Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2012, ২৯ ভাদ্র ১৪১৯, ২৫ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৬২২ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

৪নং সাফাই সাক্ষী আবুল হোসেন জানালেন

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই মাওলানা সাঈদী যশোরে থাকতেন

0দীর্ঘদিন পরে ক্র্যাচে ভর দিয়ে ট্রাইব্যুনালে এলেন তিনি0

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামাযাতে ইসলামীর নায়েবে আমীর বিশ্ববরেণ্য মোফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে ৪নং সাফাই সাক্ষী হিসেবে গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিয়েছেন যশোরের মোহাম্মদ আবুল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষ তার জেরাও গতকালই শেষ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার পরবর্তী সাক্ষীর দিন ধার্য রয়েছে। সাফাই সাক্ষী আবুল হোসেন তার জবানবন্দীতে জানিয়েছেন, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর অনেক আগে থেকে যশোরের নিউমার্কেট সংলগ্ন উপশহরে ১৮২ নম্বর বাড়িতে থাকতেন। এপ্রিল মাসের ৪ অথবা ৫ তারিখে অন্যান্য পরিবারের সাথে তিনিও সপরিবারে প্রথমে শেখহাটি পরে ধানঘাটা গ্রামে পালিয়ে যান। ৮/৯ দিন পরে তিনি বাঘারপাড়া থানার মহিরাম গ্রামে তার এক পীরের বাড়িতে চলে যান।

বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গতকাল বিকেলের সেশনে সোয়া ২টার দিকে জবানবন্দী দেয়া শুরু করেন সাক্ষী আবুল হোসেন। মাত্র ১৫ মিনিটেই তার সংক্ষিপ্ত জবানবন্দী শেষ হয়। এডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী তার জবানবন্দী গ্রহণ করেন। এডভোকেট মিজানুল ইসলাম, কফিল উদ্দিন চৌধুরী, তানভীর আল আমিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। জবানবন্দী শেষ হওয়ার পর সাক্ষী আবুল হোসেনকে জেরা করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যেই তার জেরা শেষ হয়। অনেকদিন পর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী গতকাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। গতকাল সকালেই তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আনা হয়। তবে বেলা ২টা পর্যন্ত তিনি নীচতলায় হাজতখানায় ছিলেন। মধ্যাহ্ন বিরতির সময় হাজতখানায়ই তিনি তার ৩ ছেলের সাথে দুপুরের খাবার খান। ২টার সময় তাকে উপরে এজলাস কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। গত ১৩ জুলাই আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা চলাকালে স্ট্রোক করে তার বড় ছেলে রাফীক বিন সাঈদী ইন্তিকাল করার পর তিনি নিজেও হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তার হৃৎপিন্ডে নতুন করে ৫টি রিং পরানো হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর গতকাল বুধবার দ্বিতীয়বারের মত তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হলো। তবে শারীরিকভাবে তাকে খুব দুর্বল দেখাচ্ছিল। তিনি ক্র্যাচে ভর দিয়ে পুলিশের সাহায্য নিয়ে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে ওঠেন এবং নামেন।

সাক্ষী আবুল হোসেনের জবানবন্দী নিম্নরূপ :

আমার নাম মোহাম্মদ আবুল হোসেন। আমার পিতার নাম মৃত মোহাম্মদ হযরত আলী। আমার মায়ের নাম মৃত জায়েদা বেগম। আমার বর্তমান বয়স ৫৬ বছর। আমি একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করি।

