|
|
রাজ্যশ্রী বকসী, কলকাতা : বেশ কিছু রদবদল হবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়। এ ব্যাপারে আলোচনার জন্য সম্ভবত আজই বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী এবং কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তৃণমূলের ৬ মন্ত্রী ইস্তফা দেয়ার ফলে রেল মন্ত্রণালয় ছাড়াও ৫টি মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ খালি। শূন্যস্থান পূরণে অবিলম্বে মন্ত্রিসভায় কিছু পরিবর্তন জরুরি। অনুমান আগামী সপ্তাহেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে পারে।
হাইকম্যান্ডের নির্দেশ মতো রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন কংগ্রেসের মন্ত্রীরা। শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটায় বিধান ভবনে কংগ্রেসের ৬ মন্ত্রীকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। হবে কার্যনির্বাহ বৈঠক কংগ্রেসের মন্ত্রীরা ওইদিন পদত্যাগপত্র তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিকেল পাঁচটায় সময় চাওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের চিঠিও এ দিনই রাজ্যপালের হাতে তুলে দেবে প্রদেশ কংগ্রেস। সরকার থেকে বেরিয়ে আসতে বেশ কিছু অভিযোগ খাড়া করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। তাদের মূল অভিযোগ, রাজ্যে আইন-শৃক্মখলার পরিস্থিতির অবনতি ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধের ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অধীর চৌধুরীর দাবি, রাজ্য সরকারের সঙ্গে সম্পর্কোচ্ছেদ করায় প্রদেশ কংগ্রেসের ভালই হবে।
২০১৪-র সাধারণ নির্বাচনে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে দলের কাজে নিয়োগ করতে চান সোনিয়া গান্ধী।
তাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বেশ কিছু নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও যারা একই সঙ্গে কয়েকটি মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, তাদেরও বোঝা কমানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রাজ্য থেকে অন্তত তিনজন কংগ্রেস সংসদ সদস্যকে মন্ত্রী করার দাবি জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস চিঠি লিখে প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ওমপ্রকাশ মিশ্র কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কাছে আর্জি জানিয়েছেন, অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য। তাই পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সঠিক সংখ্যায় প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত। সূত্রের খবর, রেলমন্ত্রক নিজেদের হাতেই রাখতে চায় কংগ্রেস। সেক্ষেত্রে রেলমন্ত্রীর পদে জয়রাম রমেশের নাম ভাবা হচ্ছে। রমেশ বর্তমান গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, অর্থ এবং বিদেশমন্ত্রকে কোনও রদবদলের সম্ভাবনা নেই বলেই এখনও পর্যন্ত অনুমান করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার সময় বিক্ষোভ
রাজ্যশ্রী বকসীর আরেক খবরে বলা হয়, নয়াদিল্লীর বিজ্ঞানভবনে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার নিয়ে যখন বক্তৃতা দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, তখন এক ব্যক্তি টেবিলের ওপর উঠে, তার জামা খুলে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী ফিরে যাও। নিরাপত্তারক্ষীরা সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যক্তিকে সরিয়ে নিয়ে যান। পেশায় আইনজীবী, বিহারের বাসিন্দা সুমন কুমারকে আটক করেছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, ভারতের উচিত এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যেখানে আরও বেশি করে বিনিয়োগকারীরা আসতে আগ্রহী হবে। দেশের আর্থিক বৃদ্ধির জন্য যা এই মুহূর্তে একান্ত প্রয়োজনীয়। তিনি আরও বলেন, এটা আমাদেরই দায়িত্ব, বিনিয়োগকারীদের সামনে পুরো পদ্ধতিটা যেন স্বচ্ছ থাকে। তাহলেই বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিন্তে বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে আসবে। তার বক্তৃতায় তিনি মহাত্মা গান্ধীর কথা উল্লেখ করে বলেন, ভারতীয়রা যথেষ্ট ভাগ্যবান, কারণ তারা জানে সত্যাগ্রহ কিভাবে পালন করতে হয়। ভারতবাসীকে সেই শিক্ষাই দিয়ে গেছেন মহাত্মা গান্ধী।

