|
|
স্টাফ রিপোর্টার : স্পিকারের রুলিংকে অকার্যকর ও আইনগত ভিত্তিহীন বলে দেয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে সরকার। ভারপ্রাপ্ত এটর্নি জেনারেল এম কে রহমান রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আপিলের বিষয়ে আইনমন্ত্রীর সাথে তার কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এম কে রহমান বলেন, কোন রুল বা কারো বক্তব্য না শুনে হাইকোর্ট যে অবজারবেশন দিয়েছেন তা সঠিক হয়নি। এ আদেশে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে। গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের স্পিকার আবদুল হামিদের রুলিংয়ের দু'টি অংশকে বেআইনী এবং অকার্যকর বলে রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে স্পিকারের রুলিংয়ে যে কথা বলা হয়েছে তার কোন আইনগত ভিত্তি নেই, আইনের দৃষ্টিতে তা অস্তিত্বহীন উল্লেখ করা হয় ওই রায়ে। একইসঙ্গে বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ভার প্রধান বিচারপতির ওপর ছেড়ে দেয়াও অকার্যকর। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্পিকারের দেয়া রুলিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব কথা বলা হয়। গত ২৪ জুলাই বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ সংক্রান্ত রিট নিত্তি করলেও ২৭ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধেই এখন আপিলের কথা ভাবছে সরকার।
গত ১৪ মে সড়ক ভবন নিয়ে আদালত অবমাননা মামলায় বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ ৫ জুনের মধ্যে ব্লক সি এর বাকী অংশ ও ব্লক এর দু'টি কক্ষ সুপ্রিম কোর্টকে হস্তান্তর করতে নির্দেশ দেন। এ আদেশের বিষয় উত্থাপিত হলে স্পিকার আবদুল হামিদ গত ২৯ মে সংসদে বলেছিলেন, দেশের মানুষের বিচারের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর লেগে যাবে আর নিজেদের বিষয় বলে বিচার বিভাগ ঝটপট সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবেন, এটি ভালো দেখায় না। আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ হলে জনগণ বিচার বিভাগের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে পারে। ৫ জুন বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ স্পিকারের এ বক্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটা হলো রাষ্ট্রদ্রোহিতা। স্পিকারের বক্তব্য আদালত অবমাননাকর। পদে থাকার অধিকার তার নেই। একইদিন সন্ধ্যায় সংসদে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর সমালোচনা করে বক্তব্য দেন সরকার দলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য। তারা বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারপতিকে অপসারণের দাবি জানান। পরে ১৮ জুন স্পিকার আবদুল হামিদ এ ব্যাপারে রুলিং দেন। রুলিংয়ের শেষ অংশে তিনি বলেন, ‘২৯ মে ২০১২ তারিখে সংসদে আমার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ৫ জুন ২০১২ তারিখে হাইকোর্টের একজন মাননীয় বিচারপতি সংবিধানের ৭৮(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে সংসদ সম্পর্কে আমার সম্পর্কে যে সব মন্তব্য করেছেন তা কোন বিবেকবান মানুষ উচ্চারণ করতে পারেন কিনা আমার সন্দেহ রয়েছে। একই সাথে বলবো আদালতের এ ধরনের আচরণে কি করণীয় থাকতে পারে মাননীয় প্রধান বিচারপতি সে বিষয়টি ভেবে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তাতে আমাদের সমর্থন থাকবে।' গত ১৮ জুলাই রুলিংয়ের এই দু'টি অংশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সাবেক বিচারপতি এ কে এম শফিউদ্দিন হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন। রিট আবেদনে হাইকোর্টের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর মন্তব্যের বিরুদ্ধে স্পিকারের রুলিং কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের রুলিং বা আদেশ জারি করা না হয় সে নির্দেশনা চাওয়া হয়। এতে স্পিকার, আইন সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারকে বিবাদী করা হয়েছিল। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওই সময় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। বঙ্গভবন থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে বলা হলেও এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ তখন বলেছিলেন, বিধি অনুযাযী আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু করণীয় নেই।

