|
|
সংগ্রাম ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহণের সব সুযোগ দিতে সক্রিয় হয়েছে বাংলাদেশ। ভারত-বাংলার মধ্যে চলমান নৌ-প্রটোকলের আওতায় ট্রানজিট ট্রানশিপমেন্ট সুবিধা পেতে চাইছে ভারত। এ পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা সরকার ট্রানজিট-ব্যবস্থা চালুর সবকিছু তদারকির দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে নৌ-মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে। সোমবার আসামের যুগশক্মখ পত্রিকা এ খবর দিয়েছে।
খবরে বলা হয়, নৌ-প্রটোকলের আওতায় পণ্য পরিবহণের জন্য বাংলাদেশ প্রতি টন পণ্যে ৫৮০ টাকা করে মাশুল প্রস্তাব করতে যাচ্ছে ভারতের কাছে। এছাড়া, উপকূল ঘেঁষে ছোট ছোট জাহাজে করে পণ্য পরিবহণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
পত্রিকাটি জানায়, বাংলাদেশ নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই দ্বিপাক্ষিক নৌ-প্রটোকলে সংশোধনী আনার জন্য কিছু প্রস্তাব ভারতের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাতে এই মাশুল আরোপের প্রস্তাবটিও থাকবে। গত ২ ও ৩ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত দু'দেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠকের সুপারিশ অনুসারে নৌ-প্রটোকলটি সংশোধনের পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ছোট ছোট জাহাজ ভারতের বিশাখাপত্তনম ও হলদিয়া সমুদ্রবন্দর থেকে উপকূল ঘেঁষে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে পণ্য খালাস করবে। আর এ দুটি বন্দর থেকে এসব পণ্য সড়ক বা রেলপথে ভারতীয় সীমান্তে পরিবহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে এ ধরনের উপকূল ঘেঁষে পণ্যবাহী নৌ-চলাচল সংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে। তবে সেটা মিয়ানমারের রফতানিকৃত পণ্য সহজে ও কম সময়ে বাংলাদেশে আনার জন্য।
যুগশক্মখ জানায়, এদিকে ভারত নৌ-প্রটোকলের আওতায় নৌ-পথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথও ব্যবহার করতে আগ্রহী। একই প্রটোকলের আওতায় নৌ-পথের পাশাপাশি বহুমাত্রিক পরিবহণ ব্যবস্থায় ট্রানজিট চেয়ে আসছে ভারত। এরইমধ্যে আশুগঞ্জ-সুতারকান্দি পথে পণ্য পরিবহণের সুযোগ চেয়েছে ভারত।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারত অভ্যন্তরীণ ট্রানজিট ও ট্রেড প্রটোকল ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দুই বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে। ভারত সরকার বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ মাশুল সোয়া পাঁচ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ কোটি টাকা করতে রাজি হয়েছে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অর্থ নৌ-চ্যানেল রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার কাজে ব্যয় করবে।

