|
|
এটিএন বাংলার সামনে সাংবাদিক নেতাদের সমাবেশ
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের বিষয়ে এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে ও তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে গতকাল রোববার কাওরান বাজার এটিএন বাংলা ঘেরাও কর্মসূচিতে বক্তব্য পেশ করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর সভাপতি রুহুল আমিন গাজী -সংগ্রাম
২৫ সেপ্টেম্বরের আল্টিমেটাম মানা না হলে কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি
স্টাফ রিপোর্টার : সাংবাদিক সাগর সারওয়ার-মেহেরুন রুনির খুনীদের ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়ে সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, না হলে আরো কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়া হবে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সাংবাদিক মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কঠোর কর্মসূচি দেয়া হতে পারে। সাংবাদিক নেতারা সরকারের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন অবিলম্বে সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার করুন। খুনিদের গ্রেফতার করে প্রমাণ করুন আপনারাও এই হত্যার বিচার চান। কারণ সারা দেশের মানুষ এই হত্যার বিচার ও খুনীদের গ্রেফতার দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। দেশের গণতন্ত্র, মত প্রকাশ, সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ করার এবং মুক্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার স্বার্থে সরকারের নবনিযুক্ত সংশ্লিষ্ট দু'মন্ত্রী পদক্ষেপ নেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা হুঁশিয়ার করে বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সাগর-রুনির খুনিরা গ্রেফতার না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চলবে। মামলা হামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না। সাংবাদিক নেতারা সংবিধান স্বীকৃত মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশ করার স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করে এমন কোন নির্দেশনা না দিতেও আদালতের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। কারণ এই আন্দোলন কোন ব্যক্তি স্বার্থের নয় সারা দেশের সাংবাদিকদের বিচার প্রাপ্তির অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আন্দোলন।
গতকাল রোববার সকাল ১১টা থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এটিএন বাংলার কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিক সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা এ হুঁশিয়ারি এবং আল্টিমেটাম দেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে সাংবাদিক নেতারা সমাবেশ সফল করেন। বৃষ্টির মধ্যে বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচির কারণে সকাল থেকেই কারওয়ান বাজারে এটিএন বাংলার কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিএফইউজের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বিএফইউজের মহাসচিব শওকত মাহমুদ, মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, ডিইউজের সভাপতি আব্দুস শহীদ ও ওমর ফারুক, ডিআরইউর সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন ও শাবান মাহমুদ, ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু ও ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাব এডিটর্স কাউন্সিলের সহ-সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আর রহমান ও সাংবাদিক পারভীন সুলতানা ঝুমা। সংহতি প্রকাশ করেন ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোল্লা জালাল ও আবু জাফর সূর্য।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক সমাজ শুধুমাত্র সাগর-রুনি হত্যার বিচার নয় দেশের সকল সাংবাদিক হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছে। দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সুষ্ঠু গণমাধ্যম অপরিহার্য। মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধানে সংরক্ষিত অধিকার। আমাদের সহকর্মী হত্যা করা হবে আর এর যদি বিচার না হয় তাহলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। সাংবাদিক সমাজ যখন আন্দোলন শুরু করে তখন শুধু হত্যার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছিলাম। মাহফুজুর রহমান আমাদের টার্গেট ছিলেন না। সাগর-রুনির চরিত্র নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বললেন এই হত্যার বিষয়ে তার কাছে তথ্য আছে তখন সাংবাদিক সমাজ চুপ করে থাকতে পারে না। জননন্দিত প্রধানমন্ত্রীকে বাচাল বলার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন তিনি। এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজকে ব্যবহার করে আমাদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা করেছেন। কিছু লোক টকশোতে এনে আন্দোলনের বিরুদ্ধে কথা বলিয়েছেন। এমনকি তার দু'টি চ্যানেলে কর্মরত আমাদের সহকর্মীদের চাকরির ভয় দেখিয়ে আন্দোলনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রেখেছেন।
