Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2012, ২২ ভাদ্র ১৪১৯, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১২৮২ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

১১তম সাক্ষীর জেরাকালে বললেন সালাহউদ্দিন

আমার নাম সাকা চৌধুরী হলে বঙ্গবন্ধুর নাম সংক্ষেপে শেমু রহমান হতে পারতো

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি নেতা সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার নিজের নাম বিকৃত করে সাকা চৌধুরী বলায় তীব্র আপত্তি উত্থাপন করে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম যদি সংক্ষিপ্ত করে শেমু রহমান বলা হয় তখন কি দাঁড়াবে। সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ১১তম সাক্ষী এসএম মাহফুজুর রহমানের জেরার সময় এই প্রসঙ্গের অবতারণা হয়। সাক্ষীর জবানবন্দীর একটি জায়গায় সালাহউদ্দিন  কাদের চৌধুরীর নাম সাকা চৌধুরী উল্লেখ থাকায় তার আইনজীবী এডভোকেট আহসানুল হক হেনা সাক্ষীকে জিজ্ঞেস করেন যে, ১৯৭৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিটি পার্লামেন্ট নির্বাচনেই তিনি এমপি হয়েছেন কি না। হ্যাঁ সূচক জবাব দিলে এডভোকেট হেনা জিজ্ঞেস করেন ১৯৭৯ সালের আগে কারো মুখে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম সাকা চৌধুরী শুনেছেন কি না। এই প্রশ্নের উত্তর গ্রহণ না করে ট্রাইব্যুনাল থেকে বলা হয় সাংবাদিকরা লেখার সময় সংক্ষিপ্ত করে সাকা চৌধুরী লিখে থাকেন। আপনি এ প্রসঙ্গ আনলেন কেন? এডভোকেট হেনা বলেন, সাক্ষী তার জবানবন্দীতে না বললে আমিও তা আনতাম না। এ সময় আসামীর কাঠগড়ায় থাকা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম যদি শেমু রহমান বলা হতো তা হলে কেমন হতো। এটা তো কেউ বলেনি। বিচারকরা বলেন, সেভাবে তো কখনো আসেনি। তবে প্রতিটি মানুষের নামই তার কাছে প্রিয়। কারো নামই বিকৃত করা উচিত নয়। যার যে নাম তাই বলা উচিত। এই মন্তব্যের পর এ প্রসঙ্গের অবসান ঘটে। পরে পুনরায় জেরা শুরু হয়। গতকাল বেলা সোয়া ৩টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত ১ ঘণ্টা জেরা করা হয় এসএম মাহফুজুর রহমানকে। আজ পুনরায় তার জেরা অনুষ্ঠিত হবে।


গতকালের জেরার উল্লেখযোগ্য বিবরণ নিম্নরূপ :


প্রশ্ন : কক্সির বয়স কত?


উত্তর : সে আমার থেকে ৩ বছরের বড়।


প্রশ্ন : তার ঠিকানা ১০ কাজেম আলী রোড।


উত্তর : জি।


প্রশ্ন : আপনার ঠিকানা ফতেহ আলী মাতবর লেনে।


উত্তর : সত্য নয়।


প্রশ্ন : ঘাট ফরহাদ লেন জনবহুল এলাকা।


উত্তর : জি।


প্রশ্ন : কক্সি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিল।


উত্তর : জি।


প্রশ্ন : সে ঐ এলাকার একজন কমিশনারও ছিল।


উত্তর : সত্য নয়।


প্রশ্ন : উনি আওয়ামী লীগ করতেন।


উত্তর : উনি দেওয়ান বাজার আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ছিলেন।


প্রশ্ন : আপনি ক্যাপ্টেন এ আর আলী খানকে চেনেন?


উত্তর : না।


প্রশ্ন : আপনি আতাউর রহমান খান কায়সারকে চিনতেন?


উত্তর : চিনতাম।


প্রশ্ন : উনার ভাইদেরকে আপনি চিনতেন?


উত্তর : না।


প্রশ্ন : কায়সার সাহেবের বাড়ির গেট ও আজিজ উদ্দিনের বাড়ির গেটের দূরত্ব কত?


উত্তর : ৩/৪শ গজ।


প্রশ্ন : আপনি আজিজ উদ্দিনকে চিনতেন?


উত্তর :  না।


প্রশ্ন : ডা. ছমির উদ্দিনকে চিনতেন?


উত্তর : না।


প্রশ্ন : ক্যাপ্টেন এ আর আলী খান কায়সার সাহেবের পিতা কিনা?


উত্তর : আমি জানি না।


প্রশ্ন : জহুর আহমেদ চৌধুরী, প্রফেসর মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও প্রফেসর খালেদ এই ৩ জনের শ্বশুরবাড়ি ঘাট ফরহাদ লেনে।


উত্তর : আমি জানি না।


প্রশ্ন : ডাঃ কামারুজ্জামানের নাম শুনেছেন? তিনি মমতাজ উদ্দিনের শ্বশুর।


উত্তর : কামারুজ্জামানের নাম শুনেছি। তবে মমতাজ উদ্দিনের শ্বশুর কিনা তা জানি না।


প্রশ্ন : মোজাফফর মোক্তার ও মইদুর রহমানের নাম শুনেছেন?


