Quantcast
ঢাকা, রোববার 2 September 2012, ১৮ ভাদ্র ১৪১৯, ১৪ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২৮৩ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়ার মাজারে খালেদা জিয়া\ নেতাকর্মীদের ঢল

স্বাধীনতা গণতন্ত্র রক্ষা ও মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার শপথ

গতকাল শনিবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাযারে পুস্তবক অর্পণ শেষে মুনাজাত করেন দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা এবং মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার শপথের মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার দেশব্যাপী পালিত হয়েছে বিএনপির ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে গতকাল সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে  দলীয় ও দেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও নেতাকর্মীরা। এ সময় মাজার প্রাঙ্গণে জিয়াউর রহমানের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়ার মাজারে নেতাকর্মীদের ঢল নামে।

খালেদা জিয়া গতকাল সকাল ১১টার পরপর জিয়াউর রহমানের মাজারে আসেন। ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকেই মাজার এলাকায় ঢল নেমেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। তারা এসেছেন ঢাকা ও তার আশপাশের জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে। বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান। তিনি সেখানে ওলামা দল আয়োজিত মিলাদ ও দোয়ায় অংশ নেন। এ ছাড়া ড্যাব আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর শ্রদ্ধা জানান অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে. জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আববাস, আসম হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস-চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাদেক হোসেন খোকা, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, ফজলুর রহমান পটল, অধ্যাপক এম এ মান্নান, তাঁতি দলের সভাপতি হুমায়ুন ইসলাম খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কৃষক দলের যুগ্ম-সম্পাদক শাহজাহান, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাহতাব, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সভাপতি শ্যামা ওবায়েদসহ বিএনপি, অংগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

খালেদা জিয়া ফুল দেয়ার পর ঢাকা মহানগর বিএনপির পক্ষে আহবায়ক সাদেক  হোসেন  খোকা, যুবদলের পক্ষে সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের  পক্ষে সভাপতি নুরী আরা সাফা, স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষে সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, ও সাধারণ সম্পাদক সরাফত আলী সপু, ছাত্রদলের পক্ষে সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সাধারণ সম্পাদক আমীরুল ইসলাম আলীম ফুল দেন জিয়ার মাজারে। আরও ফুল দেন ওলামা দলের সভাপতি আব্দুল মালেক ও সাধারণ সম্পাদক   নেসারুল হক, জাসাস সভাপতি এমএ মালেক ও মনির খান, ড্যাব সভাপতি ডা. একেএম আজিজুল হক ও মহাসচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং মৎস্যজীবী দল, তাঁতীদল ও বাস্তুহারা দলসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতারা।

জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালই বিএনপির একমাত্র চ্যালেঞ্জ। আন্দোলনের তীব্রতা কিছুটা ঢিলেঢালা বা নরম হলেও এর কার্যকারিতা রয়েছে। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট দাবি নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচি আরো তীব্রতর হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের চার বছরে গণতন্ত্র, অর্থনীতি, আইনশৃক্মখলা পরিস্থিতি ধ্বংসের শেষ প্রান্তে। তবে সার্বিক দিক মূল্যায়ন করে বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ অচলাবস্থার অবসান করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি এবং জাতীয় নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি নিয়ে বিএনপির চলমান আন্দোলনের সফলতা কতটুকু এ প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির আন্দোলনে সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সম্পৃক্ততাই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ করবে।

এদিকে গতকাল বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে দলটির ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী বইমেলা ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সদস্য ফরম বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে। বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বেশ কিছু বন্ধ থাকলেও এখন আবার তাদের বিদেশমুখী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফখরুল বলেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। মেডিকেলে ভর্তি নিয়ে তুঘলকি কান্ড চলছে। মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে ভালো প্রতিষ্ঠানে  ভর্তি হতে না পারে সে জন্যই এ ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বুঝে আসে না যে স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও আমরা উচ্চ শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি সমস্যার সমাধান করতে পারছি না। বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে পর্যন্ত বুয়েটের মতো একটি গর্বের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। সরকারের নিকটাত্মীয় ও দলীয় লোক হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ভিসি ও অন্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের বেশি করে বই পড়ার আহবান জানিয়ে বলেন, পৃথিবী দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। তাই জ্ঞানের মাধ্যমেই আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে। আর জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে এগিয়ে গেলে আর কোনো রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সদস্য সচিব জহির দিপ্তী প্রমুখ। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা পাঠাগারের আজীবন সদস্য ফরম পূরণ করেন এবং বইমেলা ঘুরে দেখেন। বইমেলা ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।