বিএফইউজের সভাপতি বলেন কোনটি মানহানিকর আর কোনটি নয়, তা আদালত নির্ধারণ করবেন আর সাংবাদিকরা তা মেনে নিয়ে আন্দোলন করবেন, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। সাংবাদিকদের প্রতিবাদের ভাষা আদালতের রুলিংয়ের ওপর নির্ভর করে হবে না। লম্পট, চরিত্রহীন ও ভ্রষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি আমরা আন্দোলন করি, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার ধিক্কার জানাই এর জন্য আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলে দেশের পুরো সাংবাদিক সমাজ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে প্রস্তুত আছে। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা কারো প্রতিপক্ষ নয়। সাংবাদিকরা সংবিধান সমুন্নত রেখে সত্যের পক্ষে লড়াই করেন। এরপরও যদি কারো মানহানি হয় তাহলে আমরা আদালতে যেতে প্রস্তুত আছি।
এটিএন বাংলার চেয়ারম্যানের উদ্দেশে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ভবিষ্যতে যদি মাহফুজুর রহমান তার অবস্থান পরিবর্তন না করেন, তাহলে এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজ থেকে মাহফুজুর রহমানকে বের করে দিয়ে এ দুটি চ্যানেলকে জনগণের গণমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। যে ব্যক্তি লম্পট, চরিত্রহীন ও ভ্রষ্ট তার গণমাধ্যমের মালিক হওয়ার অধিকার নেই।
রুহুল আমিন গাজী নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪৮ ঘণ্টার কথা বলেছিলেন। সাত মাসেও কোনো কিনারা হয়নি। তাই আপনি সাহারা খাতুন হবেন না। আমরা আপনার ভূমিকা দেখতে চাই। তথ্যমন্ত্রীর ভূমিকা দেখতে চাই। ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করা না হলে ২৬ তারিখের মহাসমাবেশ থেকে আন্দোলনের বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। যিনি আমাদের অধিকার আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক হবেন তার বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করবো।
মাহফুজুর রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মানববন্ধনে হামলা করিয়েছেন। এখন মানহানির নামে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আমরা মামলাকে ভয় পাই না। আপনাকে হুঁশিয়ার করতে চাই সাংবাদিক সমাজের কাছে আপনি কিছুই না। নববইয়ের স্বৈরাচার পতনে সাংবাদিকরা ভূমিকা রেখেছে। স্বৈরাচারও সাংবাদিকদের কাছ থেকে রেহাই পায়নি। সাংবাদিক সমাজ স্বৈরাচারকে বরদাশত করেনি। তাই আগুন নিয়ে খেলবেন না। আপনার সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন। একজন সম্পাদককে ভাড়া করেছেন। যিনি কোথায়ও স্থায়ী হতে পারেন না। তাকে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন। ওই সম্পাদক লবিস্টের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাকে দিয়ে কোন লাভ হবে না। বিএফইউজের দু' বারের নির্বাচিত সভাপতি রুহুল আমিন গাজী আরো বলেন, মানহানির অভিযোগে মাহফুজুর রহমান আদালতে গেছেন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এটা করেও আপনার শেষরক্ষা হবে না। সাংবাদিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আদালত বলেছেন হাজির আমাদেরকে হতে। তিনি প্রশ্ন করেন মাহফুজুর রহমান কি নির্দোষ? তিনি কীভাবে তার সাগর-রুনির চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। এতে তার নিজের চরিত্রহীনতাকে উন্মুক্ত করেছে। তার চরিত্র কেমন সারা দেশের মানুষ জেনে গেছে।
আদালতের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাননীয় আদালত আমাদের ওপর হস্তক্ষেপ করবেন না। আমরা খুনীকে বাঁচাতে নয় খুনিকে চিহ্নিত করে শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমেছি। আমাদেরকে আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে থাকতে দিন। এমন কোন নির্দেশ দেবেন না যাতে আমার মত প্রকাশের অধিকারকে খর্ব করে। তিনি বলেন আদালত লেখার স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করতে পারে না। সাংবাদিক সমাজ এ ধরনের নির্দেশ মানতে পারে না। কারণ আমরা আদালত, সরকার ও বিরোধী দলের নির্দেশে চলি না। আমরা চলি সাংবাদিক সমাজের নির্দেশে। আমাদের ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই।
হামলা মামলা করে আন্দোলন থেকে বিচ্যুত করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দেশের মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বলার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে চাই। কোন শক্তিই আমাদের আন্দোলন স্তব্ধ করতে পারবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত সাগর-রুনির খুনিরা গ্রেফতার না হবে, যতক্ষণ না দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্ত সংবাদ মাধ্যম নিশ্চিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
তিনি বলেন, খুনিদের গ্রেফতারের জন্য আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। এ সময়ে খুনিদের গ্রেফতার করা না হলে ২৬ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক মহাসমাবেশ করবো। এই মহাসমাবেশ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর মধ্যে যারা আন্দোলনের প্রতিবন্ধক হবেন তাদের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করা হবে। খুনিদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে, চলতে থাকবে।
