Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2012, ২২ ভাদ্র ১৪১৯, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২৭০৮ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

মাওলানা সাঈদীর পক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী রাজ্জাক জানালেন তার ভাগ্নে বাবুল মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে গেছে

'৭১ সালের আশ্বিন মাসে ইব্রাহিম কুট্টি হত্যা ছাড়া নলবুনিয়া গ্রামে কোনো হত্যা লুণ্ঠন অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেনি

0 সাক্ষীর পরিচয় নিয়ে প্রসিকিউশনের আপত্তি ও বিতর্ক

শহীদুল ইসলাম : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর বিশ্ববরেণ্য মোফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী আব্দুর রাজ্জাক আকন বলেছেন, তার ভাগ্নে আব্দুল হালিম বাবুল এই ট্রাইব্যুনালে এসে সাঈদী সাহেবের মতো একটি ভাল লোকের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। এই অসত্য সাক্ষ্য দেয়ার কারণে আমার বড় বোন বাবুলের মা ঐ ছেলের ঘর থেকে রাগ করে বেরিয়ে তার দ্বিতীয় ছেলের বাসায় চলে গেছে এবং আমাকে সত্য কথা আদালতে এসে বলার জন্য অনুরোধ করেছে। ৮৫ বছর বয়স এবং অসুস্থ হওয়ার কারণে আমার বোন সাক্ষ্য দিতে আসেনি। সুস্থ থাকলে সে নিজেই আসতো। আব্দুর রাজ্জাক আকন আরো জানান, ১৯৭১ সালে বাবুলের বাড়িতে পাকসেনা, রাজাকাররা যায়নি, কোনো প্রকার লুট হয়নি, কেউ আগুনও দেয়নি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আশ্বিন মাসে আমাদের নলবুনিয়া গ্রামে একটিই ঘটনা ঘটেছিল আর তা হলো ইব্রাহিম কুট্টি হত্যা। ঐদিন ইব্রাহিম কুট্টির লাশ নৌকায় করে নিয়ে যাওয়ার সময় আজু হাওলাদারের বউ এবং তার ছেলে সাহেব আলীকে রাজাকাররা বেঁধে পাড়েরহাটে নিয়ে যায়। পরে আজু হাওলাদারের বউকে ছেড়ে দেয় এবং সাহেব আলীকে গুলী করে মেরে ফেলে। এই হত্যাকান্ডের ব্যাপারে ইব্রাহিম কুট্টির বউ ১৯৭২ সালে একটি মামলা করেছিল।

গতকাল সকাল পৌনে ১১টায় বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসে বসলে আব্দুর রাজ্জাক তার সংক্ষিপ্ত জবানবন্দি দেন। এডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তানভীর আল আমিন, আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ। জবানবন্দি শেষ হওয়ার পরে তাকে জেরা করেন সরকারপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। তবে জেরার শুরুতে সাক্ষীর পরিচয় নিয়ে আপত্তি তোলেন তিনি। হায়দার বলেন, যে সাক্ষীর নাম আগে দেয়া হয়েছিল তাতে লেখা ছিল, শুধু আব্দুর রাজ্জাক। আজ আব্দুর রাজ্জাক আকন নামে একজনকে এনেছে। আগে যার নাম দেয়া হয়েছে এই সাক্ষী সেই সাক্ষী নয়। জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, সাক্ষীর নিরাপত্তার খাতিরে আকন শব্দ বলা হয়নি। আমরা যে সাক্ষীর নাম দিয়েছি এবং যাকে মিন করেছি ইনিই সেই সাক্ষী। পরে আপত্তিসহকারেই জেরা করা হয়। তাজুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার বক্তব্যও রেকর্ডে রাখা হয়। এনিয়ে বিতর্ক ও মৃদু উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়।

পরে সৈয়দ হায়দার আলী প্রথমে বেলা পৌনে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত এবং মধ্যাহ্ন বিরতির পর বেলা ৩টায় আরো ১৫ মিনিট জেরা করেন। আজ বৃহস্পতিবার পুনরায় তার জেরা অনুষ্ঠিত হবে।

মাওলানা সাঈদীর পক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষীর জবানবন্দি নিম্নরূপ :

