Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2012, ২২ ভাদ্র ১৪১৯, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৪৮৪ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

বিদ্যুৎ ব্যবহার কম করলে বিলও কম আসবে-সংসদে প্রধানমন্ত্রী

মনে রাখার জন্য সকাল-বিকেল লোডশেডিং দিতে বলেছি

সংসদ  রিপোর্টার : মানুষ যাতে লোডশেডিংকে ভুলে না যায় এ জন্য সকাল-বিকেল লোডশেডিং দিতে বিদ্যুৎ বিভাগকে বলেছেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, লোডশেডিং হলে বিদ্যুৎ বিলও কম আসবে। বিদ্যুৎ ব্যবহার কম করলে বিলও কম আসবে। আর বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে বিল দিতেই হবে, ভর্তুকি কত দেব? তিনি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার  জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানান।


গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে সম্পূরক প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা  বলেন। বিকেল ৫টায় স্পীকার আবদুল হামিদ এডভোকেটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন।


এডভোকেট  মজিবুল হক চুন্নুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রমযানে কোন লোডশেডিং ছিল না। মানুষ যাতে  লোডশেডিংকে ভুলে না যায় এ জন্য সকালে ও বিকেলে এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দিতে বিদ্যুৎ বিভাগকে বলেছি। বিদ্যুৎ ব্যবহারে  সাশ্রয়ী হতে হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহার কম করলে বিল কম আসবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।


তিনি বলেন, সোলার প্যানেল ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে। ছোট ছোট করে সোলার প্যানেল বসালে তেমন খরচ হবে না। তিনি হাট বাজারে সোলার প্যানেল বসানোর জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহবান জানান।


ফজিলাতুন  নেসা ইন্দিরার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে সংযোগ দেয়া হচ্ছে। কৈলাশটিলায় কিছু তেল পাওয়া গেছে। আরো পেতে পারি। আর বিদ্যুৎ ব্যবহারের  ক্ষেত্রে আমরা সচেতন হই না। অফিস থেকে আসার সময় লাইট, ফ্যান, এসি বন্ধ করা প্রয়োজন। অফিস ও ঘর বাড়িতে নিজ হাতে সুইচ অফ করলে সম্মান চলে যায় না। আমি নিজ হাতে সুইচ অফ করি। অতিরিক্ত কোন লাইট জ্বললে তা বন্ধ করি। তিনি সকলকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।


মোঃ শহীদুজ্জামান চৌধুরীর সম্পূরক এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, কৃষিকাজে নিয়োজিতরা কৃষিসম্পর্কিত সব ধরনের সমস্যায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সমাধান নিতে পারে। কৃষিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে আমরা এখন প্রায় দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই কৃষিবান্ধব। বিনামূল্যে বই দিচ্ছি এতে কৃষকের ছেলে মেয়েরাই উপকৃত হচ্ছে। কৃষকদের প্রতি আমাদের সবচেয়ে যত্নবান হওয়া উচিৎ।


বেগম ফরিদুন্নাহার লাইলির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে দারিদ্র্য বিমোচন, মাথাপিছু প্রকৃত আয় উন্নীতকরণ, সঠিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ২০১৫ সালের মধ্যে জিডিপি ৮ ও ২০২১ সালের মধ্যে ১০ এ উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এছাড়া মাথাপিছু আয় দুই হাজার ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।


ফজলুল আজিমের (নোয়াখালী-৬) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় এ পর্যন্ত ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছি।


এম আব্দুল লতিফের (চট্টগ্রাম-১০) প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলো হলো- পুলিশে অতিরিক্ত ৩২ হাজার ৩১ জনকে নিয়োগদান, আইজিপিসহ বিভিন্ন পদের মানোন্নয়ন, পরিদর্শককে প্রথম ও উপ পরিদর্শককে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত, ঝুঁকি ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি, পুলিশের জন্য শতভাগ রেশনের ব্যবস্থা, ঝুঁকিভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি, উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, পাঠ্যসূচিতে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও মূলবোধ শিক্ষা সম্পৃক্তকরণ, টুরিজম, পর্যটন, ক্যাম্পাস ও শিল্প পুলিশ গঠন উল্লেখযোগ্য।


বজলুল হক হারুনের (ঝালকাঠি-১) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার দেশে গণতান্ত্রিক ও সুষম সমাজ প্রতিষ্ঠায় আইসিটি সম্প্রসারণ, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন, জাতীয় পরিচয় ব্যবস্থা ও কার্ড প্রণয়ন, ওয়ান স্টপ সেবা চালু, বাজেট ব্যয়ে স্বচ্ছতা, মুদ্রা পাচার রোধ, জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও শক্তিশালী  তথ্য অধিকার আইন অনুমোদন করেছে।


আমিনা আহমেদের (মহিলা আসন-২৩) প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন উভয় ক্ষেত্রেই আমরা বিভিন্ন ধরনের বাধা বা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। নতুন চিন্তা নিয়ে কাজ করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হতে হয় এটা সত্য। এক্ষেত্রে চারটি বাধা অতিক্রমের চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবিলা করছি সেগুলো হলো- তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের অভাব, দেশব্যাপী আইসিটি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির অভাব, জনসচেতনার অভাব ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব অন্যতম।


অপু উকিলের প্রশ্নের জবাবে স্পীকারকে লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন কি পর্যায়ে রয়েছে নিশ্চয় আপনি জানেন। যিনি প্রশ্ন করেছেন তিনি নারী আবার যিনি উত্তর দিচ্ছেন তিনিও নারী। এতেই প্রমাণিত হয় দেশে নারীর ক্ষমতায়ন কি পর্যায়ে রয়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারীরা এগিয়ে রয়েছে। সুপ্রীম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সর্বত্রই নারীর ক্ষমতায়নে আমরা সুযোগ করে দিয়েছি।


শহীদুজ্জামান চৌধুরীর (নওগাঁ-২) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পোশাক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য কল্যাণকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিকের পূর্বের মজুরি ৮২ শতাংশ বৃদ্ধি করে তিন হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৬৭ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি করে চার হাজার ১৫০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।’’