Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 September 2012, ৫ আশ্বিন ১৪১৯, ৩ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩০৪ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান

জনশক্তি রফতানি বন্ধের হুমকি বায়রার

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়-সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানির সুযোগ না পেলে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)। একই সাথে জনশক্তি রফতানিকারকদের বেসরকারি সংগঠনের নেতৃবন্দ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার বায়রার সদস্যদের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার ও অনভিপ্রেত উক্তি করেছেন তা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। তারা অপপ্রচার এবং অনভিপ্রেত উক্তি থেকে বিরত থাকবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন। তা না হলে বায়রা জনশক্তি রফতানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে বলে সতর্ক করেছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বায়রা নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বায়রার সভাপতি মোঃ শাহজালাল মজুমদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বায়রার সিনিয়র সহ-সভাপতি মনসুর আহমেদ কালাম, মোয়াজ্জেম হোসেন, গোলাম কবির, বারাকাত ভূঁইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উল্লাহ, নুরুল আলম, সদস্য খলিলুর রহমান, শামীম আহমেদ চৌধুরী, ওমর ফারুক, গোলাম নবী। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনটির মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বায়রা সভাপতি শাহজালাল মজুমদার বলেন, জনশক্তি রফতানির মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের দেশবাসীর সামনে হেয় প্রতিপন্ন করে এমনকি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এর ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করেছেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব। বায়রা ও বায়রার সদস্যদের দালাল, প্রতারক ও রক্তচোষা বলে আমাদের শুধু ছোট করেননি বরং এতে তারা কতটুকু গৌরবান্বিত হয়েছেন সেটি তারাই জানেন। সুপরিকল্পিত নিয়ম-নীতি না করে মন্ত্রণালয়ের যখন যা ইচ্ছে হয়, তখন মনগড়া প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সেক্টরকে এক অস্থিরতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে এবং দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে মালয়েশিয়া কর্মী পাঠাতে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে অযৌক্তিকভাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বহুসংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠানো হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় প্রায়শ অভিযোগ করে। দূতাবাসের সত্যায়িত ছাড়া কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় না। মন্ত্রণালয় রিক্রুটিং এজেন্সির চাহিদাপত্র পাওয়ার পর পুনরায় তার সত্যতা যাচাই করে নিয়োগের অনুমতি এবং বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কর্মী পাঠানোর সুযোগ রিক্রুটিং এজেন্সির নেই। সম্প্রতি ঢাকায় মালয়েশিয়ার মন্ত্রীর আগমনের বিষয়টিও বায়রার সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বায়রা সভাপতি। মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসার পূর্বে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বায়রার নেতারা আলাপ-আলোচনার জন্য তিনবার মন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। তিনি আমাদের সুযোগ দেননি। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার এ কে এম আতিকুর রহমান সে দেশে জনশক্তি রফতানিকারকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং রফতানিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, বলেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে শাহজালাল মজুমদার আরো বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার যে ব্যয় নির্ধারণ করেছেন সেখানে আমাদের প্রশ্ন। সে দেশের সরকার ও নিয়োগকারী সংস্থা যদি প্রতিটি কর্মীর বিমানভাড়া দেয়ার নিশ্চয়তা দেন তাহলে এর সর্বোচ্চ ব্যয় হওয়া উচিত ২০ হাজার টাকা। আজ তথাকথিত ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহের নামে কারা জড়িত? কার স্বার্থ জড়িত? এখন আবার বলা হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাগবে। এ টাকা কার পকেট ভারী করবে? তিনি বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সি কোনো অনিয়ম করলে তা বহির্গমণ আইনের ১৪ ধারা মোতাবেক লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের আছে। সেক্ষেত্রে আমাদের প্রশ্ন ২০০৭ ও ২০০৮ সালে অনিয়মের কারণে কতটি লাইসেন্স মন্ত্রণালয় বাতিল করেছে?

শাহজালাল বলেন, মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে পৃথিবীর ১৪৩টি দেশে তারা লোক পাঠাচ্ছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় কোন কোন দেশে লোক পাঠাচ্ছে সেটা আমাদের প্রশ্ন। বিশ্বের ১৪৩টি দেশে যত লোক পাঠানো হয়েছে, তা বায়রার মাধ্যমেই পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, এখানে মন্ত্রণালয়ের বাহবা নেয়ার কোনো অবকাশ নেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সুপরিকল্পিত নিয়ম নীতি না করে মন্ত্রণালয় যখন যা মনে করে, সেভাবেই প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সেক্টরকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। মালয়েশিয়া নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার এ কে এম আতিকুর রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানির বিষয়ে হাই কমিশনার বায়রা সম্পর্কে কাল্পনিক ও মনগড়া বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সে দেশে জনশক্তি রফতানিকে ভিন্ন খাতে পরিচালনার জন্য তিনি এসব বলে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, সরকার অবস্থান না বদলালে তারা আর জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) লোক পাঠানোর জন্য ছাড়পত্র নিতে যাবেন না। এই অবস্থা থেকে জনশক্তি রফতানি খাতকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন বায়রা নেতারা।

দীর্ঘদিন লোক নেয়া বন্ধ রাখার পর বাংলাদেশ সফরে এসে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এস সুব্রামানিয়াম গত ১২ সেপ্টেম্বর জানান, বাংলাদেশ থেকে আবার জনশক্তি নিতে তারা রাজি। ওই সয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা খন্দকার মোশাররফ হোসেনও জানান, মালয়েশিয়ার শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে লোক পাঠানো হবে সরকারিভাবে। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণেই এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।