আমার নাম আব্দুর রাজ্জাক আকন। আমার পিতার নাম মৃত ইস্কান্দার আলী আকন। মায়ের নাম মৃত আকিমুননেছা। আমার বয়স ৬৫ বছর। আমার গ্রামের নাম নলবুনিয়া, থানা- জিয়ানগর, জেলা- পিরোজপুর। আমি কৃষি কাজ করি। আমরা ৮ ভাইবোন। সবার বড় বোন সাফিয়া খাতুন। একই গ্রামে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে তার বিয়ে হয়েছে। আমার ঐ বোনের ৩ ছেলে। তাদের নাম ১. আব্দুল হালিম বাবুল, ২. আব্দুস সালাম বাহাদুর ও ৩. আব্দুল করিম মধু।

আমি এই ট্রাইব্যুনালে আজ এসেছি মাওলানা সাঈদী সাহেবের পক্ষে সত্য সাক্ষ্য দেয়ার জন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে আমার ভাগ্নে আব্দুল হালিম বাবুলের বাড়িতে কোন পাক সেনা যায়নি, রাজাকার যায়নি, লুট হয়নি, আগুনও দেয়নি। এরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি। আব্দুল হালিম বাবুল এই কোর্টে এসে সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে অসত্য সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আব্দুল হালিম বাবুলের বয়স ছিল ৮/৯ বছর। এক বছর আগে শোনা গেল যে, আব্দুল হালিম বাবুল সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে অসত্য সাক্ষ্য দেবে। এটা শুনে তার মা তাকে বলেছিল তুমি এরূপ একজন ভাল মানুষের বিরুদ্ধে অসত্য সাক্ষ্য দেবে না। তার ভাই মধু ও বাহাদুর ও তাকে বলেছিল ভাইয়া! তুমি এরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না। তার উত্তরে সে বলে আমি সাক্ষী দিব। একথা শুনে তার মা রাগ করে তার বাড়ি থেকে বের হয়ে মেঝ ছেলে বাহাদুরের বাসায় ঢাকায় চলে আসে। তখন তার মা বলে আমি যদি সুস্থ থাকি তাহলে আমি নিজেই সাঈদী সাহেবের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে গিয়ে সত্য সাক্ষী দেব। আমাকে বলে, তুমি তো সব জানো। তুমি গিয়ে সত্য সাক্ষী দিয়ে আস। আমি অসুস্থ। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে আমাদের নলবুনিয়ায় একটি ঘটনাই ঘটেছিল। আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি হঠাৎ একদিন শেষ রাতে একটি আওয়াজ হয়। অনুমান করলাম এটা গুলীর শব্দ। তখন ফজরের টাইম হয়ে গেছে। আমি আযান দিয়ে নামায পড়ি। নামাযের পরে উত্তর দিকে রাস্তার পাশে যাই কি হয়েছে তা জানার জন্য। তখন দেখি উত্তর দিকে রাস্তার পাশে খালে নৌকায় করে ইব্রাহিম কুট্টির লাশ পারেরহাটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। নৌকায় দেখি কালাম চৌকিদার, আইয়ুব আলী চৌকিদার ও হাকিম মুন্সীকে। তারপর দেখি দূর থেকে আরও লোকজন খালের পাড় দিয়ে আসছে। তাদের মধ্যে দেখি দানেশ মোল্লা, সেকেন্দার সিকদার, মোসলেম মওলানা, রুহুল আমিন, মোমিনাল। আরও দেখি যে, আজু হাওলাদারের বউ এবং তার ছেলে সাহেব আলীকে বেঁধে নিয়ে আসছে এবং পারেরহাটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পরের দিন শুনি আজু হাওলাদারের বউ বাড়িতে ফিরে এসেছে এবং সাহেব আলীকে পাক সেনারা গুলী করে হত্যা করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শুনি যে, ইব্রাহিম কুট্টির বউ একটি মামলা করে। এটাই আমার বক্তব্য।

