Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2012, ২৯ ভাদ্র ১৪১৯, ২৫ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৪৭৬ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

সাড়ে তিন বছরে সরকার সাত দফায় নিয়োগ করেছে ৬১ বিচারপতি

বিচারপতি নিয়োগ মিশন শেষ এবার আইন প্রণয়নের উদ্যোগ

নাজমুল আহসান রাজু : উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের ষোলকলা পূর্ণ করে এবার বিচারপতি নিয়োগের আইন করতে যাচ্ছে সরকার। গত ৩ বছর ৮ মাসে উচ্চ আদালতে সাত দফায় রেকর্ড ৬১ জন বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সংবিধানের বিদ্যমান প্রচলিত নিয়মে ঢালাওভাবে এই ৬১ জনকে নিয়োগ দেয় সরকার। এদের বেশিরভাগই নিয়োগ পেয়েছেন দলীয় বিবেচনায়। সর্বশেষ গত ১৩ জুন ৬ জনকে অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিচারবিভাগ ও সংসদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাকে সামনে রেখে বিচারপতি নিয়োগে আইন প্রণয়নের কথা বলা হলেও নেপথ্যে অন্য কারণ রয়েছে। অজুহাত হিসেবে বিচারবিভাগ ও সংসদের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টিকে সামনে আনা হচ্ছে। আইন প্রণয়নের ঘোষণা আগেই (১৪ মে) দিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী। ৫ জুন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্পিকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ করে। এরপর জাতীয় পার্টি দলীয় সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু গত ৩ জুলাই বিলটি সংসদ সচিবালয়ে জমা দেন। অথচ জরুরি অবস্থার সরকারের আমলে বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়াকে বিতর্কমুক্ত ও স্বচ্ছ করতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশন নামের একটি অধ্যাদেশ করে গেলেও বর্তমান সরকার সেটি আইনে পরিণত করেনি। এখন সেই আইনের অনুকরণেই ‘সুপিরিয়র জুডিশিয়াল কমিশন বিল-২০১২' নামে বিচারপতি নিয়োগের আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নামের বিলটি আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উঠবে।

দীর্ঘদিন থেকে বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, দলীয় প্রভাবমুক্ত করা, যোগ্য ও মেধাবীদের প্রাধান্য দেয়ার দাবি চলে আসছে। সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সুশীল সমাজ সংবিধানকে ভিত্তি ধরে আলাদা আইন করার কথা বলে আসছে। কিন্তু ক্ষমতার সাড়ে ৩ বছরে সরকার বিষয়টিতে কর্ণপাত করেনি। বিশেষ করে ঢালাওভাবে একের পর এক বিচারপতি নিয়োগের পর যখন অনেকের দলীয় পরিচয়, যোগ্যতা, দক্ষতা ও ব্যাক্তিগত প্রশ্ন উঠে আসে তখন বিচারপতি নিয়োগে আইন প্রণয়নের দাবি উচ্চকিত হয়। বর্তমান সরকারের সময়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দিতে গিয়ে হত্যা মামলার আসামী ও সুপ্রিম কোর্টের ভাংচুরের দিন এ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে লাথি মারার সঙ্গে জড়িত ব্যাক্তিকে বিচারপতি নিয়োগের পরও দলীয়করণ অব্যাহত থাকলে নীতিমালার বিষয়টি সামনে চলে আসে। সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের শপথ না দেয়ার জন্য আন্দোলন ও আল্টিমেটাম দেয়া হলেও তা কাজে আসেনি। একজন প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্ট বারের আন্দোলনের মুখে বিতর্কিত দু'জনকে শপথ পড়ানো থেকে বিরত থাকলেও পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক সাংবিধানিক দায়িত্বের দোহাই দিয়ে তাদের শপথ পড়ান। অতীতে দলীয় বিচারপতি নিয়োগের প্রতিবাদে সভা-সমাবেশ, প্রধান বিচারপতির দরজায় লাথি মারা, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির এজলাস ভাংচুর, আদালত বর্জনের মতো ঘটনাও ঘটেছে। ক্ষমতার সাড়ে ৩ বছরে বিচারপতি নিয়োগে আইন প্রণয়নের বিষয়টিকে আমলে না নিয়ে এ পর্যন্ত ৬১ জনকে বিচারপতি নিয়োগ দেয় সরকার।

সরকারের দেড় বছর বাকি থাকতে গত ১৩ জুন সংসদে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ জানান, উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে। জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তরে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছিলেন। শফিক আহমেদ বলেন, সাংবিধানিক বিধান ব্যতীত হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগে অন্য কোনো নীতিমালা নেই। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী উচ্চ আদালতে স্বচ্ছতার সাথে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে, প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ১৪ মে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর এম টেরেসা খোকে জানান সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগে যোগ্যতা নির্ধারণ সংক্রান্ত আইন করতে সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে। এ ব্যাপারে প্রধান বিচারপতির সাথে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেয়া হবে। জরুরি অবস্থার সরকার ২০০৮ সালের ১৬ মার্চ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশন অধ্যাদেশ, ২০০৮ নামে বিচারপতি নিয়োগের আইন করে। এটি ছিল ২০০৮ সনের ৬ নং অধ্যাদেশ। অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে নিয়োগ প্রদানের লক্ষ্যে উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাইপূর্বক সুপারিশ করিবার জন্য একটি কমিশন প্রতিষ্ঠা করিবার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নকল্পে এটা প্রণীত। ক্ষমতায় এসেই সরকার এই অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকে। ফলে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। জরুরি সরকারের এই অধ্যাদেশের আদলে এখন সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এসে ‘সুপিরিয়র জুডিশিয়াল কমিশন বিল-২০১২' নামে বিল আকারে উত্থাপন করা হচ্ছে। বিচারপতি নিয়োগের প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের পদ সংখ্যা নির্ধারণ ও রাষ্ট্রপতির কাছে বিচারক নিয়োগের সুপারিশ করতে এ কমিশন গঠন করা উচিত। সাত সদস্যের কমিশনের চেয়ারম্যান হবেন প্রধান বিচারপতি। বিলে বিচারপতিদের রাজনৈতিক পরিচয় মুক্ত থাকার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মধ্য থেকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক বা অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগের জন্য দুটি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। শর্ত হচ্ছে সর্বশেষ ১০ বছরের পরিচালিত মামলার মধ্যে থেকে প্রতি বছর অন্তত দু'টি মামলার রেকর্ড পর্যালোচনা ও পেশাগত আচরণ সম্পর্কিত বার কাউন্সিলের প্রতিবেদন পর্যালোচনা। বিলে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক ও অতিরিক্ত বিচারক পদে নিয়োগে ৫টি শর্ত রয়েছে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো জাতীয় বা আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল বা অঙ্গসংগঠনের অতীত বা বর্তমান সংশ্লিষ্টতা থেকে মুক্ত থাকতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাজীবনের সকল স্তরে ন্যূনতম ২য় বিভাগ বা সমস্তরের গ্রেডিং নম্বর থাকতে হবে। এছাড়া আইন বিষয়ে অন্যূন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি চাওয়া হয়েছে। শপথ নেয়ার দিন বিচারকের বয়স অন্যূন ৫০ বছর হওয়ার শর্ত দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে আপিল বিভাগে বিচারক পদে নিয়োগের জন্য কমিশন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জ্যেষ্ঠতা, বিচারিক দক্ষতা, সততা ও সুনামসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় বিশদভাবে বিবেচনা করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশন হবে এটা সাত সদস্যের। চেয়ারম্যান হবেন প্রধান বিচারপতি। ছয় সদস্যের মধ্যে থাকবেন- আপিল বিভাগের প্রবীণ বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের প্রবীণ বিচারপতি, স্পিকার মনোনীত একজন সংসদ সদস্য, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, এ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়শনের সভাপতি।

