|
|
হলমার্ক অর্থ কেলেঙ্কারির জবাব চাইবে মানবাধিকার কমিশন
স্টাফ রিপোর্টার : হলমার্ক কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখার আরো ৫ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদিকে অর্থ জালিয়াতির এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। সরকার সোনালী ব্যাংকের ৩ হাজার ৬শ ৪৮ কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়াতে এর জবাব চাইবে মানবাধিকার কমিশন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দুদক কার্যালয়ে হাজির হন সোনালী ব্যাংকের জিএম মিসেস সবিতা সিরাজ, ডিজিএম আ ন ম হেদায়েতউল্লাহ, এজিএম আশরাফ আলী পাটোয়ারী, এজিএম গোলাম নবী মল্লিক, জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদউদ্দিন আহমেদ।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিসেস সবিতা সিরাজ বলেন, তদন্ত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু তথ্যের জন্য আমাকে দুদক কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে এবং আমি তা দিয়েছি। তবে এ বিষয়ে অন্য কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান সবিতা সিরাজ। এছাড়া দুদকে উপস্থিত হওয়া অপর চার কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে সোনালী ব্যাংক থেকে বিপুলপরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্যাংকটির ২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল। আগামী রোববার হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। হলমার্কসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সোনালী ব্যাংক থেকে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। দুদকের উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদিন শিবলীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এক বিশেষ টিম এই অর্থ কারসাজির বিষয়টি তদন্ত করছে।
এদিকে সোনালী ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবিত্তি যাতে না ঘটে সেজন্য স্থায়ী সমাপন খুঁজে বের করতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংককে। পর্ষদ আশঙ্কা করছে, তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের ঘটনা আরো বেশি ঘটতে পারে। গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ২৩২তম বৈঠক শেষে পর্ষদ সদস্য অধ্যাপক হান্নানা বেগম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এদিকে রংপুর জেলা প্রশাসকের হলরুমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত ‘ওয়ার্কিং টুগেদার ফর দ্য প্রটেকশন অব হিউম্যান রাইটস' বিষয়ক এ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কমিশনের চেয়ারম্যান ডঃ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার এ লুটপাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই কমিশন জবাব চাইবে। এ সময় তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংকের ৩ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে রাষ্ট্র যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। রাষ্ট্রের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইবে কমিশন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গবর্নরের এ বিষয়ে চিঠি দেয়ার অধিকার নেই বলে কি এসব টাকা রাষ্ট্রায়ত্ব একটি ব্যাংকের হিসাব থেকে ব্যক্তিগত এ্যাকাউন্টে চলে যাবে। এর কোনো প্রতিকার কি হবে না? কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, ভুল হলে তা শুদ্ধ করে নেয়ার প্রবণতা আমাদের কম। কলেজছাত্র লিমনের ব্যাপারে ভুল হয়েছিল। সেটি স্বীকার করলেই হতো। কিন্তু তা করা হয়নি। একটি ভুলকে ঢাকার জন্য হাজার ভুল করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের টাকা যারা লুট করেছে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