জনাববন্দী রেকর্ড করার পর ট্রাইব্যুনাল আব্দুর রাজ্জাক অকনকে জেরা করতে বলেন প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলীকে। তিনি বলেন, এই সাক্ষীর নাম দেয়া হয়নি। ইনি সেই সাক্ষী নন যার নাম দেয়া হয়েছে। জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ইনিই সঠিক ব্যক্তি। সাক্ষীর প্রটেকশনের জন্য আকন শব্দ দেইনি। শুধু আব্দুর রাজ্জাক নাম দিয়েছিলাম। আদালত তার সবমিশন গ্রহণ করেন এবং প্রসিকিউশনের আপত্তি রেকর্ডে রাখেন।

পরে জেরা করেন প্রকিসিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, যার বিবরণ নিম্নরূপ :

প্রশ্ন : আপনার বড় বোন বাবুলের মায়ের বর্তমান বয়স কত?

উত্তর : পঁচাশির উপরে।

প্রশ্ন : আপনার ভাই-বোনদের মধ্যে উনিই সবচেয়ে বড়?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : তার পরেই কি আপনি?

উত্তর : আমার উপরে আরও ৩ ভাই আছে বড়।

প্রশ্ন : আপনারা মোট কত ভাই?

উত্তর : মোট ৬ ভাই।

প্রশ্ন : ভাই-বোন মিলে কত জন?

উত্তর ’’ ৮ জন।

প্রশ্ন : আপনার বোনের বিয়ে হয়েছিল কোন বছর?

উত্তর : আমি বলতে পারব না, আমার আববা বিয়ে দিয়েছিল।

প্রশ্ন : আপনার বোনের বিয়ের সময় আপনার বয়স কত ছিল?

উত্তর : বলতে পারব না।

প্রশ্ন : বাবুলদের কি বোন আছে?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : এর মধ্যে বড় কে?

উত্তর : আব্দুল হালিম বাবুল।

প্রশ্ন : বাবুলের জন্ম কোন বছর হয়?

উত্তর : বাবুলের আগে ৪ জন হয়ে মারা গেছে। তার জন্ম কোন বছর হয় তা মনে নেই।

প্রশ্ন : এই ৪ বোন কোন কোন বছর মারা যায়?

উত্তর : আমি লিখে রাখি নাই।

প্রশ্ন : আপনি লেখা পড়া জানেন?

উত্তর : সাধারণ কিছু লেখা পড়া করেছি।

প্রশ্ন : বাবুলের মায়ের যখন বিয়ে হয় তখন আপনার ভগ্নিপতির বয়স কত ছিল?

উত্তর : জানা নেই।

প্রশ্ন : আপনার ভগ্নিপতি কবে মারা যান?

উত্তর : স্বাধীনের পরে।

প্রশ্ন : মারা যাওয়ার সময় তার বয়স কত ছিল?

উত্তর : মনে নেই।

প্রশ্ন : নলবুনিয়া গ্রাম কোন বরাবর।

উত্তর : উত্তর-দক্ষিণে লম্বা।

প্রশ্ন : বড় না ছোট গ্রাম?

উত্তর : মাঝারি। আধা মাইল লম্বা হবে।

প্রশ্ন : এই গ্রামে বাবুলদের বাড়ি কোন মাথায়?

উত্তর : উত্তর দিকে।

প্রশ্ন : গ্রামের দক্ষিণ মাথায় কার বাড়ি?

উত্তর : মকবুল মাস্টারের বাড়ি।

প্রশ্ন : মকবুল মাস্টার কি করেন?

উত্তর : উনি মাস্টারি করতেন। মারা গেছেন।

প্রশ্ন : যুদ্ধের সময় উনি কি করতেন?

উত্তর : মাস্টারি করতেন।

প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনি হাটবাজার করতেন?

উত্তর : মাঝে মধ্যে করতাম।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আশ্বিন মাসে আপনি কতবার পারেরহাট বাজারে গিয়েছেন।

উত্তর :  একবার।

প্রশ্ন : হাটের দিন গিয়েছিলেন না অন্য দিন?

উত্তর : হাটবারে।

প্রশ্ন : ঐ সময় কোন কোন বারে পারেরহাটে হাট বসতো?

