Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2012, ২২ ভাদ্র ১৪১৯, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৩৪ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

সাগর-রুনি হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ বিভিন্ন দাবি

তিনদিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক ৪টি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দু'দিনের অবস্থান ও সমাবেশ, এটিএন বাংলার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান সমাবেশসহ তিনদিনের নতুন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারী ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের গ্রেফতার দাবিতে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ১১টায় এটিএন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও সমাবেশ এবং আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবারের মধ্যে তদন্ত শেষ করে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে তা না হলে ২৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান সমাবেশ। এ সমাবেশগুলোতে সকল শ্রেণীর পেশাজীবী, রাজনীতিক ও সুশীল সমাজসহ অন্যদ্যের একাত্মতা পোষণ করে অংশগ্রহণেরও আহবান জানানো হয়। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিসহ অপরাপর সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচারের দাবি, মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ৭ মাস ধরে চলা আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই নতুন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী। এর আগে সাংবাদিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ঐক্যবদ্ধভাবে এ আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, গত ৭ মাস যাবত সাগর-রুনির হত্যার পর এবং এর আগে যে সকল সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজের আন্দোলন চলছে। এসব ঘটনা জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। তাতে আমাদের কথা বলার চেষ্টা করেছি। জড়িতদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানিয়ে আসছি। সৌদী কূটনীতিক খালাফ, ডাঃ নিতাই হত্যাসহ আলোচিত, আলোড়িত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের ব্যাপারে তৎপর হয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। কিন্তু দুঃখ, উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করাছি যে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ওইসব মামলার আসামীদের গ্রেফতার সম্ভব হচ্ছে যখন তখন শুধুমাত্র সাংবাদিক হত্যাকান্ডের সুরাহা হচ্ছে না, সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে না। জড়িতদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করি। এ দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন শক্তির দ্বারা হত্যা, নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। তাই দুঃখ ও ক্ষোভ হচ্ছে কেন একজন সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতনের বিচার হবে না। আমরাতো একটি সম্প্রদায়। দেশের সংবিধান অনুসারেই দায়িত্ব পালন করি। তাহলে কেন রাষ্ট্রের কাছ থেকে বিচার পাব না?

তিনি বলেন, সংবাদপত্র এবং গণমাধ্যমে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে, সাংবাদিক নির্যাতনের অবসান ঘটাতে হবে। আর এসব দাবি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ীই করছি। সংবিধান অনুসারেই করছি। এসব দেশের গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের জন্য চাইছি, মুক্ত গণমাধ্যম থাকলে গণতন্ত্র সুরক্ষা পাবে। তাই সংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রদান এবং বিচারের অধিকার অত্যাবশ্যকীয়। তিনি দাবি করেন সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে করতে হবে।

বিএফইউজে সভাপতি বলেন, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান সাগর-রুনি সম্পর্কে মানহানিকর কথা বলেছেন, তার কাছে তথ্য-উপাত্ত আছে বলে জানিয়েছেন, এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে অশালীন বক্তব্য দিয়েছেন। এখন আমাদের দাবি তার কাছ থেকে তথ্য উদ্ধার করে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হোক। র‌্যাব আমাদের এ দাবি উপেক্ষা করে তাকে জামাই আদরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কোন বিত্তের কারণে তাকে জামাই আদরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তা জাতি আজ জানতে চায়। তিনি সাংবাদিক সমাজের এ আন্দোলনের বিপরীতে যারা অবস্থান নেবেন তাদেরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে উল্লেখ করেন।

