Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 September 2012, ৫ আশ্বিন ১৪১৯, ৩ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১২০৯ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

যশোরে ৯জন আটক

রাজশাহীতে পুলিশের রাতভর অভিযান শিবিরের ১৯ ঘুমন্ত নেতা-কর্মী গ্রেফতার

রাজশাহী : আটককৃত শিবির কর্মীদের পুলিশের ভ্যানে তোলা হচ্ছে -সংগ্রাম

রাজশাহী অফিস : শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও রাজশাহী নগরীতে আবারো শিবির পাকড়াও অভিযান শুরু করেছে সরকার। গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে নগরীজুড়ে একযোগে নগরীর বিভিন্ন ছাত্রাবাসে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে ১৮ শিবির নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। ভোররাত পর্যন্ত চলা অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন। মতিহার থানায় আটককৃতদের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র দেলাওয়ার হোসেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের মেহেরুল হাসান, ভর্তি পরীক্ষার্থী নাজমুস সাদাত ও আব্দুল আজিজ রয়েছেন। রাজপাড়া থানায় আটককৃতরা হলেন, মনিরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, জাকারিয়া, আতিক, সোহেল রানা, সাদিউল ইসলাম, সানোয়ার হোসেন, লুৎফর রহমান, বদর উদ্দিন, রাসেল হোসেন, রিয়াল উদ্দিন, আল আমিন, ও আসাদুজ্জামান। মতিহার থানার আটককৃতদের মধ্যে ৫ জনকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাদের নামে দুটি পৃথক মামলা দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন ছাত্রাবাসসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার ছাত্রাবাসে গিয়ে পুলিশ তল্লাশি চালায়। এ সময় রাজপাড়া থানা পুলিশ ১৩ জন এবং মতিহার থানা পুলিশ ৬ শিবির নেতা-কর্মীকে আটক করে। গত সোমবার গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা বাস আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার পর শিবিরের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ তোলে ছাত্রলীগ। এ ঘটনার জন্য শিবিরকে দায়ী করে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলও করে। কিন্তু ক্যাম্পাস সূত্রগুলোর দাবি, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে চলা বিরোধের জেরে এই বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া সম্প্রতি ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের প্রতিবাদে নগরীর বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করে শিবির। এসব মিছিলের বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ক্ষোভও প্রকাশ করে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতেই গত রাতে ছাত্রাবাসগুলোতে অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা।

শিবিরের তীব্র প্রতিবাদ

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে শিবিরের রাজশাহী মহানগরীর ১২ শিবির কর্মী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ জন শিবির নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগরীর সভাপতি আনিসুর রহমান বিশ্বাস ও সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম। বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ গভীর রাতে মহানগরীর ১০নং ওয়া©র্ডর একটি মেস থেকে ঘুমন্ত ছাত্রদের ডেকে তুলে ১২ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর ও বুধপাড়া এলাকা থেকে ৭ জন ঘুমন্ত ছাত্রকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ঘুমন্ত ছাত্রদেরকে ডেকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার কোন সভ্য দেশে চলতে পারে না। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও জেল জুলুম করে ছাত্রশিবিরের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা যাবে না।

যশোরে ৯ শিবির কর্মী আটক :  যশোরে গভীর রাতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের মেসে তল্লাশি করে ৯ কর্মীকে আটক করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ। কোনো কারণ ছাড়াই তাদেরকে আটক করে মারপিট করা হয়েছে বলে শিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

ছাত্রশিবির যশোর শহর শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, রাত ১টার দিকে তাদের পরিচালিত সরকারি  সিটি কলেজ সংলগ্ন রেনেসা ছাত্রাবাসে পুলিশ যায়। পুলিশ ছাত্রদের ছাত্রাবাসটির গেট খুলতে বলে। রাতে গেট খুলতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা গেটের ওপর দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা শিবির-কর্মী বাবুল হোসেন, আবু বক্কার সিদ্দিক, সোহানুর রহমান বাবু, শাকির হোসেন, নাজমুল হুদা, আলমগীর হুসাইন, গোলাম মোর্তজা টিপু, শরিফুল ইসলাম ও সোহেল রানাকে আটক করে। কোন কারণ ছাড়াই তাদেরকে আটকের সময় ব্যাপক মারপিট করা হয় বলে শিবির নেতা শফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন। ছাত্রশিবির সিটি কলেজ শাখার সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, মঙ্গলবার ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মিছিল করার অপরাধে ৯ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রহমান বলেন, শিবির কর্মীরা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের  ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাই তাদেরকে আটক করে জেল হাজতে চালান দেয়া হয়েছে।