উত্তর : রোববার, বৃহস্পতিবার।

প্রশ্ন : আশ্বিন মাসের আগে এবং পরেও হাটে গিয়েছেন।

উত্তর : গিয়েছি। তবে যুদ্ধের সময় হাটে কম গিয়েছি।

প্রশ্ন : কম গিয়েছেন কেন? কি সমস্যা ছিল?

উত্তর : পাক সেনা ও রাজাকারদের ভয়ে ঐ সময় কম গিয়েছি।

প্রশ্ন : রাজাকাররা কি করতো?

উত্তর : তারা লুটতরাজ করতো।

প্রশ্ন : বাড়িঘরে আগুন দিতো?

উত্তর : হোগলাবুনিয়া গ্রামে আগুন দিয়েছিল শুনেছি।

প্রশ্ন : তারা কাদের বাড়িতে আগুন দিতো?

উত্তর : হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে আগুন দিতো।

প্রশ্ন : কোন মুসলমানের বাড়িতে আগুন দেয়ার কথা শোনেননি।

উত্তর : শুনেছি।

প্রশ্ন : কোন কোন মুসলমানদের বাড়িতে আগুন দিতো?

উত্তর : খালের ওপারে শংকরপাশা গ্রামে খসরু মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে আগুন দিয়েছিল। তার বাড়ির পাশে আরো একটি বাড়িতেও আগুন দিয়েছিল। তার নাম মনে নেই।

প্রশ্ন : আপনাদের বাড়িতে কোন মুক্তিযোদ্ধা ছিল?

উত্তর : একজন থাকতো তার নাম মোবারক।

প্রশ্ন : আপনার ভগ্নিপতি কি মুক্তিযোদ্ধা ছিল?

উত্তর : সে ঘোর আওয়ামী লীগ ছিল।

প্রশ্ন : উনি কি করতেন?

উত্তর : তিনি পেশার মোহরান ছিলেন। একবার ইউনিয়ন কাউন্সিলের মেম্বরও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

প্রশ্ন : জুন মাসে কি বাবুলের বাবা বাড়িতে থাকতেন?

উত্তর : বাংলায় বলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে আমি বাবাকে নিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে পালিয়ে বেড়াতাম।

প্রশ্ন : কোথায় পালাতেন?

উত্তর : আমাদের গ্রামসহ অন্য গ্রামে বিভিন্ন বাড়িতে।

প্রশ্ন : বাবুলের পিতা আওয়ামী লীগের কি ছিল?

উত্তর : স্থানীয় নেতা ছিল। কি পোস্ট তা বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আপনি কখনো রাজাকার ক্যাম্পে গিয়েছেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : আপনার নামে কেউ রাজাকার ছিল?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : মুক্তিযোদ্ধা ছিল?

উত্তর : জি, ছিল। উত্তর সাইডে সত্তার নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

প্রশ্ন : মুক্তিযোদ্ধা খসরুর বাড়ি থেকে আপনার বাড়ি কোন দিকে কত দূরে?

উত্তর : খালের এপাড়-ওপাড়। ৩/৪শ গজ দুরত্ব।

প্রশ্ন : আপনি কখনো আর্মি ক্যাম্পে গিয়েছেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : আর্মি ক্যাম্প ছিল?

উত্তর : পারেরহাটে রাজাকার ক্যাম্প ছিল। সেখানে পাক সেনারা আসতো।

প্রশ্ন : বাবুলদের বাড়িতে এখন ঘর ক'টা আছে?

উত্তর : ৫টি।

প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের সময় ঐ বাড়িতে ক'টি ঘর ছিল?

উত্তর : ৪টি ঘর ছিল।

প্রশ্ন : আপনারা দিনের বেলা না রাতে পালাতেন?

উত্তর : রাজাকারদের চাপ ছিল না বিধায় পালানো লাগতো না।

প্রশ্ন : আপনার বিবাহের তারিখ মনে আছে?

উত্তর : স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালে বিয়ে করি।

প্রশ্ন : আপনি কবে ঢাকায় এসেছেন?

উত্তর : গতকাল এসেছি।

প্রশ্ন : আপনাকে কে নিয়ে এসেছে?