বিএফইউজে সভাপতি বলেন, দেশের বিভিন্ন চ্যানেল ও পত্রিকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে না। চাকরিচ্যুতির ঘটনাও ঘটছে। এসবের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। তিনি সাগর-রুনির হত্যার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবকে উদ্দেশ করে বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। তারা যত ক্ষমতাবানই হোন না কেন আমরা আর জজ মিয়ার নাটক দেখতে চাই না। প্রধানমন্ত্রীও ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাবান হলেও রেহাই নেই। তার এ ঘোষণার বাস্তবায়ন দেখতে চাই। তিনি বলেন, ডিবির ব্যর্থতা, র‌্যাবের দীর্ঘসূত্রতার কারণে সরকারের সদিচ্ছা ব্যাহত হয় তা দেখতে চাই না। যদি কারো ব্যর্থতা ঘটে তবে তাদের ব্যর্থতার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আদালতকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে যাতে করে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে হত্যাকারীদের গ্রেফতার সম্ভব হয়। তিনি বলেন, সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত আমাদের ক্ষোভ প্রশমন হবে না, আন্দোলনও থামবে না। রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে যাবই আমরা।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএফইউজে'র মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আব্দুল শহিদ ও ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন ও শাবান মাহমুদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর সভাপতি রুহুল আমিন গাজী সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বর্তমান প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। সাগর-রুনিসহ সকল সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করা, স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানের দাবিসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ৭ মাস যাবত আন্দোলন করে আসলেও কোন মাধ্যম থেকে এ সকল দাবির প্রতি সাড়া পাওয়া যায়নি। সাগর-রুনির মামলার তদন্ত নিয়ে তদন্ত সংস্থা র‌্যাব বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা বলছে। সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু আলোচিত, আলোড়িত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলেও ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওইসব হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে। তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, সাগর-রুনির ক্ষেত্রে এমন কি ঘটনা ঘটলো যে এখন পর্যন্ত তাদের খুনিদের কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা একের পর এক হত্যা-নির্যাতনের শিকার হবে আর এসবের সাথে যারা জড়িত তারা গ্রেফতার হবে না এটা এমন একটি সভ্য দেশে হতে পারে না। এমনটা মানা যায় না।

বিএফইউজে সভাপতি বলেন, আমরা মানুষের সুখ-দুঃখের কথা বলবো, তাদের কথা লিখবো কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনবে না এটাতো সাংবাদিক সমাজ রাষ্ট্রের কাছ থেকে আশা করে না। তিনি সাংবাদিকদের ওপর হামলা-নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, পুলিশ নয় শুধু আমরা বিভিন্নমুখী মাস্তানদের হামলা-নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। আমরাতো কোন ঘটনা ঘটাই না, যেসব ঘটনা ঘটে তা শুধু লেখার মাধ্যমে তুলে ধরি মাত্র।

তিনি সাগর-রুনির হত্যা মামলা নিয়ে র‌্যাবের তদন্তের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, যার কাছে এই হত্যাকান্ডের তথ্য উপাত্ত আছে বলে দাবি করা হয়েছে সেই মাহফুজুর রহমানকে র‌্যাব জিজ্ঞাসাবাদের নামে এটিএন কার্যালয়ে গিয়ে জামাই আদর করেছে। অথচ নির্দোষ অসহায় কলেজ ছাত্র লিমনকে নিয়ে র‌্যাব নিষ্ঠুর খেলায় মেতে ওঠেছে। একের পর এক অমানবিক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আজকে যারা সাগর-রুনির মামলার তদন্তের দায়িত্বে আছেন তাদের সাথে না আবার ডিবির দ্বনদ্ব শুরু হয়ে যায় কখন এই আশঙ্কায় আছে সাংবাদিক সমাজ। তিনি র‌্যাবের ঢিমেতালের তদন্তের সমালোচনা করে বলেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলা তদন্তের নামে সময় ক্ষেপণ করে চির বিদায়ের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। একজন সাংবাদিক বেঁচে থাকলেও হত্যাকারীদের গ্রেফতারে বাধ্য করা হবেই। তাদের গ্রেফতার করতে হবেই হবে।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, সাগর-রুনির হত্যার ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত, মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিক সমাজ আন্দোলন থেকে বিরত থাকবে না। থাকতে পারে না। বুঝিয়ে দেয়া হবে সাংবাদিকদের হত্যা, নির্যাতন করে কেউ পার পেতে পারবে না। এমন আন্দোলনই রচনা করবে ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ। কারণ আমরাও একটি গোষ্ঠী-সম্প্রদায়। অন্যরা কঠোর কর্মসূচি দিতে পারলে আমরা কেন পারবো না।