাবিত প্রকল্প দেখানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। প্রয়োজনে আবার হাসিনা সরকারের প্রতিনিধিদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে।’’ এই প্রকল্প নির্মাণের প্রতিটি ধাপেই যে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এগুনো হচ্ছে, সে কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘মণিপুরের বাড়তি পানির  প্রয়োজন নেই। ফলে বাঁধ দেয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য পানি-বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়া, পানির গতিপথ ঘুরিয়ে নিজেদের কাজে লাগানো হয়। তাছাড়া এই নদীর ভৌগোলিক অবস্থান এমনই যে, চাইলেও আমরা পানির গতিমুখ পরিবর্তন করতে পারব না।’’