|
|
বিডিনিউজ : আন্তর্জাতিক রুটের সূচিতে বিপর্যয় কাটাতে আগামী ২৯ নবেম্বর পর্যন্ত সব অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করে দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিমানের পরিচালক (জনসংযোগ) খান মোশাররফ হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের রুটের ফ্লাইট নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে যে সমস্যা চলছে তা মেটাতেই এ সিদ্ধান্ত। বিমানের মোট সাতটি অভ্যন্তরীণ রুটের মধ্যে পাঁচটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বেশ কিছুদিন আগেই। বিভিন্ন রুটের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংযোগ ফ্লাইট হিসাবে এতোদিন সিলেট ও চট্টগ্রামে অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট চললেও এখন তাও বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ, ২৯ নবেম্বর পর্যন্ত সিলেটের ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের কোনো ফ্লাইট ওঠানামা করবে না। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই ভাড়ায় আনা একটি বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজ গত ১২ সেপ্টেম্বর চলে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটসূচিতে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। বাতিল করা হয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের ডজনখানেক ফ্লাইট। পর্তুগালের বিমান সংস্থা এয়ার আটলান্টার কাছ থেকে ভাড়ায় আনা এ উড়োজাহাজটির চুক্তির মেয়াদ ছিলো ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ওই সময় পর্যন্ত ৫০৫ সিটের এ উড়োজাহাজটি দিয়ে আরো ৮টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা ছিল। বোয়িং-৭৪৭ উড়োজাহাজটি দিয়ে কুয়ালালামপুর, জেদ্দা, রিয়াদ, মাস্কাটসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছিল বিমান। এরই মধ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর চলতি বছরের হজ্জ ফ্লাইট শুরু করে বিমান। ওইদিন প্রথম ফ্লাইটে ৪১৯জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের পথে রওনা হয় বিমানের একটি বোয়িং ৭৭৭। হজ্জযাত্রী পরিবহনে ভাড়ায় আনা একটি বোয়িং ৭৪৭, দুটি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭ এবং একটি ডিসি ১০ উড়োজাহাজ ব্যবহার করছে বিমান। ফলে উড়োজাহাজ সঙ্কটে থাকা বিমানের ফ্লাইট সূচিতে সৃষ্টি হয় বড় ধরনের বিপর্যয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বিমানের বিপণন ও বিক্রয় বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের আগে পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘‘২৭১ আসনের একটি বোয়িং ৭৬৭ উড়োজাহাজ আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিমান বহরে যুক্ত হবে। এটি চলে আসলে আর কোনো সমস্যা হবে না।’’ শাহ নেওয়াজ জানান, সঙ্কট কাটাতে আপাতত বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজের যাত্রীদের পরবর্তীতে ছোট উড়োজাহাজে করে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিমানের উড়োজাহাজে পরিবহন সম্ভব না হলে অন্য বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর উড়োজাহাজে করে তাদের পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

