|
|
মুজাহিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষীর জেরা অব্যাহত
শাহেদ মতিউর রহমান : জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী শাহরিয়ার কবিরের জেরা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল তার জেরা রেকর্ড করেন। গতকাল সাক্ষীকে জেরা করেন ডিফেন্স পক্ষের অন্যতম সিনিয়র আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার তাকে আরো জেরা করা হবে।
গতকাল জেরার এক পর্যায়ে সাক্ষী শাহরিয়ার কবির জামায়াতে ইসলামীকে সংবিধান বিরোধী একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আখ্যা দেয়ার চেষ্টা করলেও জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে আজ পর্যন্ত জামায়াত কিভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করছে বা বিরোধিতা করছে তার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী তাকে প্রশ্ন করেন দেশ স্বাধীনের পরে সব কটি জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী দেশের সংবিধান মেনেই অংশ নিয়েছে। এমনকি ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীরা অংশ নিয়ে অনেকে বিজয়ী হয়ে দেশের সংবিধান অনুযায়ীই শপথ নিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ করছে।
ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী আরো প্রশ্ন করেন, ২০০১ সালে চারটি দলের জোটগতভাবে সরকার গঠনেও জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আমীর মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল (এই মামলার আসামী) আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ জোট সরকারের মন্ত্রিসভার অন্যতম দু'জন সদস্য ছিলেন এবং তারাও সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সাথেই পালন করেছেন। মন্ত্রী থাকাকালে তারা সংবিধান বিরোধী কোনো কাজও করেননি। দেশ এবং জনগণের কল্যাণে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি পালনে জামায়াতের এই মন্ত্রীদ্বয় সর্বদা সচেষ্ট থেকেছেন।
এ বিষয়ে শাহরিয়ার কবিরের জবাব চাইতে চাইলে তিনি বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে পুলিশ দিয়ে আমাকে গ্রেফতার ও নির্যাতন করিয়ে তারা তাদের সেই শপথ ভঙ্গ করেছেন। পরে অবশ্য শাহরিয়ার কবির নিজেই স্বীকার করেছেন যে, জামায়াতের এই দুই মন্ত্রী তদানীন্তন জোট সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন না। এছাড়া যে মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল ঐ মামলার বাদি বা অভিযোগকারী কিংবা এজাহার গ্রহণকারীও এই দুই মন্ত্রী ছিলেন না। তাই তার উপর পুলিশের নির্যাতনের জন্য জামায়াতের দুই মন্ত্রী শুধু নন, ঐ সময়কার পুরো সরকারই প্রকৃত অর্থে দায়ী ছিল। শাহরিয়ার কবির বলেন, জোট সরকার ভালমন্দ যা কিছু করেছে তার দায়ভার তাদেরকেও নিতে হবে।
ধর্মভিত্তিক ইসলামী দল বা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি এদেশে নিষিদ্ধ করার দাবি এবং এর জন্য আন্দোলন পরিচালনা করার কথাও গতকাল জেরাতে স্বীকার করেছেন সাক্ষী শাহরিয়ার কবির। এমনকি জামায়াতে ইসলামীকে যাতে নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন না দেয়া হয় সে জন্যও তিনি নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনে শাহরিয়ার কবিরের এই আবেদন ছিল মৌখিক বলেও তিনি স্বীকার করেন। তিনি আইনজীবীর জেরার জবাবে আরো বলেন, আমরা জামায়াতের বিরোধী, মৌলবাদের বিরোধী। তবে ধর্মের বিরোধী নই। আমাদের মতে ধর্মকে রাজনীতিতে যুক্ত করে ধর্মকে কলুষিত করা উচিত নয়।
ভাষা আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা এবং জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের ভূমিকা নিয়ে ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবীর জেরার জবাবে সাক্ষী শাহরিয়ার কবির বলেন, ভাষা আন্দোলন শুরু হলে ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে সেই সময়ের জি এস গোলাম আযম (জামায়াতের সাবেক আমীর) জিন্নাহ সাহেবের কাছে মানপত্র দিয়েছেন। কিন্তু ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা রাখার জন্য গোলাম আযম পরবর্তীতে ভুল স্বীকারও করেছেন। তবে কবে কোথায় গোলাম আযম তার ভুল স্বীকার করেছেন তার কোনো জবাব দিতে পারেননি শাহরিয়ার কবির। শুধু বলেছেন বদরুদ্দীন উমর লিখিত একটি বইয়ে এটা লেখা আছে। বইটির নামও তিনি বলতে পারেননি।
গতকালের জেরার পূর্ণ বিবরণ তুলে ধরা হলো : প্রশ্ন : ১৯৬৪ সালে আইয়ুব খান জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল কি?
