|
|
৩৭ ট্রলার ডাকাতি ২৯ ট্রলার অপহূত
মোঃ মাহবুব আলম, লালমোহন, (ভোলা) থেকে : জলদস্যুদের অবাধ বিচরণের কারণে দিশেহারা হয়ে উঠছে ভোলার মেঘনা নদীর সাধারণ জেলেরা। গত ১ মাসে মেঘনায় বিভিন্ন সময়ে ৩৭টি ট্রলার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২ জেলের মৃত্যু ঘটেছে। শতাধিক জেলে ও ২৯ ট্রলার অপহরণ করেছে জলদস্যুরা। এ কারণে ভয় ও আতঙ্কে নদীতে জাল ফেলতে সাহস পাচ্ছে না সাধারণ জেলেরা।
সরে জমিনে খবর নিয়ে জানা গেছে, ৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মেঘনা নদীর ‘চর আলমের' মাঝখান থেকে ‘বাশির দোন' গ্রামের বজলু, রহিম মাঝি ও নুরাবাদের রফিক মাঝির নৌকায় ডাকাতি করে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। ডাকাতরা ওই নৌকাগুলো থেকে জালসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ২৭ আগস্ট আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চরফ্যাশনের মেঘনায় জলদস্যুদের দু'গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে ২০ জলদস্যু আহত হয়। তাদের মধ্যে থেকে ১ জনের চোখ উৎপাটন করে দিয়েছে প্রতিপক্ষের জলদস্যুরা। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৩ সেপ্টেম্বর ভোর ৪ টার দিকে মেঘনার সামরাজ মৎস্য ঘাট এলাকায় সন্ত্রাসী ফোরকান ও কালাম বাহিনীর মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে জলদস্যুদের ২৫ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এদের কাউকে গ্রেফতার করেনি আইন-শৃক্মখলা বাহিনী। ২৭ আগস্ট মেঘনার সামরাজ নদীঘাটে ২০-২৫ টি ট্রলারের মাঝিরা স্থানীয় সাংবাদিকদের নিকট এ তথ্য জানানোর পর ৩ সেপ্টেম্বর রামনেওয়াজের ‘নামার চর' এলাকায় সামরাজের আলমগীর মাঝির নৌকা লুট করে নিয়ে যায় জলদস্যুরা। এ নিয়ে গত ১ মাসে মেঘনা নদীতে ৩৭টি ট্রলার ডাকাতি, শতাধিক জেলে ও ২৯ ট্রলার অপহূত হয়। অপহরণকৃত ট্রলারগুলোর মধ্যে সামরাজের এমভি ছাদিম, এমভি পান্না, এমভি রাসেল, এমভি হানিফ, এমভি মেঘনা, নুরাবাদের এমভি জান্নাত, এমভি করতোয়া, এমভি কালাম ও এমভি হাবিবসহ প্রায় সব ট্রলার লুটপাট করে দস্যুরা। জলদস্যুদের হামলায় আহত জেলেদের মধ্যে ওসমানগঞ্জের জাহাঙ্গির মাঝি ও মাদ্রাজের নসু মাঝির মৃত্যু হয়েছে। একাধিক মাঝি জানান, ভোলার মেঘনা বেষ্টিত পুরো এলাকায় প্রতিনিয়ত জেলেদের ট্রলারে এসব ডাকাতি, লুট, হামলা, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই জলদস্যুদের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।

