Quantcast
ঢাকা, শুক্রবার 31 August 2012, ১৬ ভাদ্র ১৪১৯, ১২ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৬৪০ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

এডিবি ও জাইকা আরও একমাস সময় বাড়ালো

বিশ্বব্যাংক তার অবস্থানে অনড় দুই শর্ত পুরণ হয়নি

অর্থমন্ত্রী বললেন পদ্মা সেতু হবেই

স্টাফ রিপোর্টার : পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণচুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে এডিবি (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) ও জাইকা (জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা)'র কাছে চিঠিও দিয়েছে সরকার। তারা আরো এক মাস সময় বাড়াতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সচিব। তবে চূড়ান্ত সুখবরের জন্য শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন ইআরডি'র সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদ। আজই এই দুই সংস্থার প্রথম দফায় বাড়ানো ঋণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এডিবি ও জাইকা দ্বিতীয় দফা মেয়াদ বাড়ালে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংককে ফেরাতে আরো এক মাস সময় পেলো সরকার। তবে বিশ্বব্যাংক তাদের শর্তের ব্যাপারে এখনো অনড় রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের দেয়া ২টি শর্ত এখনো পুরোপুরি মানেনি সরকার। এর মধ্যে অর্থ উপদেষ্টার পদত্যাগ ও দুর্নীতি তদন্তে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করা। এদিকে দুপুরে এডিবি'র দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক জুয়ান মিরান্ডা'র সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত দাবি করেছেন, পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের ব্যাপারে সুখবর দিয়েছেন অর্থায়নকারী এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। মন্ত্রী বলেন, অর্থায়নের ব্যাপারে জাইকা'ও সুখবর দেবে। তিনি জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু হবেই।

সেতু প্রকল্পটিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ যথেষ্ট সহযোগিতা করছে না জানিয়ে প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক গত জুনে তাদের ঋণ চুক্তি বাতিলের পর এডিবি ও জাইকার ঋণ চুক্তির মেয়াদ ৩১ জুলাই শেষ হওয়ার কথা ছিল। তখন প্রথম দফায় চুক্তির মেয়াদ এক মাস বাড়ায় সংস্থা দু'টি, এখন দ্বিতীয় দফায় আরো এক মাস বাড়ালো তারা। ঋণ এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোয় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার জন্য আরো এক মাস সময় পাবে সরকার।

তবে প্রকল্পটিতে দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণকে যথেষ্ট মনে করছে না বিশ্বব্যাংক। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান ও সেতু বিভাগের সাবেক সচিবকেও পদত্যাগ করতে হবে বলে অনড় অবস্থানে আছে বিশ্বব্যাংক। সেতু প্রকল্পটিতে প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানটি মনে করে এরা সরকারি পদে থাকলে দুর্নীতি তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে।

সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা করছে না জানিয়ে নিজেদের ১২০ কোটি ডলারের ঋণ বাতিল করে বিশ্বব্যাংক গত ২৯ জুন। ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাংকের শর্ত মেনে আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ অভিযোগের তদন্ত করতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকও সই করতেও রাজি হয়েছে সরকার। যে দু'টি শর্তকে এর আগে ‘অসম্মানজনক' ও দুদকের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক মর্মে প্রত্যাখ্যান করেছিল সরকার।

এছাড়া বিশ্বব্যাংকের চতুর্থ শর্ত; তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া এর অংশ হিসেবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া হলেও এখনো বাকী আছেন দু'জন। এদের একজন সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া'র ব্যাপারে আংশিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাকে এ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে দেয়া হয়েছে। যে কারণে বিশ্বব্যাংক মনে করছে, সরকারি দায়িত্বে না রাখার শর্ত পালিত হয়নি।

বিশ্বব্যাংকের সন্দেহের তালিকায় আরো আছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। উপদেষ্টা জানিয়েছেন, কেবল প্রধানমন্ত্রী চাইলেই তিনি পদত্যাগ করবেন। অন্যদিকে ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিতে তেহরান যাবার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে গেছেন, এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত নেবেন। এদিকে দুপুরে মন্ত্রিসভার একটি কমিটির বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ সকালে এডিবির সুখবর তো আপনারা পেয়েছেন। কাল জাইকারটাও পেয়ে যাবেন। অর্থমন্ত্রী প্রত্যয়ের সুরে বলেন, পদ্মা সেতু হবেই হবে।

বিশ্বব্যাংককে ফেরাতেও আলোচনা এখনো চলছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা নাজুক দর কষাকষি (ডেলিকেট নেগোসিয়েশন) করছি। এরকম অবস্থায় আমি কথা বলতে চাচ্ছি না।'

এদিকে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার অর্থমন্ত্রীর বিবৃতি প্রকাশের কথা থাকলেও তা হয়নি। ওই বিবৃতি প্রকাশ কবে হবে জানতে চাইলে মুহিত গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রোববারের আগে তা হচ্ছে না।

আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে এডিবি-জাইকা :

পদ্মা সেতুর ঋণ চুক্তির মেয়াদ আরো ১ মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এডিবি ও জাইকা। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে শুক্রবার এ বিষয়ে এডিবি ও জাইকা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ইআরডি'র সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদ। ইআরডি'র সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদ ঋণচুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক জুয়ান মিরান্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানিয়ে চূড়ান্ত সুখবরের জন্য আজ শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান। দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে বৈঠকটি শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। এর আগে জুয়ান মিরান্ডা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শুক্রবার ৩১ আগস্ট এডিবি ও জাইকা'র পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বিষয়ে ঋণ চুক্তির মেয়াদের শেষ তারিখ।

সূত্র মতে আরো জানা গেছে, ঋণ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে এডিবি ও জাইকা'র কাছে ইআরডি চিঠিও দিয়েছে। ইআরডি'র সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদও এ কথা স্বীকার করেছেন সাংবাদিকদের কাছে।

পদ্মা সেতু হবেই হবে : মুহিত

পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু হবেই হবে। যেভাবেই হোক আমরা এটা নির্মাণ করব। পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে গতকাল এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আশ্বাসের পরই তিনি এমন দৃঢ়তা দেখালেন।

দুপুরে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। মুহিত বলেন, আজ সকালে এডিবি একটি ভালো সংবাদ দিয়েছে। আমি খুব খুশি।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে এডিবি, জাইকা, বিশ্বব্যাংক ও আইডিবি এখনো আমাদের সঙ্গেই আছে। তবে এর একটি সুরাহা করা দরকার। বিষয়টি নিয়ে এখন নেগোসিয়েশন চলছে। এটা নিয়ে আমি এখন আর বেশি কিছু বলতে চাই না।

পদ্মা সেতু হবেই, এডিবি'র আশাবাদ :

বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন পদ্মা সেতু, নির্মাণ হবেই বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সাউথ এশিয়া জোনের মহা-পরিচালক জুয়ান মিরান্ডা। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বুধবার বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনাও পদ্মা সেতু হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বাতিল করায় আমেরিকা হতাশ হয়েছে। তবে সরকার ও বিশ্বব্যাংক একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এটা আনন্দের বিষয়। দু'পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাবে বলে আমেরিকা আশাবাদী।