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যাবতীয় কর্মকান্ড নিয়ে গবেষণা করেছেন কি?
উত্তর : হ্যাঁ, করেছি।
প্রশ্ন : ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর আগে অবিভক্ত পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামী কখনো নিষিদ্ধ হয়েছিল কি?
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে আন্দোলন হয়েছিল কি?
উত্তর : জি, হ্যাঁ।
প্রশ্ন : পূর্বপাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সরকারি দলের নেতা কে ছিলেন?
উত্তর : বই না দেখে বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : ঐ সময়ে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন প্রথমে আবদুল মালেক উকিল সাহেব এবং পরে ছিলেন আসাদুজ্জামান খান। তারা উভয়েই আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন।
উত্তর : বই না দেখে বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : এই উভয় বিরোধী দলের নেতার সাথেই উপনেতা ছিলেন জামায়াতের মাওলানা আবদুস সুবহান।
উত্তর : এটাও বই না দেখে বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : স্বাধীনতার পূর্বে বিরোধী দলের সমন্বয়ে আন্দোলন শুরু হলে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গ্রেফতার হলে তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করেন উল্লেখিত এই নেতৃবৃন্দ।
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শাহ আজিজুর রহমান। তিনি এর আগে আইয়ুব খানের পূর্বে যে সংসদ ছিলো তাতে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন।
উত্তর : মনে পড়ছে না।
প্রশ্ন : এই মামলার আসামী মুজাহিদ সাহেবের পিতার নাম জানা আছে কি?
উত্তর : এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। বইয়ে লেখা আছে।
প্রশ্ন : তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন এটা জানেন?
উত্তর : না, জানি না।
প্রশ্ন : মাওলানা আবদুর রহীম পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আমীর ছিলেন জানেন?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : তিনি ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : মাওলানা আবদুর রহীম সাহেবের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের সেক্রেটারি কে ছিলেন?
উত্তর : জানি না।
প্রশ্ন : আবদুর রহীম সাহেব দেশ স্বাধীনের পূর্ব পর্যন্ত জামায়াতের পূর্ব পাকিস্তানের নায়েবে আমীর ছিলেন।
উত্তর : জানি না। তবে শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছিলেন।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের দিনে তিনি বাংলাদেশে ছিলেন কি?
উত্তর : জানি না।
প্রশ্ন : আপনাদের গণ-কমিশনে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।
উত্তর : হ্যাঁ, সঠিক।
প্রশ্ন : ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে আবদুর রহীম দেশে ফিরে আসার পর দালাল আইনে বা অন্য কোনো আইনে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি।
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৭৯ সালে মুসলিম লীগ (সবুর) ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের জোটের প্রার্থী হয়েছিলেন?
উত্তর : হ্যাঁ, সঠিক।
প্রশ্ন : বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাতে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ছিল না।
উত্তর : না ছিলো না। প্রয়োজন ছিল না। পরে বলেন, স্বায়ত্বশাসনের কথা বলেছিলেন।
প্রশ্ন : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের নাম পরিবর্তনের দাবি কখনো করেনি।
উত্তর : স্বাধীনতা ঘোষণার আগে করেননি।
প্রশ্ন : '৭০ সালের নির্বাচনে এলএফও-এর অধীনে হয়েছিল?
