Quantcast
ঢাকা, শুক্রবার 31 August 2012, ১৬ ভাদ্র ১৪১৯, ১২ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩০৯ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

মহাজোটের আমলেই স্থায়ী ব্যবস্থা \ সরকারের ভেতরেই জোর লবিং

বাংলাদেশে ভারতের জন্য বহুমুখী করিডোর কাজ চলছে অগোচরে

ভারতের পেট্রাপোল স্থল বন্দরের একটি দৃশ্য। এখান থেকে প্রতিদিন শত শত পণ্য পরিবহন যান করিডোর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে -ফাইল ফটো

 পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল স্থল বন্দরকে প্রস্তুত করা হচ্ছে

সরদার আবদুর রহমান : বাংলাদেশের বুক চিরে ভারতকে ট্রানজিটের নামে বহুমূখী করিডোর দেয়ার কার্যক্রম দেশবাসীর অগোচরে এগিয়ে চলছে। ভারতীয় পক্ষে প্রাথমিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল স্থল বন্দরকে এ কাজের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। মহাজোটের আমলেই স্থায়ী ট্রানজিট ব্যবস্থার জন্য সরকারের ভেতরেই জোর লবিং চলছে। যদিও পৃথিবীর অন্য কোথাও এ ধরনের স্থায়ী ট্রানজিট বা করিডোরের কোন সুযোগ নেই।

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহে পণ্যদ্রব্য পরিবহনের জন্য যে করিডোর দেয়া হবে এই বিষয়টি নিয়ে মহাজোট সরকারের মধ্যে কোন দ্বিধা-দ্বনদ্ব নেই। এখন শুধু তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ভারতকে কি ধরনের ট্রানজিট সুবিধা দেয়া হবে তা নিয়েই কেবল কথাবার্তা চলছে। এ নিয়ে খানিকটা সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে সরকার। এ সুবিধা মেয়াদী (নবায়নযোগ্য) হবে না কি স্থায়ী হবে তা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি সরকারের নীতি নির্ধারক মহল। তবে এই ট্রানজিটের জন্য ভারতীয় পক্ষ ইতোমধ্যে যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টের বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি চালাচ্ছে বলে সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যে পথ ভারতের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে তাকে ‘ট্রানজিট' বলে চিহ্নিত করার প্রয়াস চলছে। এটি দেশ-বিদেশের সচেতন মহলকে বিভ্রান্ত করার জন্যই করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এটি হবে একটি ‘করিডোর'। কারণ, ট্রানজিট হল একটি দেশ যখন দ্বিতীয় একটি দেশের এলাকা ব্যবহার করে তৃতীয় আরেকটি দেশে প্রবেশ করে তখনই দ্বিতীয় দেশের ভূমি ‘ট্রানজিট' হিসেবে পরিচিতি পায়। কিন্তু এক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে কোন তৃতীয় দেশ নয়, নিজেদেরই অন্য অংশে যেতে চাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের অংশ ব্যবহৃত হবে ‘করিডোর' হিসেবে। এটিই আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি হিসেবে পরিচিত। ফলে মুখে যাই বলা হোক, এটি করিডোর হিসেবেই উল্লিখিত হতে হবে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত।

সূত্রমতে, বর্তমানে নৌপথের পাশাপাশি স্থলপথেও ভারতকে করিডোর দেয়ার কাজ বাংলাদেশের জনসাধারণের অগোচরে এগিয়ে চলেছে বলে জানা গেছে। এরই অংশ হিসেবে বেনাপোল চেকপোস্টের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশনের দায়িত্ব নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে কলকাতা-পেট্রাপোল হয়ে ঢাকার মধ্যদিয়ে ত্রিপুরার আগরতলা পর্যন্ত এই করিডোর চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে আরো একাধিক রুট চালু করা হবে। বর্তমানে কলকাতা থেকে আসামের গৌহাটি হয়ে আগরতলা যেতে এক হাজার ৬৫০ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। কিন্তু কলকাতা থেকে আগরতলার সরাসরি দূরত্ব মাত্র ৩৫০ কিলোমিটার। ফলে এই রুটকে তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পেট্রাপোল স্থলবন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইমিগ্রেশনের দায়িত্ব ভারতের সেন্ট্রাল গোয়েন্দা সংস্থা (এসআইবি)'র হাতে তুলে দিয়েছে। অতি সম্প্রতি তারা ইমিগ্রেশনসহ চেকপোস্টের প্রধান গেটে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে বলেও জানা গেছে। একে রুটিন কাজ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও দু'পাড়ের বন্দর ব্যবহারকারীরা এটাকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর ট্রানজিট সুবিধা চালু করার প্রাথমিক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন। যশোর জেলার বেনাপোল বন্দর দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর। চট্টগ্রামের সমুদ্র বন্দরের পরই এর অবস্থান। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চবিবশ পরগনা জেলার পেট্রাপোল স্থলবন্দরটি এশিয়ার সবচেয়ে বড় ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন। এ পথে প্রতিদিন ৩শ'র বেশি ট্রাক পণ্য আমদানি হয়ে থাকে ভারত থেকে। কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব নেয়ার কারণে এ পথে ট্রানজিট বা করিডোর সুবিধা চালু করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে এই ‘ট্রানজিট' নবায়নযোগ্য হবে নাকি স্থায়ী হবে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। মেয়াদী বা নবায়নযোগ্য ট্রানজিট চুক্তিতে প্রবল আপত্তি তুলেছে ভারত। তারা চায় স্থায়ী চুক্তি। এ ব্যাপারে ভারতের বক্তব্য হচ্ছে, রাজনৈতিক সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হলে পরবর্তীতে এক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু ভারতের এ দাবি নিয়ে দ্বিমত রয়েছে সরকারের নীতি নির্ধারক মহলে। এদের একটি পক্ষের মতে, বিশ্বের কোথাও অনন্তকালের জন্য ট্রানজিট ব্যবস্থা চালু নেই। দেশের সার্বভৌমত্বের জন্যও তা ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং ভারতের সঙ্গে এখনই এ ধরনের কোনো স্থায়ী চুক্তি করা উচিত হবে না। প্রথমে পাঁচ বা সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদী চুক্তির পর পর্যায়ক্রমে মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে মত দিচ্ছেন তারা। ভারতের প্রস্তাবের পক্ষেও কাজ করছে আরেকটি অংশ। এ মতের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও ড. মসিউর রহমান। গত ফেব্রুয়ারিতে সরকারকে দেয়া এক প্রতিবেদনে ড. মসিউর এই মত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে বিষয়টি এখন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

অন্যদিকে বাংলাদেশকে করিডোরের ট্যাবলেট গেলানোর জন্য ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে একটি লোভনীয় প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই প্রস্তাবের আওতায় ভারতের যানবাহন যেমন বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যেতে পারবে, বাংলাদেশের যানবাহনও তেমনি ভারতের সড়ক ব্যবহার করতে পারবে। প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী মাসে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কারিগরী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে এর মাধ্যমে বাংলাদেশ তেমন লাভবান হতে পারবে না বলে সূত্র জানায়। এর মধ্যে আবার করিডোর পেতে ভারত তিস্তার পানি বণ্টন ব্যবস্থাকে পণবন্দী করছে বলেও সূত্রে অভিযোগ আছে। এই নিয়ে দু'পক্ষই মুখে কিছু না বললেও কার্যক্ষেত্রে একটি আরেকটির পরিপূরক হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত।