Quantcast
ঢাকা, বুধবারর 19 September 2012, ৪ আশ্বিন ১৪১৯, ২ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৪৩ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

এই রায় জাতির জন্য কলঙ্ক হয়ে থাকবে আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র এক সাথে চলতে পারে না -এমাজউদ্দিন আহমেদ

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে শত নাগরিক আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য পেশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র একসাথে চলতে পারে না। অতীতে কখনও চলেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে রায়ের মাধ্যমে ইচ্ছা করেই সঙ্কট তৈরি করা হয়েছে। ক্ষমতাকে ধরে রাখতেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘শত নাগরিক' আয়োজিত ‘আর্থ-রাজনৈতিক সঙ্কট : সংবিধানের কার্যকারিতা শীর্ষক' গোল টেবিল আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কবি আব্দুল হাই সিকদারের পরিচালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ, সাবেক উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. এমএ মাজেদ, সাবেক সচিব আসাফ উদ দৌলা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. ইনামুল হক, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. আবু আহমদ, কবি আল মুজাহিদী, পিএসপির সাবেক চেয়ারম্যান জিন্নাতুন নেছা তাহমিদা খাতুন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল কাশেম হায়দার, ঢাবির সাবেক প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, কলা অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. সদরুল আমিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. কাজী আব্দুস সামাদ, ঢাবির প্রফেসর ড. রাশিদুল হাসান, প্রফেসর দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনিন, ড. ওবায়েদুল ইসলাম, সাবেক সচিব এস এম জহিরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. আব্দুর রব, প্রফেসর ড. শাহিদা রফিক, ড. ফজলুল হক সৈকত, সুকমল বড়ুয়া, ডা. এজেটএম জাবিদ হোসেন প্রমুখ। এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর ড. মাহবুবু উল্লাহ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাবির আইন বিভাগের প্রফেসর বোরহান উদ্দিন।

প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্বের ২০১টি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র কার্যকর রয়েছে। কিন্তু কোথাও সংসদ কার্যকর রেখে নির্বাচন করার নজির নেই। অথচ আমাদের সংবিধানে তা করা হয়েছে। সংবিধানে ১২৩/৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংসদের এক দিন মেয়াদ থাকতেই নির্বাচন হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও এমপিদের ক্ষমতা বহাল থাকবে। মূল ক্ষমতা ধরে রাখতেই এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব এমন বক্তব্য যারা দেন তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, ইসিতে লোকবল দরকার। সেখানে রয়েছে মাত্র ২ হাজার। তাই এ বক্তব্য সত্য নয়। তাছাড়া তাদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে সরকারের হাতে। আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র একসাথে চলতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে এর নজির নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা হওয়ার আগে কোন সরকার তার মেয়াদকাল পূর্ণ করতে পারেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দেয়া রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুষ্ট চক্রের ফাঁদে পড়েছে দেশ। ইচ্ছা করে এই রায়ের মাধ্যমে সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এই রায় জাতির জন্য কলঙ্কজনক। তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া দেশে কোন নির্বাচন হতে পারে না।

বিচারপতি আব্দুর রউফ বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীতে সংবিধানের ৫১টি স্থানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে করে সংবিধান তার কার্যকারিতা হারিয়েছে। তাই একটি নতুন সংবিধান প্রয়োজন। সংবিধানের প্রজাতন্ত্র থাকাতে শাসক গোষ্ঠী নিজেদের রাজা মনে করেন। এরশাদ সাবেক বিচারপতি সাহাবুদ্দিনকে গালিগালাজ করেছে তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাহাবুদ্দিন সাহেব না থাকলে এরশাদের অস্তিত্ব থাকতো না। দেশের জনগণ তার চরিত্র সম্পর্কে জানেন। গণতন্ত্রে নির্বাচনের বিকল্প নেই উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, ইসি নয় জনগণের দ্বারাই সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব।

আসাফ উদ দৌলা বলেন, ১৬ মাস পর কোন রায় লেখার যৌক্তিকতা রয়েছে কিনা তা দেখতে হবে। অবসর নেয়ার পর রায় লিখতে পারেন না। সরকার ভয়ে রয়েছে বলেই এ রায় লিখেছেন। সংবিধানে গণরায়ের সুযোগ উঠিয়ে দেয়া হয়েছে উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, নতুন সংবিধান লিখতে হবে। সংসদকে কার্যকর রেখে নির্বাচন করার নজির নেই উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, আজ উন্মাদরা দেশ চালাচ্ছে। দুর্নীতির সাথে সরকার জড়িত রয়েছে বলেই বিচার হচ্ছে না।

প্রফেসর আবু আহমদ বলেন, সরকার এরশাদকে প্রধান বিরোধী দল বানিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসিকেও প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি আজ হুমকির সম্মুখীন। তাই আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। মত প্রকাশের স্বাধীনতা আজ সংকুচিত হয়ে আসছে।

ড. ইউসুফ হায়দার বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে দেশে অচল অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেছে। বিচারপতি খায়রুল হকের মাধ্যমে সরকার দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। সংক্ষিপ্ত রায়ের সাথে পূর্ণাঙ্গ রায়ের গড়মিল রয়েছে। তাই আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।