Quantcast
ঢাকা, রোববার 16 September 2012, ১ আশ্বিন ১৪১৯, ২৮ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২২৫ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

নিয়োগ বাণিজ্যের জের

অশান্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা ও অস্ত্রসহ আটক ৪ ক্যাম্পাস অচল

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা : নিয়োগ বাণিজ্যের জের ধরে  অশান্ত হয়ে ওঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। বোমা ও অস্ত্রসহ ৪ জন বহিরাগত সন্ত্রাসীকে আটক করেছে আইন-শৃংখলা বাহিনী। নিরাপত্তার অভাবে কোনো পরিবহন না আসায় এক সপ্তাহ ধরে ক্যাম্পাসে কোনো বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। দায়ভার এড়াতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসে গণনিয়োগ ও সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিবেশ এবং ভাংচুরে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি সাধনের জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি শিক্ষক সংগঠন।

জানা যায়, নিয়োগ বাণিজ্যের জের ধরে ছাত্রলীগ ও স্থানীয় ক্যাডারদের নৈরাজ্যের ঘটনায় ক্যাম্পাস প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অচল হয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার সকাল দশটায়  আইন-শৃংখলা বাহিনী ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক থেকে দুটি বোমা ও একটি চাকুসহ চার জন বহিরাগত সন্ত্রাসীকে আটক করে। আটককৃতরা হলো তুষার, সোনা, পিকুল, সিদ্দীক। পরে তাদের ইবি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। জানা গেছে আটককৃত বহিরাগত ছাত্রলীগ সমর্থিত সন্ত্রাসীদের ছাড়িয়ে নিতে ছাত্রলীগের একটি অংশ জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে কঠোর নিরাপত্তার সাথে ক্যাম্পাসে প্রশাসন ভবন খুললেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য একাডেমিক ভবন তালা বদ্ধ ছিল। ক্যাম্পাস পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। ক্যাম্পাসে বিশৃংখল পরিবেশ ঠেকাতে মোতায়েন করা হয়েছে র‌্যাব, পুলিশ, ডিবিসহ অন্যান্য আইন শৃংখলা বাহিনী।

এদিকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে গতকাল দুপুর একটায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। মিছিল শেষে তারা প্রশাসন ভবনের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অতি দ্রুত ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানায়। পরে বেলা দু'টায় ইবি প্রেস কর্ণারে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে। সাংবাদিক সম্মেলনে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, ক্যাম্পাসে ভাংচুরসহ অন্য অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য ছাত্রলীগ দায়ী নয় এবং এ সকল ঘটনার সাথে ছাত্রলীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় একচেটিয়া গণনিয়োগ, ছাত্রলীগ কর্তৃক ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. এয়াকুব আলী, সাধারণ সম্পাদক আছম তরিকুল ইসলাম, গ্রীণ ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. আবু সিনা, জিয়া পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. আলী নূর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ড. রুহুল আমীন ভূঁইয়া। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, প্রশানের সংকীর্ণ দলীয়করণের দায় বহণ করতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের সবাইকে। প্রশাসন একচেটিয়া দলীয় করণ করে পরিস্থিতি সামাল না দিয়ে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, এই নিয়োগের কোনো প্রয়োজন ছিল না। শুধুমাত্র দলীয় সংকীর্ণতার কারণে  ৩৭ কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও এই নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অনিশ্চয়তার দিকে  ঠেলে দিয়েছে। তারা প্রশাসনের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের পদত্যাগ দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ২১৭ তম সিন্ডিকেটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগ এবং পরিসংখ্যান বিভাগে  মোট ৪ জন শিক্ষকসহ ১১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেয়। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মী ও স্থানীয় কিছু ক্যাডার নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ছাত্রলীগের নিয়োগ বঞ্চিত ও স্থানীয় ক্যাডাররা।  এরই সূত্র ধরে গত ১০ সেপ্টেম্বর  ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান তুহিনের নেতৃত্বে চাকরি বঞ্চিত দলীয় ও স্থানীয় ক্যাডাররা প্রক্টর অফিসে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। একই দাবিতে গত বৃহস্পতিবার তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি পরিচালকের অফিস, মেডিকেল, প্রকৌশলী অফিস, পরিবহন অফিস, প্রশাসনিক ভবনে ভাংচুর চালায়।  বোমা মেরে দুটি বাস জ্বালিয়ে দেয় এবং একটি এ্যাম্বুলেন্স ভাংচুর করে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এ তান্ডবলীলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত দুই কোটি টাকার  ক্ষতি হয়েছে।