Quantcast
ঢাকা, শুক্রবার 31 August 2012, ১৬ ভাদ্র ১৪১৯, ১২ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১০১০ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

মুজাহিদের বিরুদ্ধে শাহরিয়ার কবিরের জেরা অব্যাহত

জবানবন্দিতে দেয়া সব তথ্য রেকর্ড করেনি তদন্ত কর্মকর্তা \ অভিযোগকারীর নামও জানে না সাক্ষী

শাহেদ মতিউর রহমান : জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল  ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী শাহরিয়ার কবিরকে জেরা করেছেন ডিফেন্স পক্ষের  অন্যতম আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে কবির ও অপর সদস্য শাহিনুর ইসলাম সাক্ষীর জেরা রেকর্ড করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য ওবাইদুল হাসান ছুটিতে থাকায়  গতকাল তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

জেরাতে সাক্ষী শাহরিয়ার কবির বলেন, তিনি যে মামলায় সাক্ষী দিতে ট্রাইব্যুনালে এসেছেন এই মামলার বাদী  বা অভিযোগকারী কে তা তিনি জানেন না।  এমনকি এই মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কোন কোন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন তাদের মধ্যে দু'একজন ছাড়া  অন্য কারো নামও তিনি জানেন না। সাক্ষী একই সাথে ট্রাইব্যুনালে এটা বলেছেন যে, তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তিনি যেভাবে জবানবন্দি দিয়েছেন ঠিক সেভাবে তার জবানবন্দি রেকর্ডও করা হয়নি। পরে তার জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় এ মামলার কার্যক্রম আগামী ২ সেপ্টেম্বর রোববার পর্যন্ত মুলতবি করে ট্রাইব্যুনাল।

জেরার পূর্ণ বিবরণ

আইনজীবী : অনার্সে আপনার সাবসিডিয়াল সাবজেক্ট কী ছিল?

সাক্ষী:  মনোবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান।

আইনজীবী: এ সাবজেক্টগুলো কি আপনি শেষ করেছেন?

সাক্ষী: হ্যাঁ, শেষ হয়েছে।

আইনজীবী: পরবর্তীতে আর পড়ালেখা করেননি?

সাক্ষী: প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করিনি, তবে অন্যান্য পড়ালেখা করেছি।

আইনজীবী: আপনাদের পৈত্রিক নিবাস কোথায় ছিল?

সাক্ষী: ফেনী জেলায়।

আইনজীবী: ফেনী থেকে ঢাকায় কবে এসেছেন?

সাক্ষী: ফেনী থেকে আমার বাবা প্রথম কলকাতায় যান তারপর সেখান থেকে ঢাকার ইসলামপুরে আসেন।

আইনজীবী: এখন আপনাদের বাসা কোথায়?

সাক্ষী: এখন বাসা মহাখালীতে।

আইনজীবী: আপনি প্রাইমারি ও মাধ্যমিক কোথায় পড়েছেন?

সাক্ষী: ঢাকার সেন্ট গ্রেগ্ররী স্কুলে।

আইনজীবী: উচ্চমাধ্যমিক কোথায় পড়েছেন?

সাক্ষী: জগন্নাথ কলেজে।

আইনজীবী: ১৯৭০ সালে মহাখালী কোন থানার অধীনে ছিল?

সাক্ষী: গুলশান থানার অধীনে। বর্তমানে বনানী থানার অধীনে।

আইনজীবী: আপনার কর্মজীবন শুরু হয় সাংবাদিকতা দিয়ে।

সাক্ষী: হ্যাঁ।

আইনজীবী: কোন পত্রিকায় কাজ শুরু করেন।

সাক্ষী: ১৯৭২ সালে এপ্রিল মাসে দৈনিক বাংলা পত্রিকায় সম্পাদকের সহকারী হিসেবে।

আইনজীবী: ওই পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?

সাক্ষী: তোয়াব খান।

আইনজীবী: পত্রিকাটি সরকারি ট্রাস্ট্রের নিয়ন্ত্রণে প্রচারিত সংবাদপত্র ছিল।

সাক্ষী: হ্যাঁ।

আইনজীবী: ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান কে ছিল?

সাক্ষী: পদাধিকার বলে তথ্য সচিব।

আইনজীবী: সম্পাদকীয় মন্ডলীর সভাপতি কে ছিলেন।

সাক্ষী: কবি হাসান হাফিজুর রহমান।

এরপর তাকে আইনজীবী প্রশ্ন করেন আপনি আর কোথায় কোথায় কাজ করেছেন।

উত্তরে সাক্ষী বলেন, অন্যান্য পত্রিকায় গল্প, উপন্যাস লেখেছি, তবে রিপোর্ট লেখিনি। এ ছাড়া সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকা দৈনিক বাংলার একটি সহযোগী প্রকাশনা ছিল।

আইনজীবী: আপনি ওই পত্রিকায় কী দায়িত্বে ছিলেন।

সাক্ষী: নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি ১৯৯২ সালে চাকুরিচ্যুতির আগ পর্যন্ত।

আইনজীবী: আপনি যে মামলায় সাক্ষী দিতে এসেছেন সে মামলার অভিযোগকারী আপনি নন।

সাক্ষী: জ্বি না, আমি সাক্ষী।

আইনজীবী: এ মামলার অভিযোগকারী কে?