৩ বছর আট মাসে ৬১ বিচারপতি নিয়োগ

প্রথম দফায় ২০০৯ সালের ২২ মার্চ ১০ জনকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় মহাজোট সরকার। ২০০১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এদের অস্থায়ী বিচারপতি নিয়োগ দেয়। ওই বছর সরকার পরিবর্তন ক্ষমতাসীন চারদলীয় জোট সরকার এদের স্থায়ী করা থেকে বিরত থাকে। পরে আব্দুস সালাম, মমতাজ উদ্দীন আহমেদ, মোঃ শামসুল হুদা, ফারুক আহমেদ, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ আব্দুল হাই, মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ মারযি উল হক, মোহাম্মদ নিজামুল হক এবং এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে তাদের পক্ষে রায় আসে। আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। তবে তাদের আগের জ্যেষ্ঠতা না দিয়ে শপথের দিন থেকে জ্যেষ্ঠতা কার্যকর হবে বলে আপিল বিভাগ রায়ে বলে দেন। এই রায়ের প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ২২ মার্চ ১০ জন স্থায়ী বিচারপতি শপথ নেন। পরবর্তীতে বাদ পড়া আরো একজন বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমানও রায়ের ভিত্তিতে স্থায়ী বিচারপতির শপথ নেন। এদের মধ্যে মমতাজ উদ্দীন আহমেদ ও শামসুল হুদাকে পরবর্তীতে সরকার আপিল বিভাগের বিচারপতি নিয়োগ করে। বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ অবসরে গেছেন। বিচারপতি আব্দুস সালাম, ফারুক আহমেদ, মোহাম্মদ আব্দুল হাই হাইকোর্টে থাকা অবস্থায় অবসরে গেছেন। বিচারপতি মোহাম্মদ নিজামুল হক নাসিম বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।

সরকার দ্বিতীয় দফায় ২০০৯ সালের ২৩ জুন ৯ জনকে অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেয়। ওই বছরের ৩০ জুন তারা অতিরিক্ত বিচারপতির শপথ নেন। এই ৯ জন হলেন-বিচারপতি এম মোয়াজ্জেম হোসেন, বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার, বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী, বিচারপতি মোঃ নুরুজ্জামান ননী, বিচারপতি মোঃ মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মোঃ রেজাউল হাসান (এম আর হাসান)। চলতি বছর ২ জুন এই ৯ জনকে সরকার হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি নিয়োগ দেয়। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২-এর সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

তৃতীয় দফায় ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল সরকার ১৭ জনকে অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ দেয়। এই ১৭ জন হলেন- সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম ফারুক, সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন রেজিস্ট্রার শওকত হোসেন, ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল এফ আর এম নাজমুল আহসান, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ কৃষ্ণা দেবনাথ, ঢাকা সেশন জজ এ এন এম বশির উল্লাহ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুর রব, ডঃ কাজী রেজা-উল হক ও মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী, অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম জহুরুল হক, জাহাঙ্গীর হোসেন, শেখ মোঃ জাকির হোসেন, হাবিবুল গণি, মোঃ রুহুল কুদ্দুস বাবু, গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও শেখ হাসান আরিফ, সাবেক ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল জে বি এম হাসান এবং ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ খসরুজ্জামান। এদের মধ্যে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনকে গত ২৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম জহিরুল হক পদত্যাগ করলে তিনি নিয়োগ পান। মোঃ রুহুল কুদ্দুস বাবুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আসামী হওয়ার এবং মোহাম্মদ খসরুজ্জামান ২০০৬ সালে ৩০ নবেম্বর এ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ভাংচুর করার অভিযোগ উঠলে আন্দোলনে নামে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন। আন্দোলনের মুখে ১৮ এপ্রিল তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম বিতর্কিত দু'জনকে বাদ দিয়ে ১৫ জনের শপথ পড়ান।

