|
|
মন্ত্রী রাজু'র আগমনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
নরসিংদী : ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী জেলা হাসপাতালের সম্মুখ রাস্তায় ঢাকা থেকে আগরতলাগামী মৈত্রী বাসে অগ্নি সংযোগের দৃশ্য -সংগ্রাম
নরসিংদী সংবাদদাতা : আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর নরসিংদী সফরকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার নরসিংদীতে লোকমান সংগ্রাম পরিষদের সমর্থকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে সাংবাদিক, লোকমান সমর্থক ও পুলিশ সহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল, তার সাথী নাজিম উদ্দিন ও জামান, চ্যানেল ২৪ এর স্টাফ রিপোর্টার সঞ্জিত সাহা, একুশে টিভির জেলা প্রতিনিধি মাখন দাস, জনতার সংবাদের জেলা প্রতিনিধি জসীম উদ্দিন রয়েছে। প্রায় ১২ শত পুলিশ মোতায়েন করেও শেষ রক্ষা করতে পারেনি নরসিংদী জেলা পুলিশ প্রশাসন। শহরব্যাপী চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উত্তেজিত পিকেটাররা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালের সামনে ঢাকা থেকে আগরতলাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি মালবাহী ট্রাকে অগ্নি সংযোগ করে ভস্মীভূত করেছে। ফলে বিকেল ৪টা থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। মন্ত্রীর নরসিংদী সফর প্রতিহত করতে জনপ্রিয় মেয়র প্রয়াত লোকমান হোসেন সংগ্রাম পরিষদ লোকমান হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত খুনিদের ফাঁসির দাবিতে গতকাল জেলা আওয়ামী লীগ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে। জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এতে বাধা প্রদান করে। বাধা পেয়ে সংগ্রাম পরিষদ শহরের পশ্চিম প্রান্তে মেয়রের বাড়ির কাছে শাপলা চত্বরে বিকেল ৩ টায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। সেখানেও পূর্ব থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ পুরো শাপলা চত্বর এলাকা ঘেরাও করে রাখে। পুলিশের সাথে র্যাবও মোতায়েন করা হয়। এসময় মেয়র কামরুজ্জামান সংগ্রাম পরিষদের সমর্থকদের নিয়ে মিছিলসহ শাপলা চত্বর হয়ে নতুন বাজারের দিকে যেতে থাকলে পুলিশ প্রথমে তাদের ওপর লাটি চার্জ এবং টিয়ার সেল নিক্ষেপে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাসাইল জেলা হাসপাতালের সামনে শত শত লোকমান সমর্থক জড়ো হয়। এসময় রাস্তায় উত্তেজিত পিকেটাররা রাস্তায় গাছ ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ সৃষ্টি করে এবং ঢাকা থেকে আগরতলাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেক্স নাম্বার- TROIB-1355, ট্রাক- ঢাকা মেট্রো-ট-১১-১৩০৩) অগ্নিসংযোগ করে ভষ্মীভূত এবং শ্যামলী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা-মেট্রো-ভ-১৪-৬৫৩৩) (ঢাকা মেট্রো-ঢ-১৪-১০৪৪)সহ অন্যান্য ৭/৮টি যানবাহন ব্যাপক ভাংচুর করে। ফলে বেলা ৪টা থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সকল যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে প্রয়াত মেয়রের পত্নী তামান্না নুছরাত বুবলী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার সকলেরই রয়েছে। আমরা গণতান্ত্রিকভাবে আমাদের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশী বাধার সম্মুখীন হয়েছি। কোন সভ্যদেশে এ ধরনের পুলিশী নির্যাতনে কোন নজির নেই। পুলিশ এলাকায় ১৪৪ ধারাও বা কারফিও জারি করেনি। তবে কেন আমাদেরকে কর্মসূচিতে বাধা দিল। অপরদিকে মেয়র কামরুজ্জামানও একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, পুলিশ অযথা বাড়াবাড়ি করছে। আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার পালন করতে গিয়ে পুলিশী হয়রানির শিকার হয়েছি। আমাদের লোকজনদেরকে অযথা লাঠি চার্জ, টিয়ার গ্যাস ও ফাঁকা গুলী বর্ষণ করে আতংক সৃষ্টি করেছে। এমনকি আমিও পুলিশী হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পাইনি। আমার কোন দোষ থাকলে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করতে পারতো।
এদিকে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোন্তাজ উদ্দিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে মন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে শহরে এক বিশাল মিছিল বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পদক্ষিণ করেছে।
সাংবাদিক সঞ্জিত সাহা, মাখন দাস, মোঃ জসিম উদ্দিনসহ সাংবাদিকরা পুলিশের হাতে আহত হওয়ার ঘটনায় নরসিংদী প্রেসক্লাবের সকল সাংবাদিক তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা নিন্দা ও এ ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

