Quantcast
ঢাকা, সোমবার 17 September 2012, ২ আশ্বিন ১৪১৯, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৭৫২ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

রাজধানীতে ১৮ দলীয় জোটের প্রতিবাদ সমাবেশ

একটি স্বীকৃত লুটেরার দল দেশ পরিচালনা করছে -ড. মোশাররফ 00 আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে-অধ্যাপক মুজিব

জ্বালানি তেল ও পণ্য মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল রোববার বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ১৮ দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য পেশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম একটি স্বীকৃত লুটেরার দল সরকার দেশ পরিচালনা করছে। এই আ'লীগ অতীতেও লুটপাট করেছে। তবে এবার সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। তিনি বলেন, এই ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী সরকারকে শুধু কথায় সরানো যাবে না। এদের উৎখাতে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সামগ্রীর দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল রোববার নয়াপল্টনে ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, আত্মস্বীকৃত চোর ও দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। আর আন্দোলনের মাধ্যমে কারাগারে আটক ভালো মানুষদের মুক্ত করে আনতে হবে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান পটল, আমান উল্লাহ আমান, জামায়াতের  কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, কেন্দ্রীয় সহকারী প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগন সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বিএনপি নেতা আনহ আখতার হোসেন, জোট নেতা সাইফুদ্দিন আহমদ মনি প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল ও বিএনপি নেতা আলী আসগর মাতাববর।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, এ সরকারের জনগণের প্রতি কোন নজর নেই। তারা ব্যস্ত লুটপাট নিয়ে। তারা একের পর সমস্যা ও সংকট তৈরি করছে। তারা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। গত সাড়ে তিন বছরে একটি নির্বাচনী ওয়াদারও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তিনি বলেন, কুইক রেন্টালের মাধ্যমে সরকারি দলের লোকজন হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিচ্ছে আর তার মাশুল দিচ্ছে জনগণ। তারা বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। চারদলীয় জোট সরকারের চেয়ে এখন বিদ্যুতের দাম ১০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। দ্রব্য সামগ্রীর দাম বেড়েছে ৩-৪ গুণ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নিতে মন্ত্রী পর্যায়ে রদবদল করেছে। কিন্তু এতেও তার শেষ রক্ষা হবে না। কেয়ারটেকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে তাকে সরে যেতে হবে। তিনি বলেন, এই সরকার বিএনপিকে বাদ দিয়ে যে নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছে তা কোনদিনই পূরণ হবে না। তিনি বলেন, বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে। এ সরকারকে না সরালে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। 

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় তোফায়েল-মেননরা না গিয়ে বুদ্ধিমানের কাজ করেছেন। কারণ তারা দেখেছেন এই ভাঙ্গা নৌকায় উঠলে তারাও ডুববে, অন্যরাও ডুববে। তিনি বলেন, ব্যর্থ এই সরকারের পতনে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। তারা ক্ষমতায় আসার পর দ্রব্যমূল্যের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। অথচ সরকার বলছে জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। তিনি বলেন, এই সরকার একটি মিথ্যাবাদী সরকার। এদের আর ক্ষমতায় রাখা যাবে না।

তিনি বলেন, তারা এখন ব্যস্ত লুটপাট নিয়ে। এখন তারা শুধু জাতীয় চোরই নয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চোর। এই চোরের দলকে অতি তাড়াতাড়ি সরাতে হবে। তিনি বলেন, এই সরকার দেশের ভালো মানুষদের জেলে আটকে রেখেছে। আর দেশ চালাচ্ছে চোরেরা । তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে কারাগারে আটক ভালো মানুষদের মুক্ত করে আনতে হবে।

আ'লীগ দেশ পরিচালনায় সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ মন্তব্য করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, সমাজের খেটে খাওয়া মানুষরা আজ বড়ই অসহায়। তারা অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। তিনি বলেন, ১৮ দলীয় জোট আগামীতে সরকার গঠন করলে জিনিসপত্রের দাম কমানো হবে। তিনি চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বিজয়ী করার জন্যে সবার প্রতি আহবান জানান।

হামিদুর রহমান আযাদ এমপি বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ১০ টাকা কেজি চাল, বিনামূল্যে সার, ঘরে ঘরে চাকরিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানোর ওয়াদা করেছিল। কিন্তু তারা গত সাড়ে তিন বছরে একটি ওয়াদারও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আজ মানুষ চাকরি হারিয়ে নীরবে-নিভৃতে কান্না করছে। চারদিকে আজ শুধুই আহাজারি আর কান্নার রোল। তিনি বলেন, আ'লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই লুটপাটে ব্যস্ত থাকে। এই দলটি বেঈমান এবং প্রতারণার দল। আ'লীগ যে চোর আর বাটপারের দল তা আবারো প্রমাণ করেছে।

তিনি বলেন, দেশে এখন নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। অনেকেই না খাওয়াতে পেরে সন্তানকে বিক্রি করে দিচ্ছে। তারা জনগণের জন্য কিছু না করে নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, তিনি নাকি পালানোর পথ খুঁজছেন। অথচ এই সময়ে চোর ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে স্বীকৃত ৭ জনকে মন্ত্রী বানানো হয়েছে। তিনি বলেন, এসব করেও পার পাওয়া যাবে না। নির্যাতন দমন-পীড়ন করে আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের আলোচনা :  এদিকে গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের এক আলোচনা সভায় খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দফতরে ‘প্রশ্নবিদ্ধ' ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণের সঙ্গে ‘তামাশা' করছেন। তিনি বলেন, জনপ্রশাসনকে ধ্বংস করার জন্য মহীউদ্দিন খান একজন বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। সুপ্রিমকোর্ট তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল করে দিয়েছিল। সংসদ সদস্য হিসেবেও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ। খন্দকার মোশাররফ অভিযোগ করেন, পদ্মাসেতু প্রকল্পের দুর্নীতির জন্য সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ করলেও তার কোম্পানি সাকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদকে এবার মন্ত্রী করা হয়েছে। জনগণকে ধোকা দিতেই প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা রদবদল করেছেন। জনগণের চিন্তা তাদের মাথায় নেই।  পদ্মা সেতু, শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘ব্যর্থতার' পরও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে বহাল রাখায় সরকারের সমালোচনা করেন মোশাররফ। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারসহ হলমার্ক অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনার পর দেশের মানুষ আশা করেছিল- অর্থমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন অথবা অন্য মন্ত্রণালয়ে তাকে সরিয়ে দেয়া হবে। দেখা গেল, এতো অভিযোগের পরও তাকে স্বপদেই রাখা হয়েছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে মোশাররফ বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের খবর থাকবে না। সে জন্য তারা সংবিধান সংশোধন করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চায়। চলমান আন্দোলন জোরদার করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহবান জানান তিনি।

জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি এম এম মেহবুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রাহমাতুল্লাহ, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোজ্জাম্মেল হোসেন শাহীন বক্তব্য রাখেন।