|
|
ইরান পরমাণু অস্ত্র নয়, জ্বালানি কর্মসূচি চালিয়ে যাবে -খামেনি
সংগ্রাম ডেস্ক : ইরানের রাজধানী তেহরানে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) শীর্ষ নেতৃত্বের দুই দিনের সম্মেলন শুরু হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তেহরানের আইওসি কনভেনশন সেন্টারে ন্যামের সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের ষোড়শএ সম্মেলন উদ্বোধন করেন। রয়টার্স/বাসস। উদ্বোধনী ভাষণে আয়াতুল্লাহ আল খামেনি বলেন, পরমাণু অস্ত্রে আগ্রহী না তার দেশ। তবে ইরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু জ্বালানি কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে বলে পশ্চিমারা সন্দেহ করলেও বাস্তব চিত্র একেবারেই এর বিপরীত। ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্রের পেছনে ছোটেনি। পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টাও করছে না তারা। এ ধরনের অস্ত্রের পেছনে ছোটা ‘বড় ধরনের নিন্দনীয় অপরাধ', বলে মন্তব্য করেন খামেনি। তবে শান্তিপূর্ণভাবে পরমাণু জ্বালানি কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অধিকার ইরান কখনোই ছেড়ে দেবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
এ ব্যাপারে খামেনি বলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য, সবার জন্য পরমাণু জ্বালানি, কারো জন্য পরমাণু অস্ত্র নয়।’’ পরমাণু কর্মসূচির জন্য ইরানের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে ইরান ভেঙ্গে পড়বে না, পড়েওনি। বরং পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যেতে ইরান আরো সংকল্পবদ্ধ হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘অযৌক্তিক' কাঠামোরও সমালোচনা করেন খামেনি। এ পরিষদের ক্রটিপূর্ণ এবং অগণতান্ত্রিক কাঠামোর কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ওপর তাদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী খান জারদারি, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজা পাকসে, মিসরের প্রেসিডেন্ট মুহম্মদ মুরসি, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নূরি আল মালিকিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘের বাইরে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দেশের এ জোটের শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, আরব লীগের মহাসচিব নাবিল ইলারাবি ও অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কনফারেন্সের (ওআইসি) মহাসচিব একমেলেদ্দিন ইহসানোগ্লুও উপস্থিত ছিলেন। দুই দিনের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বৈঠক ও দুই দিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর ন্যামের এ শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে।
১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ এ আন্তর্জাতিক সংস্থার বর্তমানে ১২০টি সদস্য দেশ রয়েছে। এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের এ সংস্থা উন্নয়নশীল দেশের স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তেহরান সম্মেলনের মধ্য দিয়ে মিসরের কাছ থেকে তিন বছরের জন্য ন্যামের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেবে ইরান। আর সপ্তদশ সম্মেলনের আয়োজন করবে ভেনেজুয়েলা। বিশ্বের প্রায় ৫০টির মতো দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এ সম্মেলনে অংশ নেয়ায় ইরানের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়তে পারে বলে শঙ্কায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে দেশটির ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এ সম্মেলনের মাধ্যমে তেহরানের সামনে একটি সুযোগ এসেছে, ওয়াশিংটনকে দেখানো যে তারা বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি।
কায়রো থেকে এএফপি : মিসরের প্রেসিডেন্ট মুাহম্মদ মুরসি গতকাল বৃহস্পতিবার তেহরানে ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দেয়ার সময় সিরিয়া সরকারের দমনপীড়নের সমালোচনা করায় দামেস্কের প্রতিনিধি দল সম্মেলন থেকে বেরিয়ে যায়।

