|
|
কবির আহমদ, সিলেট : অতি উৎসাহী কোতোয়ালী থানার ওসি আতাউরের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদের মিছিলে হামলা করে পুলিশ এসল্ট মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়ায় আবারও বিতর্কিত হয়ে উঠছেন ওসি আতাউর। গত ৮ জুলাই শতবর্ষের ঐতিহ্যের স্মারক প্রতিষ্ঠান এমসি কলেজ ছাত্রাবাস ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের দেয়া আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের ব্যাপারে যখন নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে গণঅনশনে মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণ করছিল ঠিক সেই মুহূর্তে পুলিশ শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আবার এসল্ট মামলা দায়ের করে। পুলিশের অতি উৎসাহী আচরণে সিলেটের জনসাধারণ যে কোনো মুহূর্তে পুলিশের অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক কার্যক্রমের উপর ফুঁসে উঠতে পারে। ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনশনে যোগ দিতে যাওয়া সিলেট এমসি কলেজের ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলী ছুঁড়লে পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল শনিবার সকাল সোয়া ১১টায় নগরীর নয়াসড়ক রোড দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ব্যানারে একটি মিছিল শিক্ষাঙ্গন রক্ষা কমিটি বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অনশনে যোগ দিতে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাওয়ার পথে পুলিশ বাধা দিলে এ সংর্ঘষ হয়। তখন পুলিশ ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলী ছুঁড়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। শিক্ষার্থীরা অনেক ধৈর্য ধারণের পর বাধ্য হয়ে পুলিশের উপর পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে কোতয়ালী থানার পুলিশ কনস্টেবল সামছুদ্দিন, বেলাল আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও মাহবুব আহমদসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।
কোতয়ালী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান বাবুল দৈনিক সংগ্রামকে ৪ পুলিশ সদস্য আহত এবং ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলী ছুঁড়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান এ ব্যাপারে পুলিশ এসল্ট মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আবারও জড়ো হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় অনশন শুরু করেছেন। অনশন আহবানকারী শিক্ষাঙ্গন রক্ষা পরিষদের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার (অব.) জুবায়ের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে অনশনে এমসি কলেজের সাবেক পাঁচজন অধ্যক্ষ যোগ দেন।
পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে এমসি কলেজের দু'শতাধিক শিক্ষার্থীও অনশনে সংহতি প্রকাশ করে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষের জের ধরে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের সুধিমহল নিয়ে গঠন করা হয় ‘শিক্ষাঙ্গন রক্ষা পরিষদ নামে এক সংগঠন।
সংগঠনটি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিসহ পুরাতন ঐতিহ্যময় স্থাপত্য কাঠামোতে ছাত্রাবাস নির্মাণের দাবি জানিয়ে অব্যাহত কর্মসূচি পালন করছিলো। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১১টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন কর্মসূচি ডাকা হয়েছিলো।