উত্তর : হ্যাঁ, সঠিক।
প্রশ্ন : ‘এলএফও'তে কোথায় নির্বাচনের পরে সরকার কে গঠন করবে তা উল্লেখ ছিল না।
উত্তর : হ্যাঁ, সঠিক।
প্রশ্ন : ‘এলএফও'তে উল্লেখখিত যে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংবিধান রচনায় ব্যর্থ হলে জাতীয় পরিষদের বিলুপ্তি ঘটবে।
উত্তর : হ্যাঁ, সঠিক।
প্রশ্ন : ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার বা প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতার অংশিদার ছিল না।
উত্তর : হ্যাঁ, সঠিক। পরে বলেন, পাকিস্তানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত করতে ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন : পাকিস্তানকে ১৯৫৬ সালে সাংবিধানিকভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
উত্তর : হ্যাঁ, সঠিক।
প্রশ্ন : যে গণপরিষদ কর্তৃক ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধান রচিত হয়েছিল সেখানে জামায়াতের কোনা সদস্য ছিল না।
উত্তর আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বা শেখ মুজিব, মাওলানা মওদুদী বা তার দল জামায়াতের প্রভাবে রাজনীতি করতেন না।
উত্তর : হ্যাঁ, সঠিক।
প্রশ্ন : ভাষা আন্দোলন যখন শুরু হয় সেই আন্দোলনের বিরোধিতা করে জামায়াতে ইসলামী কখনো বিবৃতি দেননি।
উত্তর : হ্যাঁ, সঠিক।
প্রশ্ন : ১৯৪৮ সালে যখন ভাষা আন্দোলন শুরু হয় তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন সমরেশ বসু।
উত্তর : হ্যাঁ, সঠিক।
প্রশ্ন : ১৯৪৮ সালে জিন্নাহ সাহেবের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে মানপত্র দেয়া হয়। এই মানপত্র পাঠ করেছিলেন ছাত্র সংসদের জি এস গোলাম আযম।
উত্তর : হ্যাঁ, সঠিক। তবে পরে গোলাম আযম ভুল স্বীকার করেছেন।
প্রশ্ন : গোলাম আযমের ভুল স্বীকারের কোনো অডিও বা ভিডিও আছে কি আপনার কাছে?
উত্তর : সে সময়ে ভিডিও ব্যবস্থা ছিল না। অডিও আছে কি না জানি না। তবে বদরুদ্দীন উমরের গবেষণায় বিষয়টি উল্লেখ আছে।
প্রশ্ন : গোলাম আযম সাহেব কবে কোথায় ভুল স্বীকার করে বক্তব্য দিয়েছেন?
উত্তর : বই পড়ে বলতে হবে।
প্রশ্ন : কোন কোন সংবাদপত্রে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে?
উত্তর : আমার যতদূর মনে পড়ে বদরুদ্দীন উমর দৈনিক আজাদের উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
প্রশ্ন : ঐ উদ্ধৃতির সংখ্যাটি ১৯৭১ সালের আগে না পরে?
উত্তর : ১৯৭১ সালের আগে।
প্রশ্ন : ঐ উদ্ধৃতিতে সংবাদদাতার নাম আছে কি?
উত্তর : বই দেখে বলতে পারবো।
প্রশ্ন : বদরুদ্দীন উমরের বইটির নাম কি?
উত্তর : বইটির নাম মনে পড়ছে না। চাইলে বইটি দিতে পারবো।
প্রশ্ন : বদরুদ্দীন উমর সাহেবের সাথে আপনার পরিচয় আছে?
উত্তর : হ্যাঁ আছে। তিনি বয়সে আমার চেয়ে অনেক বড়।
প্রশ্ন : আপনার গবেষণা বা প্রয়োজনে দৈনিক আজাদ পড়তেন?
উত্তর : হ্যাঁ পড়তাম। সর্বশেষ ৬০-এর দশকে পড়েছি।
প্রশ্ন : বদরুদ্দীন উমরকে ভাষা আন্দোলনের প্রধান গবেষক বলেছেন এই প্রধান উপাধীটা কি সরকারের দেয়া?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না শিক্ষক ছিলেন?
উত্তর : ছাত্র ছিলেন।
প্রশ্ন : গোলাম আযম সাহেব এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে তার জড়িত থাকার বিষয়টি এবং ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যারা ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার করছে তারই অংশ হিসেবে এই মিথ্যা অপপ্রচার করা হয়েছে।
উত্তর : সঠিক নয়।
প্রশ্ন : জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে বাদ দেয়ার জন্য কোন বিবৃতি বা আন্দোলনও করেছিল কি?