উত্তর : সাঈদী সাহেবের শ্যালক নান্না নিয়ে এসেছে।

প্রশ্ন : বাবুলের মা কি এখন সুস্থ?

উত্তর : না, বয়স হয়েছে। কোন রকমে চলাফেরা করেন।

প্রশ্ন : উনি বেশির ভাগ সময় কোথায় থাকেন?

উত্তর : ঢাকায়।

প্রশ্ন : এখন কোথায়  আছে?

উত্তর : এখন আমার বাড়িতে আছে।

প্রশ্ন : কবে গেছে আপনার বাড়িতে?

উত্তর : ঈদের সময় গেছে।

প্রশ্ন : ঢাকা থেকে কিভাবে গেছেন?

উত্তর : লঞ্চের কেবিনে গেছেন।

প্রশ্ন : ঢাকায় আসলে কোথায় থাকেন?

উত্তর : ছেলের ধানমন্ডির বাসায়।

প্রশ্ন : লঞ্চঘাট আপনার বাড়ি থেকে কতদূর?

উত্তর : ৪/৫ মাইল দূরে।

প্রশ্ন : বাবুলের মা রাগ করে বাবুলের ঘর থেকে বের হয়ে গেছে-কথাটি আপনি সত্য বলেননি।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : তার মা আমাকে বলে আমি সুস্থ না। তুমি গিয়ে সত্য সাক্ষী দিয়ে আসো। এই কথাগুলো আপনি অসত্য বলেছেন।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : বাহাদুর কি করে?

উত্তর : ব্যবসা করে ঢাকায়।

প্রশ্ন : তার বয়স কত হবে এখন?

উত্তর : চল্লিশের মত হবে।

প্রশ্ন : আরেক ভাগ্নে মধু'র বয়স কত হবে?

উত্তর : ৩৫ বছর হবে।

প্রশ্ন : মধু এবং বাহাদুর মুক্তিযুদ্ধের সময় কোথায় থাকতো?

উত্তর : বাড়িতে থাকতো।

প্রশ্ন : আশ্বিন মাসের ঐ দিন ছাড়া কি আরো গুলীর আওয়াজ শুনেছেন?

উত্তর : জি, শুনেছি।

প্রশ্ন : গুলীর আওয়াজ শুনে কি কারো বাড়িতে দিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন?

উত্তর : না, যাইনি।

প্রশ্ন : তাহলে তো বলতে পারবেন না যে কারা গুলী করেছিল?

উত্তর : জানি না।

প্রশ্ন : বাদুরা ও চিথলিয়া গ্রাম চেনেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনাদের বাড়ি থেকে পারেহাট কতদূরে?

উত্তর : দেড় থেকে ২ মাইল।

প্রশ্ন : খালটি উত্তর-দক্ষিণে কতটুকু?

উত্তর : উত্তর দিকে পিরোজপুরের দিকে কচা নদীতে গেছে।

প্রশ্ন : জ্যৈষ্ঠ মাসে পারেরহাট ক'বার গিয়েছেন?

উত্তর : সম্ভবত একবার।

প্রশ্ন : বাবুলের বাবা কি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কখনো পারেরহাট বাজারে গিয়েছিল?

উত্তর : যায়নি।

প্রশ্ন : আপনার বোন প্রথম কবে ঢাকায় আসে?

উত্তর : এর আগেও এসেছে। প্রথম কবে আসে তা বলতে পারব না।

প্রশ্ন : ৪/৫ বছর আগেও উনি ঢাকায় ছেলের বাসায় বেড়াতে আসেন।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আপনি যখন পারেরহাট বাজারে গিয়েছেন তখন কেউ কি আপনাকে বিরক্ত করেছিল?

উত্তর : কারো সাথে সাক্ষাৎও হয়নি, কেউ ভয়-ভীতিও দেখায়নি। শেষ বেলায় আমি বাজারে যেতাম।

প্রশ্ন : আপনি কি সব সময়ই শেষ বেলায় বাজারে যেতেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : যারা ভয়-ভীতি দেখাতো তারা কারা?

উত্তর : রাজাকাররা।

প্রশ্ন : আপনি কি জানতেন যে, রাজাকাররা কখন থাকে কখন থাকে না?

উত্তর : জানতাম না।