১৯৬৮ সাল থেকে আমি নিউটাউন (নতুন উপশহর) যশোরের ব্লক-এ বাড়ি নং-১৮৫তে বসবাস করছি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর পাক হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। যশোর সেনানিবাস থেকে গোলাগুলি শুরু হয়। ২৬, ২৭, ২৮ মার্চ নিয়মিত গোলাগুলি চলে। আমার বাড়ির পাশে ১৮৪ নং বাড়িতে বসবাস করেন শহীদুল ইসলাম সাহেব। তিনি শেখহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার পাশে ১৮৩ নং বাড়িতে থাকতেন একই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ১৮২ নং বাড়িতে বসবাস করতেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেব। গোলাগুলীর কারণে যশোর শহর থেকে বহু লোক ভয়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যায়। তখন আমাদের এই ৪ পরিবারের অভিভাবকরা আলোচনা করলেন যে,  এখানে তো আর থাকা যায় না। আমরা '৭১-এর ৩ অথবা ৪ এপ্রিল নিউটাউন থেকে চলে যাই শেখহাটি। রাতে শেখহাটিতে অবস্থান করি। সকালে সেখান থেকে আরো ভিতরে পূর্বদিকে ধানঘাটা গ্রামে চলে যাই। সেখানে আমরা ১৮৩ নং বাড়ির বাসিন্দার মামার বাড়িতে অবস্থান করি। সেখানে ৭-৮ দিন থাকার পর আমরা আবার  আলোচনা করি এবং সিদ্ধান্ত নেই যে, আমাদের পরিবার ও শহীদুল ইসলামের পরিবার ভারতে চলে যাবো। ১৮৩ নং বাড়ির বাসিন্দা আবুল খায়ের উনার মামার বাড়িতেই থেকে যান। সাঈদী সাহেব তখন থেকে বাঘারপাড়া থানার মহিরামে চলে যান তাঁর এক পীরের বাড়ি। আমাদের পরিবার ও শহীদুল ইসলামের পরিবার ইন্ডিয়ায় চলে যাই। মহিরাম জায়গাটা ধানঘাটা গ্রাম থেকে ৮-৯ কিলোমিটার দূরে। সাঈদী সাহেবের সাথে পরে আর আমার যোগাযোগ হয়নি। এই আমার জবানবন্দী।

জবানবন্দী শেষে ৪নং সাক্ষী আবুল হোসেনকে জেরা করেন প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। জেরার বিবরণ নিম্নরূপ :

প্রশ্ন : আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র আছে?

উত্তর : আছে। তবে আজ সাথে নেই। যশোরে বাড়িতে রয়ে গেছে।

প্রশ্ন : আপনি কত দিন ধরে প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করেন?

উত্তর : ১০/১২ বছর ধরে। ফার্মটির নাম স্কয়ার ইলেকট্রিক, ঠিকানা-মাইক পট্টি, যশোর।

প্রশ্ন : স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বর থেকে আপনি কোন কাগজপত্র এনেছেন ঐ স্থানে বসবাস করেন তার প্রমাণ স্বরূপ?

উত্তর : না, আনি নাই।

প্রশ্ন : কি হিসেবে ঐ ফার্মে কাজ করেন?

উত্তর : ম্যানেজার হিসেবে কাজ করি। ঐ দোকানে ৪/৫ জন কাজ করে।

প্রশ্ন : দোকানের মালিকের নাম কি?

উত্তর : মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম।

প্রশ্ন : উনার বয়স কত?

উত্তর : ৩৬/৩৭ বছর।

প্রশ্ন : এর আগে আপনি কি করতেন?

উত্তর : কিন্ডার গার্টেন স্কুলে কাজ করতাম। আমি একজন সঙ্গীত শিল্পী। গান বাজনার শিক্ষক ছিলাম।

প্রশ্ন : আপনি কোথায় কি লেখাপড়া করেছেন?

উত্তর : যশোরেই লেখাপড়া করেছি।

প্রশ্ন : লেখাপড়া সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র এনেছেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনার পরিবারের গার্ডিয়ান কে ছিলেন?

উত্তর : আমার বাবা। তিনি ১৯৮৫ সালে মারা গেছেন।

প্রশ্ন : আপনার পিতা কি করতেন?

উত্তর : পুলিশের অফিস এসিস্ট্যান্ট ছিলেন।

প্রশ্ন : আপনারা কত ভাই বোন?

উত্তর : ৯ ভাই ৪ বোন। আমার অবস্থান ৩য়।

প্রশ্ন : আপনার বড় ২ জন কি করতেন ১৯৭১ সালে?

উত্তর : লেখাপড়া করতাম।

প্রশ্ন : তারা জীবিত আছেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনার লেখাপড়া কত দূর?

উত্তর : এসএসসি পাস করেছি ১৯৭২ সালে।

প্রশ্ন : অন্য ভাই বোন লেখাপড়া করেছেন?

উত্তর : তারা সবাই আমার থেকে বেশি শিক্ষিত।

প্রশ্ন : ভারতে গিয়ে আপনারা কি করতেন?

উত্তর : বনগাঁ মাদরাসা ক্যাম্পের পাশে একটি ঘর নিয়ে থাকতাম।

প্রশ্ন : আপনার দাদার বাড়ি কোথায় ছিল?

উত্তর : পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার বশিরহাটে।

প্রশ্ন : ১৮৫নং বাড়িটি ছিল সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত বাড়ি।

উত্তর : সরকারি এলোটি থেকে আমরা পজেশন কিনে নিয়েছিলাম।

প্রশ্ন : একইভাবে ১৮২, ১৮৩, ১৮৪ নং বাড়িও সরকারি এলোটেড বাড়ি ছিল।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : এই বাড়িগুলো ভারত থেকে যারা এসেছিল তাদের জন্য করা হয়েছিল।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ভারত থেকে কবে ফিরে আসলেন?