উত্তর : জি।


প্রশ্ন : মইদুর রহমান কক্সবাজার পিস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।


উত্তর : ঠিক।


প্রশ্ন : মোজাফফর মোক্তারকে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঘাট ফরহাদ লেনেই হত্যা করা হয়েছিল।


উত্তর : জি।


প্রশ্ন : আপনাদের হিট লিস্টে কি উনার নাম ছিল?


উত্তর : না।


প্রশ্ন : শরাফত উল্লাহসহ যে ৪ জনের নাম আপনি বলেছিলেন তাদেরকে কি হিট করেছিলেন।


উত্তর : তাদের বিরুদ্ধে কোনো এ্যাকশনে যাইনি। তবে হিট লিস্টে নাম ছিল। অন্যান্য মুক্তিবাহিনীর হিট লিস্টেও তাদের নাম ছিল।


প্রশ্ন : শরাফতউল্লাহকে অমূল্য ও লোকমান ধরে নিয়ে হত্যা করেছিল।


উত্তর : মুক্তিযোদ্ধারা হত্যা করেছে শুনেছি, নাম জানি না।


প্রশ্ন : চট্টগ্রামে কোনো সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেখেছিলেন যে, তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম যাবেন এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানানোর জন্য সার্কিট হাউজে হাজির হতে হবে?


উত্তর : না, দেখি নাই।


প্রশ্ন : ডাঃ মাহফুজুর রহমানকে চেনেন?


উত্তর : জি।


প্রশ্ন : উনি চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের ওপর বই লিখেছেন সেটা জানেন?


উত্তর : জানি, তবে বইটি পড়ি নাই।


প্রশ্ন : চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের ওপর যত বই লেখা হয়েছে সেগুলো পড়েছেন?


উত্তর : একটিও পড়ি নাই।


প্রশ্ন : আপনি কোনো বই লিখেছেন?


উত্তর : না।


প্রশ্ন : সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১৯৭৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রতি পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়েছেন।


উত্তর : জি।


প্রশ্ন : উনি বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির একজন সদস্য। এটা জানেন?


উত্তর : জি।


প্রশ্ন : আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায়?


উত্তর : হাট হাজারীতে।


প্রশ্ন : আপনি এসএসসি কোন স্কুল থেকে পাস করেছেন?


উত্তর : ওয়াজেদিয়া মাদরাসা থেকে।


প্রশ্ন : আপনি ব্যবসা করেন। আপনার নামে টিন সার্টিফিকেট আছে?


উত্তর : আমাদের ফার্মের নামে একটি টিআই এন নম্বর আছে।


প্রশ্ন : এটা কেনা সার্কেলের?


উত্তর : খাতুনগঞ্জ সার্কেলের।


প্রশ্ন : ঐ প্রতিষ্ঠানের নাম কি?


উত্তর : শামসুল আলম ট্রেডার্স।


প্রশ্ন : এটার হোল্ডিং নম্বর কত?


উত্তর : মনে পড়ছে না।


প্রশ্ন : ২০১০ সালে আপনি যখন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দেন তখন আপনার বয়স ছিল ৬৩ বছর। এই ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেয়ার সময়ও বলেছেন, আপনার বয়স ৬৩ বছর।


উত্তর : জি।


প্রশ্ন : যে গাড়িতে গুলী চালিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন এ গাড়ির নম্বর কত? গাড়িটি কোন কোম্পানির?


উত্তর : আমার মনে নেই।


প্রশ্ন : ঐ গাড়িতে ক'জন লোক ছিল?


উত্তর : গাড়িটি আসার সময় তা লক্ষ্য করি নাই, চার্জ করেছি।


প্রশ্ন : গাড়িটি লেফট হ্যান্ড বা না রাইট ড্রাইভ?


উত্তর : তা বলতে পারব না।


প্রশ্ন : স্টেনগানে ব্রাশ করলে এক সাথে কতটি গুলী বের হয়?


উত্তর : ২৮টি।


প্রশ্ন : গাড়িটি গুলীতে ঝাঝরা হয়ে বসে গিয়েছিল?


উত্তর : জি।


প্রশ্ন : গাড়ির ওপরে গ্রেনেড চার্জও হয়েছিল।


উত্তর : জি।


প্রশ্ন : বিবিসির নিউজ তখন রাত ৮টায় প্রচারিত হতো।


উত্তর : জানি না।


প্রশ্ন : ভয়েস অব আমেরিকার খবর ক'টায় প্রচারিত হতো?


উত্তর : তাও জানি না।


প্রশ্ন : রাতে বিবিসির খবরে শুনি যে, গাড়ির ড্রাইভার স্পট ডেড এবং সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী গুরুতর আহত, এই কথা আপনি তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেননি।


উত্তর : সত্য নয়।


প্রশ্ন : আপনি শহরের গণমান্য ব্যক্তি বা মুক্তিযুদ্ধে কাদের কাদের ঐ ঘটনা বলেছিলেন?


উত্তর : হাই কমান্ডকে জানিয়েছিলেন। তার মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিন একজন। এছাড়াও ছিলেন ঙঙ অফিশিয়ালী ছিলেন মাওলানা সৈয়দ আহমদ।


প্রশ্ন : মাওলানা সৈয়দ আহমদ কোন গ্রুপে ছিলেন?


উত্তর : বিএলএফ কমান্ডার ছিলেন।