|
|
বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের প্রতিবেদন প্রকাশ
0দুশ্চিন্তা আরো আছে : ড. দেবপ্রিয়
স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে ২০১১ সালে বাংলাদেশ ১০ ধাপ পিছিয়ে গেছে। সূচক তালিকা ২০১০ সালে যেখানে অবস্থান ছিল ১০৮তম, এক বছরের ব্যবধানে তা ১১৮তম স্থানে অবনমন ঘটেছে। এর জন্য অবকাঠামোগত সুবিধার অপর্যাপ্ততা, দুর্নীতি এবং বিনিয়োগে অর্থপ্রাপ্তির সংকট এই তিনটি কারণকে প্রধানভাবে দায়ী করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে বিশ্বের ১৪৪টি দেশের সাথে একযোগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র তুলে ধরা হয়। ডব্লিউইএফ-এর সহযোগী হিসেবে বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাদের অফিসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সিপিডির পক্ষে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিপিডির ফেলো বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অবনমন। আগের বছরে বাংলাদেশ যেভাবে এগুচ্ছিল গত বছর তাতে ছন্দপতন ঘটেছে। আর্থিক খাত, বৃহৎ অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, শ্রম বাজার সক্ষমতা, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবসায়িক সব ক্ষেত্রে অবনমনের কারণে সামষ্টিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়েছে। অবকাঠামোগত জটিলতা সরকারের উদ্যোগ থোরাই। আয় বৈষম্য কমাতে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অলিখিত লেনদেন তথা দুর্নীতি বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচক পিছনের সারির দেশে উপনীত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সুশাসন, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে মানুষের আস্থা কমে গেছে। মৌল সূচকের প্রায় সব ক্ষেত্রেই অবনমন হয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধ কমে গেলেও ঘুষ-দুর্নীতি বেড়েছে ৬৭ শতাংশ এবং ৭০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের নৈতিক স্খলন হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ক্যান্সার উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলেও প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়। নানা কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগেও আগের বছরের চেয়ে ভাটা পড়েছে। ডব্লিউইএফ-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আমদানি ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত জটিলতা, শুল্ক-অশুল্ক বাধা, সীমান্ত পয়েন্টে দুর্নীতি, চুরি-ডাকাতি এবং অভ্যন্তরীণ কারিগরি দক্ষতার অভাব- এই পাঁচটি কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশ্ব প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে এবারও শীর্ষস্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। আগের বছরের দ্বিতীয় স্থানটি ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। তৃতীয় থেকে দশম স্থান অধিকারী দেশগুলো হচ্ছে- ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, হংকং ও জাপান। অবশ্য বাংলাদেশের মতো ভারত, পাকিস্তানের অবনমন ঘটেছে।
ড. দেবপ্রিয় সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার এতবড় অধঃপতন আমরা লক্ষ্য করিনি। এবার সবচেয়ে চিন্তার কারণ, শুধু বিশ্বের সাথেই নয় নিজেদের সাথেও প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় হেরে গেছি। প্রতিবেদন রচনায় অশগ্রহণকারী বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সরকার ও অর্থনীতির সংকট নিয়ে যেসব তথ্য দিয়েছেন সেগুলো সঙ্গতিপূর্ণ।
সিপিডির সাবেক এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, দুর্নীতি ও সুশাসনের ক্ষেত্রে অভাব সৃষ্টি হচ্ছে। বিনিয়োগে শ্লথগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশের উন্নয়নের গতিধারায় ছেদ ঘটেছে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা না থাকা, আর্থিক খাতে অনিয়ম এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা কমে যাওয়া- এই তিনটি কারণকে সূচক অবনমনের জন্য দায়ী করেন তিনি। রাজনৈতিক অস্থিরতা ব্যবসায়ী মহলের চিন্তা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এ থেকে উত্তরণে নীতি-নির্ধারণী মহল ও রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা ও ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে ড. দেবপ্রিয় সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক সোনালী ব্যাংক, পুঁজিবাজার ও পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারির প্রেক্ষিতে দুশ্চিন্তা আরো আছে। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কথা বলতে চাই না।

