|
|
আজ পাকুয়াখালী ট্রাজেডি
গণহত্যা
আনোয়ার আল হক, রাঙ্গামাটি থেকে : আজ ৯ সেপ্টেম্বর। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক দিন। ১৯৯৬ সালের এই দিনেই রাঙামাটি জেলার লংগদু ও বাঘাইছড়ি সীমানায় অবস্থিত পাকুয়াখালীর গহিণ অরণ্যে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ৩৫জন নিরীহ কাঠুরিয়াকে। শান্তিবাহিনীর হাতে হাত পা পুরুষাঙ্গসহ শরিরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে নিষ্ঠুরভাবে একইসাথে এই ৩৫ কাঠুরিয়া নিহত হবার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের চারজন মন্ত্রী রাঙ্গামাটি এসে এই হত্যাকান্ডে উপযুক্ত বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হত্যাকান্ডের ১৫ বছর পার হলেও এখনো এর বিচার হয়নি। বিচার না পেয়ে হতাশায় নিমজ্জিত স্বজনরা। যেন নিভৃতে কাঁদছে বিচারের বাণী। পক্ষান্তরে হত্যাকান্ডের এক বছরের মাথায় খুনীদের সাথে চুক্তি করে তাদেরকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।
সেই থেকে পার্বত্য এলাকায় বাঙ্গালিরা শোকাবহ এই দিনটিকে পাকুয়াখালী ট্রাজেডি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। দিবসটির স্মরণে এবারো রাঙ্গামাটিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বাঙালি সংগঠনগুলো। লংগদু উপজেলায় স্থানীয় বাঙ্গালিরা শহীদদের কবর জিয়ারত, শোক সভা ও দোয়া মাহফিল, কর্মসূচি পালন করবে। রাঙ্গামাটিতে মানবন্ধন, স্মারকলিপি ও আলোচনা সভা করবে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন ও পার্বত্য বাঙ্গালি ছাত্র পরিষদ।
রাঙ্গামাটি আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মোখতার আহমেদ এ প্রসঙ্গে দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, ‘‘একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে একইসাথে এতগুলো মানুষকে হত্যার ঘটনায় একজনকেও অভিযুক্ত করতে না পারাটিকে আমরা পুলিশের ব্যর্থতা নয় বরং মানুষের রক্তের সাথে সরকারের বেঈমানী বলে মনে করি। ১৯৯৬ সালে এ হত্যাকান্ডের পর প্রতিবাদে উত্তাল রাঙ্গামাটিতে এসে তৎকালীন সরকারের চার চারজন সিনিয়র মন্ত্রী নিহত কাঠুরিয়াদের লাশ সামনে নিয়ে জনতাকে এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কথা দিয়েছিলেন যোগ্য ক্ষতিপূরণ দেয়ারও। এর পর অতিক্রান্ত হয়েছে দেড় দশক। নিহতদের পরিবার সামান্য কিছু ক্ষতিপূরণ পেলেও তা নিতান্তই কম। সে হত্যাকান্ডের মৃত্যুকূপ থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসা ইউনুস তখনই বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা রুজু করেছিলেন। মামলা হয়েছিল সরকারিভাবেও। তক্তা নজরুল থেকে শুরু করে নিহত কাঠুরিয়াদের স্বজনরা হত্যাকান্ডের বিচার না পেয়ে চরম হতাশায় দিনাতিপাত করছেন। মানবেতর জীবন যাপন করছে নিহত কাঠুরিয়াদের পরিবার’’।
১৯৯৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গ্রুপ শান্তি বাহিনী লংগদুর ৩৬ কাঠুরিয়াকে ব্যবসায়িক হিসাবের কথা বলে পাকুয়াখালী নামক গহীন অরণ্যে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তিন দিন কাঠুরিয়াদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে নির্যাতন চালিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর হত্যা করা হয় ৩৫ জন কাঠুরিয়াকে। এর মধ্যে ইউনুছ নামের একজন কাঠুরিয়া পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। পরে ৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ ও সেনাবাহিনী পাকুয়াখালী হতে ২৮ জন কাঠুরিয়ার ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। বাকি ৬ জন কাঠুরিয়ার লাশ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পরপর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের একটি সংসদীয় টিম লংগদু সফর করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে আসে। এর পরবর্তি সরকারগুলোও একই আশ্বাস দিয়ে আসলেও এখনো এ ঘটনার মামলার কোন কুল কিনারা হয়নি। এমনকি পূর্নবাসন করা হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মেলানী
ভারভিরের রাঙ্গামাটি সফর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আন্তর্জাতিক নারী বিষয়ক প্রতিনিধি মেলানী ভারভির একদিনের সফরে আজ রাঙামাটি শহরের কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সকালে রাঙ্গামাটি এসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার এমপি। এ সময় তার সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনাসহ মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে মার্কিন প্রতিনিধিদল কাপ্তাই হ্রদে নৌ বিহার করেন এবং রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার পরিদর্শন করেন। পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিরূপা দেওয়ান, জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামালসহ পদস্থ কর্মকর্তারা এ সময় সাথে ছিলেন।
বিকেলে প্রতিনিধিদল রাঙ্গাপানি মোনঘর উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি পাহাড়ি গ্রাম পরিদর্শন করেন। রাতে মার্কিন প্রতিনিধিদল চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের দেয়া নৈশ ভোজে যোগ দেন।

