|
|
গতকাল শনিবার বুয়েটের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা ভিসি ও প্রো-ভিসির অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে -সংগ্রাম
মোস্তফা মানিক : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ভিসি ও প্রো-ভিসিকে পদত্যাগ করার আল্টিমেটাম দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার বিকেল তিনটায় ভিসি অফিসের সামনে থেকে এ আল্টিমেটাম দেয়া হয়। এসময় শিক্ষার্থী সুদীপ্ত সাহা বলেন ভিসি অধ্যাপক ড. এসএম নজরুল ইসলাম ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমানকে আজ সকাল ১০ টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে গতকালের মতো আজকেও কর্মসূচি পালন করা হবে। সবশেষে তাদের কুশপুত্তলিকা দাহ করে আরো কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে। এর আগে দুপুর ১২ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত ভিসি ও প্রো-ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। সকালে ক্যাম্পাসে তাদের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করে বুয়েটের হাজার হাজার শিক্ষার্থী। পরে ক্যম্পাসের তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলাম বলেন, যেহেতু হাইকোর্ট থেকে শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে, তাই আমরা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে কেবল সমর্থন করছি।
এর আগে ভিসি ও প্রো-ভিসিকে অপসারণের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে শনিবার বেলা ১১টায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভিসি অধ্যাপক ড. এসএম নজরুল ইসলাম ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমানের অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ শেষে দুপুর ১২টায় আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা ভিসির কার্যালয়ে যান এবং তাকে পদত্যাগের জন্য অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে প্রো-ভিসিকে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠাতে বলেন।
তবে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিলেও ভিসি-প্রোভিসি কেউই তাদের সঙ্গে কথা বলেননি।
বুয়েটের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত সাহা বলেন, ‘‘এটি কোনো সরকারবিরোধী আন্দোলন নয়। বুয়েট বাঁচাতে আমরা এই আন্দোলনে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দেলন চলবে।’’
গতকাল সকাল থেকেই বুয়েট এলাকায় আইন-শৃক্মখলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি দেখা গেছে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘বিষয়টি যেহেতু আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের এখান থেকে চলে যাওয়া উচিত।’’ তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষকরা যেহেতু একটা সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। ওই পর্যন্ত তাদের সময় দিতে হবে।’’
উল্লেখ্য, ভিসি ও প্রো-ভিসি অপসারণসহ ১৬ দফা দাবিতে গত ৭ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করছে বুয়েট শিক্ষক সমিতি। প্রায় এক মাস কর্মবিরতি পালনের পর গত ৪ মে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে যান। এরপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আর কমিটি একটি রিপোর্ট দিলে শিক্ষকরা তা গ্রহণ না করে ফের আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
এর অংশ হিসেবেই ১১ জুলাই থেকে এ অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন বুয়েট শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে ৩০ জুলাই বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের আন্দোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে হাই কোর্ট। এর পরদিন (৩১ জুলাই) রাতে আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করে শিক্ষক সমিতি।

