|
|
মেডিকেলে ভর্তি
স্টাফ রিপোর্টার : মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তি পরীক্ষার দাবিতে সারা দেশের ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছে। বিষয়টি আইনী লড়াইয়ে পর্যন্ত গড়িয়েছে। সেখানে সরকারের পক্ষে সাফাই গাইতে মাঠে নেমেছে আরেক দল ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী। ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে আন্দোলনকারীরা যেখানে পুলিশের মারমুখী আচরণের কারণে রাজপথে নামতে পারছে না সেখানে পুলিশি পাহারায় সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সড়ক অবরোধ করেছে তারা। ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট' এর ব্যানারে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে মেডিকেলে ভর্তিইচ্ছুক একদল শিক্ষার্থী। তারা মেডিকেলে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ পদ্ধতি অনুসরণের সিদ্ধান্তকে বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে। এর আগে ফলাফলের (জিপিএ) ভিত্তিতে মেডিকেল কলেজে ভর্তির ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধন করেন তারা। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে দুপুরে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে ফলাফলের ভিত্তিতে মেডিকেলে ভর্তির যুক্তি তুলে ধরে তারা প্রচলিত ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানান। এতে শিক্ষার্থী জোটের সৃষ্টি সাহা সেতু, নিষাদ লুবনা, সৈয়দ আকিব হোসেন, সৈয়দ ফারহান নুর, অরুপ দেবনাথ বক্তব্য দেন। ‘টাকা খেয়ে সরকারের পক্ষে নেমেছেন কিনা'- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় একটি বেসরকারি টেলিভিশনের রিপোর্টার নাজমুল শিক্ষার্থী তাজকে ধাক্কা দেন বলে দাবি করেন তারা। এ বিষয়ে ডিআরইউ নেতাদের কাছে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সাংবাদিক সম্মেলন শেষে তারা প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধে নেমে পড়েন।
গতকাল শনিবার বিকালে প্রেস ক্লাবের সামনে ২০ থেকে ৩০ জন ছাত্র সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে পুরো রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। পুলিশের সহায়তায় বিকাল ৪টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি চলে। অবরোধ চলাকালে পুলিশ যান চলাচল বন্ধ করে তাদের কর্মসূচিকে সার্থক করতে সহযোগিতা করে। অথচ অবরোধের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল, দুর্ভোগে পড়েছিলেন পথচারীরা। উপস্থিত পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। অবরোধের কারণ জানতে প্রশ্ন করলে মিডিয়াকর্মীদের সঙ্গে বাগ-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে অবরোধকারীরা। তারা কি কি দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন জানাতে অনুরোধ করলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী পরিচয়ধারী সেতু মিডিয়া কর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।
ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সরকার কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি আন্দোলনরত আরেক শিক্ষার্থী সানি। আপনাদের কেউ পাঠিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি শুধু ‘না' বলে সটকে পড়েন।
উল্লেখ্য, এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাব, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, সিলেটসহ সারাদেশে ভর্তি পরীক্ষা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে পুলিশ। এতে কয়েকশ' শিক্ষার্থী আহত হয়। ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও ‘মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী মঞ্চ' ব্যানারে বড় অংশ আন্দোলন করে আসছে। ঈদের আগে টানা দু'দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও শাহবাগ মোড়ে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি করে পরীক্ষা পদ্ধতি পুনর্বহাল চেয়ে আসছেন আন্দোলনকারীরা। ঈদের পর আবারো আন্দোলন শুরু করে তারা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করে তারা। এ অবস্থায় সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে পুলিশি পাহারায় অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহল।
প্রসঙ্গত, গত মাসে মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তিতে এবার থেকে আর ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে না, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের জিপিএ'র ভিত্তিতেই এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে বলে সরকারি সিদ্ধান্তের পর থেকেই এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয় দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