সাক্ষী: সরকার, সঠিক অর্থে রাষ্ট্র এবং চিফ প্রসিকিউটর।

আইনজীবী: রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের দায়িত্বে আছে আওয়ামী লীগ।

সাক্ষী: আওয়ামী লীগ নয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট।

আইনজীবী: মহাজোটের মধ্যে একটা দলের নাম ইসলামী ঐক্যজোট, যার চেয়ারম্যান মেজবাহুর রহমান চৌধুরী।

সাক্ষী: জ্বি।

আইনজীবী: শরিক দল ইসলামী ঐক্যজোটের উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসলামি মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

সাক্ষী: জ্বি। পরে বলেন না। আমি তাদের গঠনতন্ত্র পড়ে দেখেনি।

আইনজীবী: মেজবাহুর রহমান একাত্তর সালে ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্য ছিলেন।

সাক্ষী: জ্বি।

আইনজীবী: মেজবাহুর রহমানের দলটি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত দল নয়।

আইনজীবীর এ প্রশ্নের পর সাক্ষী শাহরিয়ার কবির কিছুক্ষণ নীরব থাকেন। কিছুক্ষণ পর বলেন, এগুলো কি আপনার প্রশ্ন? তখন আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, হ্যাঁ এগুলো আমার প্রশ্ন।

এ সময় প্রসিকিউশন এসব প্রশ্নের বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়। ট্রাইব্যুনাল তখন উভয়পক্ষের কথা শুনে বিষয়টি সমাধান করেন।

এরপর সাক্ষী শাহরিয়ার কবির এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তাদের গঠনতন্ত্র তো আমি পড়িনি। আর এটা আমার জানার কথা না।

এরপর আইনজীবী তাকে আবার প্রশ্ন করেন, মেজবাহুর রহমান ইসলামী ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্ন্যান্স এর সদস্য।

সাক্ষী: আমার জানা নেই।

আইনজীবী: মেজবাহুর রহমানের সঙ্গে আপনার কবে পরিচয় হয়?

সাক্ষী: ২০০৭ সালে প্রথম সাক্ষাৎ হয় একটা প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণের জন্য।

আইনজীবী: ওই প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে যারা জানে তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য কোনো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন?

সাক্ষী: প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া কেন প্রয়োজন। পৃথিবীর কেউ কোনো দিন বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল তার প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণে।

আইনজীবী: প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণের জন্য আপনি আপনার পছন্দসই লোকদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।

সাক্ষী: আমার অপছন্দ লোক রাজাকারদেরও সাক্ষাৎকার নিয়েছি।

আইনজীবী: মেজবাহুর রহমান ছাত্র সংঘের সদস্য ছিলেন এ তথ্য আপনি প্রথম কার কাছে পেয়েছেন।

সাক্ষী: তার নিজের কাছেই পেয়েছি।

আইনজীবী: আপনার নির্মিত প্রামাণ্য চিত্রে যে সব ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একাত্তর সালে তাদের অবস্থান কী ছিল সে সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়েছেন?

সাক্ষী: তা আমি অনুসন্ধান করিনি।

আইনজীবী: মেজবাহুর রহমানের একাত্তরের অবস্থান সম্পর্কে অনুসন্ধান করেছেন।

সাক্ষী: না, তিনি যেটুকু বলেছেন তাই।

আইনজীবী: আপনার প্রামাণ্য চিত্রে জামায়াত নেতা মুজাহিদের বক্তব্য আপনার সংগ্রহ করা কিনা।

সাক্ষী: না, বিভিন্ন সময় টেলিভিশনের ফুটেজ থেকে নেয়া হয়েছে।

আইনজীবী: আপনি প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণের সময় মুজাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।

সাক্ষী: আমি সাপ্তাহিক বিচিত্রা থাকা অবস্থায় জামায়াতের কোনো নেতা সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি।

আইনজীবী: ২০০৬, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে আপনি মুজাহিদকে কোনো টেলিফোন করেছেন কি-না।

সাক্ষী: না।

আইনজীবী: কোনো পত্র প্রেরণ করেছিলেন?

সাক্ষী: না।

আইনজীবী: জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত একটি দল।

সাক্ষী: জ্বি।

আইনজীবী: মেজবাহুর রহমান সাপুড়েদের নিয়ে তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মিছিল করেছিলেন, আপনি জানেন?

সাক্ষী: আমার মনে পড়ে না।

আইনজীবী: গত শতকে ৯০'র দশকে ইসলামী ফাউন্ডেশন আয়োজিত রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে গোলযোগ সৃষ্টির কারণে মেজবাহুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

সাক্ষী: তা আমার জানা নেই।

আইনজীবী: ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কতজন তদন্ত কর্মকর্তা আপনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

সাক্ষী: ৩/৪ জন এসেছেন। তার মধ্যে মনোয়ার বেগম বেশি এসেছিলেন।

আইনজীবী: সাঈদীর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হেলালউদ্দিনের কাছে আপনি জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

সাক্ষী: আমার মনে নেই।

আইনজীবী: কার নালিশের ওপর ভিত্তি করে মামলার তদন্ত কাজ শুরু হয়েছিল।

সাক্ষী: আমি বলতে পারবো না।

এরপর আইনজীবী সাক্ষী শাহরিয়ার কবিরের দেয়া জবানবন্দি নিয়ে কন্ট্রাকডিকশন প্রশ্ন করেন। এরপর আদালত ২ সেপ্টেম্বর রোববার পর্যন্ত জেরা মুলতবি করেন। গত ২৬ আগস্ট শাহরিয়ার কবির জামায়াত নেতা মুজাহিদের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি পেশ করেন।