Quantcast
ঢাকা, শনিবার 22 September 2012, ৭ আশ্বিন ১৪১৯, ৫ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৪০৯ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

রাসূল (সা.)কে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল সারা দেশ

চলচ্চিত্রকার ও কার্টুনিস্টকে কঠোর শাস্তি দিতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার : আমেরিকার চলচ্চিত্রে ও ফ্রান্সের পত্রিকায় রাসূল (সা.)কে অবমাননা করার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল সারা দেশ। অবমাননাকারী চলচ্চিত্রকার ও কার্টুনিস্টের ফাঁসির দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। আমেরিকা ও ফ্রান্সের পতাকা পুড়ানো হয়েছে, এ দু'টি দেশের পণ্য বর্জন করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও প্রতীকী কফিন ও কুশ পুত্তলিকা পুড়িয়েছে বিক্ষোভকারীরা। অবিলম্বে চলচ্চিত্রকার ও কার্টুনিস্টের মৃত্যুদন্ড দেয়া না হলে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে অবাঞ্ছিত করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে বিক্ষোভ সমাবেশে।

গতকাল শুক্রবার জুমার নামাযের পর সারাদেশের সকল মসজিদ থেকে আমেরিকার চলচ্চিত্রে রাসূল (সা.)কে অবমাননা করায় এবং ফ্রান্সের পত্রিকায় ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি ইসলামী সংগঠনের ব্যানারে লাখো মুসুল্লী প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে। তারা অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে জুতা মিছিল করেছে এবং আমেরিকা ও ফ্রান্সের পতাকায় অগ্নিসংযোগ করেছেন। বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ফিকাহ একাডেমীসহ বিভিন্ন সংগঠন।

হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মুহম্মদ (স.)কে অপমান করে চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং ফ্রান্সে ব্যঙ্গচিত্রকারকে ফাঁসি না দেওয়া হলে আমরা বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী। গতকাল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভে  তিনি এ কথা বলেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জুমার নামাজ শেষে মিছিল বের করে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সামনে এসে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ঢাকা মহানগরের সভাপতি এটিএম হেমায়েত উদ্দিন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, নগর সহ-সভাপতি আলহাজ্জ আলতাফ হোসেন,  কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম।

আল মাদানী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে মুহম্মদ (সা.) কে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করায় নিন্দা জানিয়েছেন। কিন্তু জাতীয় সংসদে এর নিন্দা প্রস্তাব আনেননি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আনুষ্ঠানিকভাবে-এর কোনো নিন্দা জানায়নি। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই নিন্দাকে আমরা রাজনৈতিক বক্তব্য বলে মনে করছি। এ সময় তিনি দেশবাসীকে মার্কিন ও ফ্রান্সের সকল পণ্য বর্জনের আহবান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চরিত্র নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র মুসলমানদের হৃদয়ে চরম আঘাতই করেনি। এর মাধ্যমে ফ্রান্সও আমেরিকা তাদের সর্বনাশা পতনও ডেকে আনছে। রাসূল (সা.)-এর অবমাননার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা সকল মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য। তিনি বলেন, অবিলম্বে এই সিনেমাটি বন্ধ এবং নির্মাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের গ্রেফতার ও ফাঁসি দিতে হবে অন্যথায় বিশ্বময় প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের আগুন জ্বলে উঠবে আর সেই আগুনে ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর পতন হবে।

রাসূল (সা.)কে অবমাননা করার প্রতিবাদে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি গতকাল দেশব্যাপী বিক্ষোভ দিবস পালন করেছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল বিভাগীয় শহর ছাড়াও অধিকাংশ জেলা শহর এবং অনেক উপজেলা সদরেও বাদ জুমা, কোথাও কোথাও বাদ আছর বিভিন্ন মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব মিছিলে মার্কিন চলচ্চিত্রে মহানবী (সা.)কে জঘন্যভাবে অবমাননা করার প্রতিবাদে মার্কিন পতাকায় অগ্নিসংযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুশপুত্তলিকা দাহ এবং মার্কিন পতাকায় মোড়ানো প্রতীকী কফিনে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং ইহুদি নাসারাদের ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। মার্কিন ও ফ্রান্সসহ পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে স্লোগানে এলাকা মুখরিত করা হয়।

ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ এবং মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, অবিলম্বে এই কুখ্যাত চলচ্চিত্রের নির্মাতাকে যদি ফাঁসি না দেয়া হয় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি বিশ্ব মুসলিমের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা না করে তাহলে গোটা বিশ্বের মুসলমানরা মার্কিন পণ্য বর্জনসহ মহানবী সা. এর অবমাননার দাঁতভাঙা জবাব দিবে।

ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা আবু তাহের জিহাদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, ইসলামী ঐক্যজোট মহাসচিব ও কমিটির নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, বিশেষ অতিথি ছিলেন কমিটির নায়েবে আমীর মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মুফতী ফয়জুল্লাহ, মাওলানা আবুল কাশেম, অধ্যাপক এহতেশাম সরোয়ার, মাওলানা শেখ লোকমান হোসেন, মাওলানা শেখ মজিবুর রহমান প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা নেজামী বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব আজ মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড শুরু করেছে। এই ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখলে মুসলিম বিশ্ব থেকে তোমাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। মুসলমানদের থেকে পণ্য নিবে আর তাদের মহানবীকে অবমাননা করবে তা আর সহ্য করা হবে না। পাশ্চাত্যের আধিপত্য মুসলমানরা আর মানবে না। তিনি প্রয়োজনে তাদের সাথে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহবান জানান।

মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, পাশ্চাত্যের এ ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র সারা বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে। অচিরেই আমেরিকার পরিণতি রাশিয়ার মত হবে।

সমাবেশ শেষে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল উত্তর গেইট থেকে শুরু করে পুরানা পল্টন, তোপখানা রোড হয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে  সমাপ্ত হয়।