চতুর্থ দফায় ২০১০ সালের ১ নবেম্বর সরকার এডভোকেট ফরিদ আহমেদ ও ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল নজরুল ইসলাম তালুকদারকে অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেয়। ৫ নবেম্বর এই দু'জনসহ বিতর্কিত রুহুল কুদ্দুস বাবু ও মোহাম্মদ খসরুজ্জামানকে শপথ পড়ান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। এছাড়া বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম ও বিচারপতি বোরহানউদ্দীনকেও এদিন স্থায়ী বিচারপতির শপথ পড়ান তিনি। এই দু'জন জরুরি অবস্থার সরকারের সময়ে অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ পেয়েছিলেন। পঞ্চম দফায় ২০১০ সালের ৯ ডিসেম্বর হাইকোর্টে আরো ৪ জন অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়। তারা হলেন- তৎকালীন ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ ভবানী প্রসাদ সিংহ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব (চলতি দায়িত্ব) আনোয়ারুল হক, ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আকরাম হোসেন চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোঃ আশরাফুল কামাল। আনোয়ারুল হকও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ষষ্ঠ দফায় গত ৪ অক্টোবর সরকার হাইকোর্ট বিভাগে আরো ৬ জনকে অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছে। নিয়োগ পাওয়া ৬ জন হলেন- এস এইচ মোঃ নুরুল হুদা জায়গীরদার, কে এম কামরুল কাদের ও মোহাম্মাদ খুরশিদ আলম সরকার, মোঃ মজিবুর রহমান মিয়া, মোস্তফা জামান ইসলাম ও মোহাম্মদ উল্লাহ। এরমধ্যে ৩ জন সরকারের এ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারা হলেন- ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ উল্লাহ, ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ মজিবুর রহমান মিয়া ও ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেলমোস্তফা জামান ইসলাম। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই ৩ জন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পান। আইনজীবীদের মধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন-এডভোকেট  এস এইচ মোঃ নুরুল হুদা জায়গীরদার, এডভোকেট কে এম কামরুল কাদের রিপন, এডভোকেট মুহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকার।

সপ্তম দফায় সর্বশেষ চলতি বছর ১৩ জুন নিয়োগ দেয়া হয় আরো ৬ অতিরিক্ত বিচারপতি। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আশীষ রঞ্জন দাস, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোঃ বদরুজ্জামান বাদল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জাফর আহমেদ, ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মোঃ ইজারুল হক আকন্দ (সাগর) এবং ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আলতাফ হোসেন।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশন অধ্যাদেশ :

জরুরি অস্থার সরকার বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এড়াতে এবং রাজনৈতিকভাবে সুপ্রিম কোর্টকে করায়ত্ত করার চেষ্টা করতে একটি আইন প্রণয়ন করে। ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশন অধ্যাদেশ ২০০৮' নামের এ অধ্যাদেশটিতে প্রস্তাবিত ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, সততা ও সুনামসহ কিছু বিষয় নির্ধারণ করে বিধান রাখা হয়। উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করতে কমিশনের মৌখিক সাক্ষাৎকার গ্রহণ, এমনকি বাছাই প্রক্রিয়ায় কারও মতামত বা পরামর্শ প্রয়োজন হলে যে কোনো ব্যক্তিকে কমিশনের সভায় আমন্ত্রণ করার বিধান ছিল। স্থায়ী করার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, পেশাগত সততা ও সুনামসহ সার্বিক উপযুক্ততা বিশেষভাবে বিবেচনা করার ক্ষমতা ছিল কমিশনের। হাইকোর্ট থেকে আপিল বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রেও অভিন্ন বিধান অনুসরণ করার বিধান রাখা হয়। কিন্তু এতে কিছু ত্রুটি থাকায় তা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ হয়। হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ অধ্যাদেশের একটি উপবিধি অকার্যকর হিসেবে বাতিল করে। মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার পথে আর যায়নি। ফলে আইনী সুনিদিষ্ট বিধানের আলোকে বিচারপতি নিয়োগের যে সুযোগ এসেছিল তা পূর্ণতা পায়নি। আইনটিতে ত্রুটি থাকলেও আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে এটিকে গ্রহণযোগ্য করার পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ ছিল।