সমাবেশে মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, আদালতের নির্দেশনা নিয়ে আমরা বক্তব্য রাখব না। আমরা বিবেকের তাড়নায় বক্তব্য রাখব। সে বক্তব্য কারও বিরুদ্ধে গেলে বুঝতে হবে, কেন বিরুদ্ধে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাংবাদিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নামবেন না। এটি হলে দুর্যোগ নেমে আসতে পারে। আদালতে গিয়ে আন্দোলন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে অভিযোগ করে মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, আদালতের নির্দেশনা দিয়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। তিনি অবিলম্বে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের আহবান জানান।
শওকত মাহমুদ বলেন, খুনি কে, আমরা তা জানি না। তবে সন্দেহ জেগেছে, খুনি সম্ভবত কারওয়ান বাজারে থাকে। সাগর-রুনি সম্পর্কে এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের দেয়া বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক এই সভাপতি বলেন, খুনিদের মুখে যে ধরনের কথাবার্তা শোভা পায়, সে ধরনের কথা এ কারওয়ান বাজার থেকেই শোনা গেছে। খুনি কে সাংবাদিক সমাজ সেটা বলেনি। আমরা বলেছি কারওয়ান বাজারে যে আলাপ হয় সেখানে হত্যার ক্লু থাকতে পারে। তাই তাকে আইনের আওতায় আনা দরকার। তার আগেই তিনি বিচলিত হয়ে গেছেন ভীত হয়ে গেছেন। সাগর-রুনির হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। তাই আদালতের নির্দেশ দিয়ে আন্দোলন রোধ করা যাবে না। এ দেশের আদালতে বিচার না পেলে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হবেন সাংবাদিকরা। কোনো মন্ত্রী বা ব্যবসায়িক স্বার্থে যদি এ হত্যাকান্ড ধামাচাপা দেয়া হয়, তাহলে এ সরকারকে একদিন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
আব্দুল জলিল ভূঁইয়া বলেন, সাংবাদিকরা পেশাজীবী, তেমনি আইনজীবীরাও পেশাজীবী। আইনজীবীরাও এ সমাজের অংশ। আইনজীবীরাও চান দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন বিকশিত হোক। তাই যদি হয় তাহলে টাকার জন্য সাংবাদিক-সাগর রুনির খুনিদের আইনী সহায়তা করা থেকে বিরত থাকুন। যে ব্যক্তি আত্মস্বীকৃত বাচাল ও কন্যা সমতুল্য রুনিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করতে পারে তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন সকলের মধ্যে প্রশ্ন ওঠতে পারে।
আবদুস শহীদ বলেন, ৩০ বছরের সাংবাদিকতার জীবনে কোথাও কোন মামলা বা জিডি পর্যন্ত হয়নি। এখন সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যার বিচার চাইতে এসে মামলার আসামী হয়েছি। এতে দুঃখ নেই। কিন্তু অভিযোগটা মানহানির। যিনি মামলা করেছেন তার নাকি মানহানি হয়েছে। নিজের মান নিজেই যদি রাখতে না পারেন তাহলে তাকে কী বলা যায়। প্রধানমন্ত্রীকে বাচাল বলে পরে নিজকে বাচাল বলে স্বীকার করেছেন। এরপর আর তার মান থাকে কীভাবে। ছি, লজ্জা!
ওমর ফারুক বলেন, হত্যাকারীরা গ্রেফতার না হলে কঠোর থেকে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। আজকে এটিএন বাংলার কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ হচ্ছে। প্রয়োজনে এটিএন বাংলার ভেতরে সাংবাদিকরা সমাবেশ করতে বাধ্য হবে। কারণ খুনিদের পৃষ্ঠপোষক সেখানে বসেন। তিনিই বলেছেন তার কাছে সাগর-রুনি হত্যার তথ্য প্রমাণ আছে।
সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকান্ড নিয়ে মাহফুজুর রহমান লন্ডনে ফাটিয়েছেন যে তার কাছে হত্যার তথ্য প্রমাণ আছে। বিতর্কটা তিনি সৃষ্টি করেছেন। এখন তাকেই এই বিতর্কের অবসান করতে হবে। নিজকে বাঁচাতে তিনি সাংবাদিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মামলা তাকে রক্ষা করতে পারবে না। আমাদের আন্দোলন আরো কঠোর হবে। ২৬ সেপ্টেম্বর মহাসমাবেশ থেকে একদিন সকল সংবাদপত্র বন্ধ করা এবং টেলিভিশনে এক মিনিট ব্ল্যাক আউট করার ঘোষণাও আসতে পারে।
বাকের হোসাইন মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের উদ্দেশে বলেন, বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না। দাঁড়ানো হলে এর অর্থ কী হবে জানা নেই। আদালতকে দিয়ে আমাদের আন্দোলন নস্যাৎ করা যাবে না। সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করা যাবে না।
সাগর-রুনি হত্যাসহ সব সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত, কর্মক্ষেত্রে সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের ঘোষণা দেন সাংবাদিক নেতারা। এ জন্য সরকারকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন তারা। এ সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে প্রেস ক্লাবের সামনে সুশীল সমাজ ও পেশাজীবী সংগঠন নিয়ে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়া হয়। একই সঙ্গে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করারও দাবি জানানো হয়। তা না হলে ২৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আবার অবস্থান ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এবং ১৬ সেপ্টেম্বর এটিএন বাংলার কার্যালয় ঘেরাও ও সমাবেশ করার ঘোষণা দেন সাংবাদিকরা।
এরপর সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় এটিএন বাংলার কার্যালয় ঘেরাও এবং সমাবেশ কর্মসূচির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত সোমবার মাহফুজুর রহমান মামলা করলে ঢাকার প্রথম যুগ্ম-জেলা জজ ফজলে এলাহী ভূঁইয়া আবেদনটি খারিজ করে দেন।

