Quantcast
ঢাকা, বুধবারর 19 September 2012, ৪ আশ্বিন ১৪১৯, ২ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৭৬ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

নিরাপদ রুট বঙ্গোপসাগর

৪ মাসে মানব পাচারকারীর হাত থেকে ৫০০ জন উদ্ধার

জামালুদ্দিন হাওলাদার : বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে সাগরপথে মানব পাচার থেমে নেই। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সামনে দিয়েই অবৈধভাবে সমুদ্রপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় সময় বিদেশে পাড়ি জমায় নিম্নআয়ের মানুষ। মাঝে মধ্যে কোস্টগার্ডের হাতে নৌকাসহ কিছু লোক ধরা পড়লেও আড়ালে থেকে যায় মানব পাচারকারী হোতাগণ। গত ৪ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর, বঙ্গোপসাগর ও কক্সবাজার  এলাকা থেকে সমুদ্রপথে অবৈধ পথে মাছ ধরার ট্রলারযোগে পাচারকালে অন্তত ৫০০ জনকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড ও র‌্যাব। সর্বশেষ গত রোববার গভীর রাতে অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময় চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানাধীন বঙ্গোপসাগরের পাড় থেকে ১১২ জন লোককে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃতরা মূলত দরিদ্র, খেটে খাওয়া দিনমজুর। এদের অধিকাংশ বিদেশ গিয়ে বেশি টাকা আয় করার আশায় নিজের শেষ সম্বল ভিটেমাটি বিক্রি করে অর্থ তুলে দেয় মানব পাচারকারীদের হাতে। আর কেউ ঋণ করে টাকা দিয়ে বিদেশ যেতে দ্বারস্থ হয় এসব মানব পাচারকারীর নিকট।

জানা গেছে, গত রোববার গভীর রাতে অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের বঙ্গোপসাগরের পাড় থেকে ১১২ জন লোককে আটক করেছে পুলিশ। এর পূর্বে গত জুনে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রার অপেক্ষমাণ এক জাহাজে উঠানোর সময় প্রায় ৭০ ব্যক্তিকে আটক করে কোস্টগার্ড। একই সময় মাছ ধরার ট্রলারযোগে কক্সবাজার থেকে সমুদ্রপথে  মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে  শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করে কোস্টগার্ড। ৬ জুন  চট্টগ্রামের পতেঙ্গা নেভাল একাডেমী এলাকা থেকে  ৩ আদম পাচারকারীসহ ২৬ ব্যক্তিকে আটক করে র‌্যাব ৭। গত ৪ মাসে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র এলাকা থেকে কোস্টগার্ড ও পুলিশ ৫ জনকে উদ্ধার করেন মানব পাচারকারীদের হাত থেকে। তার পরও থেমে নেই সমুদ্রপথে মানব পাচার।

পুলিশ জানান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যানের কাছ থেকে খবর  পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করেছে। এ সময় ১১২ জন বিভিন্ন বয়সী পুরুষ বঙ্গোপসাগরের পাড়ে অপেক্ষা করছিলেন জাহাজে ওঠার জন্য। এর মধ্যে কয়েকজন একটি নৌকায়ও উঠেছিলেন। পুলিশ ওই  নৌকার মাঝিকেও আটক করে।

সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রুহুল আমীন সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,  ছনুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রোববার রাত আড়াইটার দিকে বাঁশখালী থানায় ফোন করে কিছু  লোক সাগর পাড়ে জড়ো হয়েছেন বলে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জড়ো হওয়া  লোকজনকে চারদিক থেকে ঘিরে আটক করে। এ সময় তীরে নোঙ্গর করে থাকা নৌকা  থেকেও কয়েকজন লোককে আটক করা হয়। আটক ১১২ জনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার লোক রয়েছে। এরা মূলত দরিদ্র, খেটে খাওয়া দিনমজুর।

রুহুল আমীন সিদ্দিকী জানান, প্রতারকচক্র তাদের বাঁশখালী থেকে নৌকায় চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে গিয়ে  সেখান থেকে বিমানে মালয়েশিয়া যাবার কথা বলেছিলেন। তাদের কথামত বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এসব লোক রোববার রাতে ছনুয়া ইউনিয়নের বঙ্গোপসাগর পাড়ে জড়ো হয়েছিলেন। আটক  লোকজন প্রতারক চক্রের কয়েকজনের নাম বললেও তাদের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছুই জানাতে পারেননি।