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : পাকিস্তান সৃষ্টির পর রাজনৈতিক দলগুলো কয়েকটি ভাগে বিভক্ত ছিল। জাতীয়তাবাদী ইসলামপন্থী ও কমিউনিজম বা সোশালিজম।
উত্তর : হ্যাঁ সঠিক।
প্রশ্ন : কমিউনিজম মতবাদে সৃষ্টি কর্তাকে বিশ্বাস করে না।
উত্তর : হ্যাঁ সঠিক।
প্রশ্ন : আপনি এবং আপনার সংগঠন জামায়াতে ইসলামী বা ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করতে আন্দোলন করছেন।
উত্তর : আমরা মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, ধর্ম ব্যবসায়ীদের ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য আন্দোলন করছি। আমরা মনে করি ধর্ম পবিত্র বিষয়। ধর্মকে রাজনীতিতে এনে কলুষিত করা উচিত নয়। আমরা ধর্মের বিরোধী নই আমরা জামায়াতের বিরোধী।
প্রশ্ন : আপনি বা আপনার সংগঠন কমিউনিজম বিশ্বাসী কোন দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ চেয়ে কোন বিবৃতি দেননি বা আন্দোলন করেননি।
উত্তর : না করেনি। কারণ এটা সংবিধান বিরোধী এবং গণতন্ত্রের চেতনার বিরোধী। '৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় কমিউনিস্টরাও অংশ নিয়েছিল।
প্রশ্ন : রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে নিবন্ধিত না করার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন?
উত্তর : আবেদন করিনি তবে মৌখিকভাবে বলেছিলাম। আমি এবং আমাদের সংগঠন নির্বাচন কমিশনে দেখা করে বলেছিলাম জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধীদের দল তারা বাংলাদেশের সংবিধান মানে না।
প্রশ্ন : জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৬ সালে নির্বাচিত হয়ে সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়ে কাজ করছেন।
উত্তর : এটা জামায়াতের শঠতা। কারণ তারা দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ম অনুচ্ছেদের বিরোধী। সংবিধানের মধ্যে জনগণের সার্বভৌমের কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন : ২০০১ সালে নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল বর্তমান মামলার আসামী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন এবং তারা সংবিধান বিরোধী কোন কাজ করেননি।
উত্তর : আমি তা মনে করি না। তারা মন্ত্রী হয়েছিলেন সত্য তবে তারা সংবিধান মেনে কোন কাজ করেছেন তা আমি মনে করি না। কারণ আমাকে গ্রেফতার করে তারা যে আচরণ করেছেন তা তাদের শপথের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।
প্রশ্ন : নিজামী সাহেব বা মুজাহিদ সাহেব ঐ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন না।
উত্তর : হ্যাঁ সঠিক।
প্রশ্ন : আপনার বিরুদ্ধে এই দুই ব্যক্তি মামলার বাদী, অভিযোগকারী বা এজাহারকারী ছিলেন না।
উত্তর : না ছিলেন না তবে সরকার বাদী ছিলো। সরকার ভাল-মন্দ যা করেছে তার দায় এ দু'জনকেও নিতে হবে।
প্রশ্ন : তাহলে আপনি বলতে চাইছেন ঐ সরকারের পুরো মন্ত্রিসভা সংবিধান বিরোধী কাজ করেছে।
উত্তর : হ্যাঁ। পুরো সরকার।
প্রশ্ন : ঐ মন্ত্রিসভার অন্য মন্ত্রীরাও একইভাবে সংবিধান লংঘন করেছে?
উত্তর : জামায়াত যে অর্থে সংবিধান বিরোধী অন্যরা সেই অর্থে বিরোধী নয়।
প্রশ্ন : সংবিধানের মৌলিক নীতিমালা কি পরিবর্তনযোগ্য?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : মৌলিক নীতিমালায় ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোন কাজ করা সংবিধান বিরোধী কি না?
উত্তর : সংবিধান কিভাবে কাজ করবে তা সংবিধানেই বলা আছে।
প্রশ্ন : রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কল-কারখানা বিরাষ্ট্রীয়করণ সংবিধান বিরোধী কি না?
উত্তর : না। ১৯৭২ সালের সংবিধানের সমাজতন্ত্রের ধারণা ও কমিউনিজমের ধারণা এক নয়।

