|
|
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের বিবৃতি
সুপ্রিম কোর্টে সিনিয়র আইনজীবীগণ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী জনৈক মিছবাহুর রহমান কর্তৃক সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে জড়িয়ে দেয়া বক্তব্য অপ্রাসঙ্গিক, অনাকাঙিক্ষত ও বিদ্বেষপ্রসূত। ডিফেন্স টিমের প্রধান হিসেবে ব্যারিস্টার রাজ্জাককে পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকে নিবৃত্ত করার জন্যেই মিছবাহুর রহমানকে দিয়ে বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে। তার অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য ট্রাইব্যুনালের রেকর্ডে লিপিবদ্ধ না করা উচিত ছিল বলে মনে করেন সিনিয়র আইনজীবীগণ।
গতকাল শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ আহবান জানান। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র আইনজীবী বিচারপতি টি এইচ খান, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদিন, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, সাবেক এটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম।
বিবৃতিতে সিনিয়র আইনজীবীগণ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ২৬ আগস্ট মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের একজন সাক্ষী জনৈক মিছবাহুর রহমানের প্রদত্ত বক্তব্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। সাক্ষ্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ১৯৭৪ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে আমার কাছে স্বীকার করেছেন তিনি ১৯৭১ সালে আল-বদর বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন।' এরূপ অভিযোগ যা ইতোমধ্যেই ব্যারিস্টার রাজ্জাক অস্বকিার করেছেন, এর সাথে নিজামীর মামলার কার্যধারার দূরতমও কোনো সম্পর্ক নেই। অভিযোগটি আনা হয়েছে শুধুমাত্র ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত অভিযুক্ত পক্ষের একজন মুখ্য আইনজীবীকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য। তারা বলেন, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন স্বনামধন্য সিনিয়র এডভোকেট। তিনি বহু বছর আন্তরিকভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সততা, নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও যোগ্যতার জন্য সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি গত দুই বছর যাবত অভিযুক্ত পক্ষের প্রধান কৌঁসুলী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানিতে অংশগ্রহণ করছেন। তার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ডিফেন্স টিম গড়ে ওঠেছে এবং এই ডিফেন্স টিম রাষ্ট্রপক্ষকর্তৃক আনীত অভিযোগের যথাযথ এবং কার্যকর জবাব প্রদান করছে সফলতার সাথে। স্পষ্টত, ব্যারিস্টার রাজ্জাক-এর বিরুদ্ধে মিছবাহুর রহমান কর্তৃক আনীত অভিযোগের একমাত্র উদ্দেশ্যই হল তার নেতৃত্বে পরিচালিত ডিফেন্স টিমের প্রাজ্ঞ পদক্ষেপকে দুর্বল করা।
উল্লেখ্য, মিছবাহুর রহমান ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি স্বাধীনতার পর বিগত চার দশকে ব্যারিস্টার রাজ্জাক-এর বিরুদ্ধে এরূপ অভিযোগ উত্থাপন করেননি। অধিকন্তু, মুক্তিযুদ্ধের ওপর শত শত বই, জার্নাল, সরকারি প্রকাশনা প্রকাশিত হয়েছে। এসবের কোথাও আল-বদর বাহিনীর সাথে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের সম্পৃক্ততার উল্লেখ নেই। আমরা বিশ্বাস করি, মিছবাহুর রহমানকে দিয়ে উক্ত বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে অভিযুক্ত পক্ষের প্রধান কৌঁসুলী হিসেবে ব্যারিস্টার রাজ্জাককে পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকে নিবৃত্ত করার জন্যই। আইনজীবীগণ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উচিত ছিল মিছবাহুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত অপ্রাসঙ্গিক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য ট্রাইব্যুনালের রেকর্ডে লিপিবদ্ধ না করা। ব্যারিস্টার রাজ্জাক আদালতেরই একজন অফিসার, জনাব নিজামীর মামলার সাথে মিছবাহুর রহমানের উক্ত বিদ্বেষপ্রসূত উক্তির কোন সম্পর্ক নেই। আদালতের কর্তব্যই হল মামলার কার্যক্রমে বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা এবং একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আদালতের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখা। অভিযুক্ত পক্ষের প্রধান কৌঁসুলী ব্যারিস্টার রাজ্জাক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং ট্রাইব্যুনালেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তারা আশা প্রকাশ করেন ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনাল কোন আইনজীবীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন এবং বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য দানকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি সমুচ্চ রাখবেন।