উত্তর : দেশ স্বাধীন হওয়ার এক মাস পরে।

প্রশ্ন : আপনারা তো আগেও ভারতে থাকতেন?

উত্তর : ১৯৬৫ সালের পরে আমার পিতা ভারত থেকে সপরিবারে চলে আসেন। সেই থেকে ওখানেই বসবাস করি।

প্রশ্ন : ভারত থেকে আসার পরে কি করলেন?

উত্তর : গান-বাজনার সাথে যুক্ত হই।

প্রশ্ন : আপনি কি আখড়ায় যান?

উত্তর : আমি আখড়ার শিল্পী নই। আমি নজরুল গীতি, রবীন্দ্র সঙ্গীত ও আঞ্চলিক গান গাই। ১৯৭৮ সালে আমি বিটিভিতে গান গেয়েছি।

প্রশ্ন : সাঈদী সাহেব তখন কাকে কাকে নিয়ে থাকতেন?

উত্তর : তখন তার ২টি ছেলে ছিল। তার ২ ছেলে, স্ত্রী ও কাজের মেয়েসহ ওখানে থাকতেন।

প্রশ্ন : তখন তিনি কি কাজ করতেন?

উত্তর : ওয়াজ মাহফিল করতেন।

প্রশ্ন : সাঈদী সাহেব ২ সন্তান ও কাজের মেয়েসহ ১৮২ নং বাড়িতে থাকতেন একথা সত্য নয়।

উত্তর : ইহা সত্য নয়।

প্রশ্ন : এই মামলা ছাড়া অন্য কোন মামলায় আপনি সাক্ষী দিয়েছেন?

উত্তর : আমার জীবনে অনেক মামলার সাক্ষী দিয়েছি। তবে সেগুলো আমার প্রতিষ্ঠানের মামলা। এ ধরনের মামলার সাক্ষ্য দেয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।

প্রশ্ন : আপনাকে প্রায় প্রতি মাসেই বিভিন্ন কোর্টে সাক্ষ্য দিতে হয়।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনি যে কিন্ডার গার্টেন স্কুলে চাকরি করেছেন সেটা এখন কোথায়?

উত্তর : এখন নেই। কবে শুরু এবং শেষ হয় তা এখন মনে করতে পারছি না।

প্রশ্ন : আপনি কোন ছাত্র সংগঠন করতেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : যশোরে তখন কি কি ছাত্র সংগঠন ছিল?

উত্তর : সেটাও বলতে পারবো না। আমি গান বাজনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।

প্রশ্ন : আপনার ছেলে মেয়েরা কি করে?

উত্তর : আমার দুই পক্ষে ২ ছেলে। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করি। তখন আমার ছেলে ছিল বরযাত্রী।

প্রশ্ন : আপনারা ধানঘাটা থেকে ভারতে আগে গেলেন তারপর সাঈদী সাহেব ওখান থেকে চলে যান।

উত্তর : একই দিনে যান।

প্রশ্ন : সাঈদী সাহেবের বাঘারপাড়ায় মহিরাম চলে যাওয়ার ঘটনা সত্য নয়?

উত্তর : ইহা সত্য নয়।

প্রশ্ন : সাঈদী সাহেবের গ্রামের বাড়ি কোথায়?

উত্তর : জানি না।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে সাঈদী সাহেবের সাথে পাশাপাশি বাড়িতে থাকা এবং একত্রে পালানোর কথা সত্য নয়।

উত্তর : ইহা সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনাকে সাক্ষী দেয়ার জন্য কে বলেছে?

উত্তর : সাঈদী সাহেবের শ্যালক নান্না মামা আমাকে এক বছর আগে বলেছেন।

প্রশ্ন : উনার সাথে আপনার পরিচয় কিভাবে?

উত্তর : উনি আমার বাসায় গিয়ে আমার আববাকে খোজ করেছেন। তাকে মৃত জেনে আমাকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

প্রশ্ন : যশোর থেকে আপনাকে ঢাকায় কে নিয়ে আসে?

উত্তর : একাই এসেছি। গাবতলী থেকে মামা নিয়ে আসে।

প্রশ্ন : সাক্ষ্য দেয়া আপনার পেশা এবং সাঈদী সাহেবের লোকদের দ্বারা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য আজ এই সাক্ষ্য ছিলেন?

উত্তর : সত্য নয়।