Quantcast
ঢাকা, রোববার 16 September 2012, ১ আশ্বিন ১৪১৯, ২৮ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৩৫ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

গোলটেবিল আলোচনায় বিএনপি ও বিশেষজ্ঞ নেতৃবৃন্দ

সরকারের ভ্রান্ত ও দুরভিসন্ধিমূলক নীতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারের ভ্রান্ত ও দুরভিসন্ধিমূলক নীতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। দলটি বলেছে, বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে একটি খসড়া পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন তারা। ক্ষমতায় গেলে ওই পরিকল্পনার আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কমানো হবে। গতকাল শনিবার ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট ঃ উত্তরণের পথ' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে দলটির শীর্ষ নেতা এই পরিকল্পনার কথা জানান। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির উদ্যোগে এই আলোচনা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাবেক বিদ্যুৎ সচিব আ ন হ আখতার হোসেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আলোচনায় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক সদস্য প্রকৌশলী মতিউর রহমান, বাংলাদেশ সোলার এন্ড রিনিউয়েবল এনার্জি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আল মাহমুদ, কান্ট্রি ম্যানেজার অলটেক প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাবেক জ্বালানি সচিব এ এম এম নাসির উদ্দিন প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকারের ভুলনীতি ও দুরভিসন্ধি থাকায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। এ থেকে উত্তরণে এখনই আমাদের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। যাতে আগামীতে ক্ষমতায় গেলে প্রথম দিন থেকে এই খাতের উন্নয়নে কাজ শুরু করা যায়। এই লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এনার্জি বিষয়ক একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ এবং  বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এই তিন মন্ত্রণালয়কে একত্রীভূত করা প্রয়োজন। এতে কাজের সমন্বয় হবে। বিএনপির প্রভাবশালী এই নেতা আরো বলেন, মিয়ানমার, নেপাল, ভারতের মেঘালয়ে যেখানে হাইড্রোনার্জি ক্ষেত্র রয়েছে, সেখান থেকে বিদ্যুৎ আনার উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে মিয়ানমারকে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।

কয়লার ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মোশাররফ বলেন, বড়পুকুরিয়ার মতো খালাশপীর খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নিতে হবে। কয়লার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানের পথ উন্মুক্ত হবে।

কয়লা উত্তোলনে ওপেন কাট পদ্ধতি লাভজনক নয় বলে মনে করেন ড. মোশাররফ। তিনি বলেন, আন্ডারগ্রাউন্ড পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। গ্যাস উত্তোলন, সঞ্চালন, বিতরণ সহজীকরণ করতে বাপেক্সসহ তিনটি সংস্থাকে একীভূত করার প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি গ্যাসের ব্যবহার সাশ্রয়ী করতে এলএমজি আমদানির পক্ষেও মত দেন তিনি।

তিনি জানান, সংকট উত্তরণে করণীয় নির্ধারণে বিএনপি কাজ শুরু করে দিয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার ওপর ইতোমধ্যে সেমিনার করে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। দেশের বিদ্যমান সংকটগুলো চিহ্নিত করে করণীয় ঠিক করতে নীতি প্রণয়ন করার কাজও হচ্ছে। উদ্দেশ্য সরকারে গিয়ে এর বাস্তাবায়ন শুরু করা।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা টেকসই এনার্জি পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে চাই। এ থেকে দেশের মানুষ সুফল পাবে। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ওই পরিকল্পনার আওতায় বিদ্যুতের দামও কমিয়ে আনা হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আরো বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান না করে দুর্নীতির মাধ্যমে এ খাতে লুটপাট করেছে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো গোটা দেশকে লুট করে নেওয়ার কাজে তারা ব্যস্ত। এর প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়েছে। পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপারে সরকার রাশিয়ার সঙ্গে যে চুক্তি করেছে তাতে কী কী বিষয় আছে জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের অনুসৃত নীতির সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, সংসদে দায়মুক্তি আইন করে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে লুটপাটের ব্যবস্থা করেছে। কেবল তাই নয়, শেয়ারবাজার, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে শুরু করে সব জায়গায় লুটপাট করে বাংলাদেশকে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে পরিণত করেছে তারা। সব সঙ্কট উত্তরণে করণীয় নির্ধারণে বিএনপি কাজ শুরু করে দিয়েছে। আমরা দেশের বিদ্যমান সঙ্কটগুলো চিহ্নিত করে করণীয় ঠিক করতে নীতি প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছি। উদ্দেশ্য, সরকারে গিয়ে এর বাস্তবায়ন শুরু করা।

মুস্তাহিদুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে একটি সমন্বিত জ্বালানি নীতি তৈরি করতে হবে। আর জ্বালানি খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে শুধু ভারত নয়, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও চীনের সঙ্গে পারঞরিক সম্পর্ক বাড়াতে হবে।

আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আত্মীয়স্বজন দিয়ে বিদ্যুতের কাজ করালে লাভ হবে না। এ বিষয়ে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে অন্তত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দুর্নীতি হবে না এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অন্য খাতে চুরি করলেও জ্বালানির দিকে নজর যাতে কেউ না দেয়।

মূল প্রবদ্ধে আ ন হ আখতার হোসেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বর্তমান চিত্র, সরকারের ‘ভ্রান্তনীতি', ব্যর্থতা এবং সংকট উত্তরণে করণীয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কুইক রেন্টালে লুপটাপ আর তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরতায় বিদ্যুতের সংকট বাড়ছে। বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে জনগণকে। সমস্যা সমাধানে গ্যাসের অনুসন্ধান, সঞ্চালন ও বিতরণ কর্তৃপক্ষকে একীভূত করা, সরকারি খাতেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেওয়া, প্রতিবেশী দেশ থেকে হাইড্রোইলেকট্রিসিটি আমদানিসহ বেশকিছু সুপারিশ করেন তিনি।