Quantcast
ঢাকা, বুধবারর 19 September 2012, ৪ আশ্বিন ১৪১৯, ২ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৫৮৬ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়

অতীতের মতো বর্তমানেও আলেম সমাজকে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে হবে -আবুল আসাদ

ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক সংগ্রাম কার্যালয়ে পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদসহ সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ বলেছেন, আলেম সমাজ এ দেশে বৃহত্তম শক্তি। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনসহ অতীতে সকল আন্দোলন সংগ্রামে ত্যাগ ও কুরবানীর ক্ষেত্রে আলেম সমাজ ছিলেন অগ্রগামী। বর্তমান সময়েও আলেম সমাজকে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের দাবিগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো জনগণের দাবি। জনগণের দাবি নিয়ে জনগনের কাছে গেলে জনগন স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এতে শরীক হবে। 

গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক সংগ্রাম কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পল্টন ময়দানের মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে দেশের বুদ্ধিজীবী, আলেম, ওলামা, বিভিন্ন মাদরাসা, ইমাম খতীব, পেশাজীবী, বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাথে মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা, খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সংগ্রামের বার্তা সম্পাদক আবদুল কাদের মিয়া, সহকারী বার্তা সম্পাদক সাদাত হোসাইন, সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, ইসলামী ঐকজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মহিদ্দীন রববানী, সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ যুগ্ম-মহাসচিব ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, এনডিপির মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি আবদুল মোমেন আকন্দ, মীরেরসরাইর পীর মাওলানা আবদুল মোমেন নাছেরী, পীর মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের ঢাকা মহানগরী সভাপতি মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব এম এ রশীদ প্রধান, খেলাফত আন্দোলনের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মাওলানা আবু হানিফ নেসারী, ডা. মাওলানা আবদুল কাইয়ূম আজহারী, মাওলানা সালেহ সিদ্দিকী, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মুফতী মাসুদুর রহমান, মুফতী কেফাতুল্লাহ প্রমুখ।

সংবিধানে আল্লাহ তা'য়ালার ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহাল, মহানবী (সা.)-এর অবমাননা ও ব্যঙ্গ কার্টুন বন্ধ করা, কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী নারীনীতি সংশোধন করা, একতরফাভাবে চাপিয়ে দেয়া ধর্মহীন শিক্ষানীতির সংশোধন, আলেম-ওলামা ও ইসলামী নেতৃবৃন্দের ওপর নির্যাতন বন্ধ, মাদরাসা বন্ধের ষড়যন্ত্র বন্ধ, বোরকা নিষিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র বন্ধ ও ইসলাম নির্মূলের চক্রান্তকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবিতে ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের উদ্যোগে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে মহাসমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে।

সভায় সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আলেম সমাজ এ দেশে বৃহত্তম শক্তি। ১৯০ বছরের বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামে ত্যাগ ও কুরবানীর ক্ষেত্রে আলেম সমাজ ছিলেন অগ্রগামী। তিনি বলেন, ১৯২১-২৪ সালে স্বরাজ আন্দোলন যখন তীব্র হয়ে উঠেছিল, সে সময় ২০০ জন গ্রেফতার হয়েছিল, তার মধ্যে ১৯৯জনই ছিলেন আলেম। তিনি উল্লেখ করেন, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় আলেম সমাজ শুধু ভূমিকাই রাখেনি, তারা ছিলেন সর্বাগ্রে। তিনি আলেম সমাজের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সময়ে ইসলাম ও ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানাতেও আলেম সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের দাবিগুলো উল্লেখ করে আবুল আসাদ বলেন, এগুলো জনগণের দাবি। জনগণের দাবি নিয়ে জনগণের কাছে গেলে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এতে শরীক হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের জনগণ কখনই ভুল করে না। তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে জানে। আলেম সমাজের এই আন্দোলন বৃথা যাবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাওলানা আহমদুল্লাহ আশরাফ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, এ দেশে ইসলাম বিরোধী চক্রান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোন বিকল্প নেই। তিনি এ সময় কুরআনের উদ্ধৃতি দিতে গিয়ে বলেন, আল্লাহ বলেছেন, তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে আকড়ে ধরো, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইও না।

মাওলানা যাইনুল আবেদীন বলেন, আমরা মহান আল্লাহর প্রতিনিধি তথা খলিফা। এ খলিফার দায়িত্বের কারণে শরয়ী এবং ঈমান রক্ষার সম্মিলিত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। দলমত নির্বিশেষে এ মহাসমাবেশ যাতে সফল হয় এ জন্যে বিভিন্ন মিডিয়ার ভূমিকা খুবই জরুরি। তাই আপনাদের আরো সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, সারা বিশ্বব্যাপি ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে চক্রান্ত ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলাদেশেও ইসলাম ও কুরআন-সুন্নাহর বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে। বর্তমান সরকারের সময়ে আমাদের দেশে অনেক বিধর্মী নবী (সা.) নিয়ে কটূক্তি করার সাহস দেখাচ্ছে। তিনি ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস ছাড়া কোন বিকল্প নেই। তিনি এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, দৈনিক সংগ্রাম সব সময় দেশ ও জনগণের পক্ষে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জাতিকে জাগ্রত করার ক্ষেত্রে অগ্রপথিকের মতো দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

আলমগীর মজুমদার বলেন, আমাদের আন্দোলন ইসলাম ও দেশ রক্ষার আন্দোলন। সরকার মানুষের মন থেকে ইসলাম সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু এ ষড়যন্ত্র এ দেশের ইসলাম প্রিয় জনগণ কখনই সফল হতে দিবে না।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, নিছক ঈমান রক্ষার তাগিদেই সারাদেশের মুসলিমগণ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। দেশ থেকে একে একে ইসলামকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এ মুহূর্তে কোন দ্বীনদারের বসে থাকার সুযোগ নেই।

নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘‘ইনোসেন্স অফ মুসলিম’’ তথা মুসলমানরা অজ্ঞ একথা যারা বলে মূলত তারা জ্ঞানপাপী। ইসলামের প্রথম শিক্ষাই শুরু হয়েছে ইকরা বা জ্ঞান অর্জন কর। অতএব আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, একমাত্র মুসলমানরাই সুশিক্ষিত ও পরিমার্জিত তাই আগামী শুক্রবার প্রতিটি মসজিদ থেকে ইমাম খতীব সাহেবগণ একই আওয়াজ তুলবেন ‘‘মুসলিম আর নট ইনোসেন্স’’ অর্থাৎ মুসলিমরা কখনই অজ্ঞ নয়। সভায় ২২ তারিখ পল্টন মহাসমাবেশে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, ঈমান হেফাজতের এ মহাসমাবেশ নিয়ে ইতোমধ্যে চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে। মহসমাবেশ নিয়ে চক্রান্ত হলে লাগাতার কঠোর কর্মসূচি। তারা আরো বলেন, আমরা শহীদ হতে প্রস্তুত তবুও মহানবী (সা.)-এর সম্মান, মর্যাদা, দ্বীন ও ঈমান রক্ষার এ মহাসমাবেশ থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সকল দ্বীনদার মুসলমান ও ঈমানের দাবিদারগণকে এ আন্দোলনে শামিল হয়ে মহাসমাবেশে যোগদান করার জন্য ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের নেতৃবৃন্দ আহবান জানান।