Quantcast
ঢাকা, বুধবারর 26 September 2012, ১১ আশ্বিন ১৪১৯, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৫৭৫ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের আবেদন

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মাহমুদুর রহমানের ২৯ দফা অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অসদাচরণের অভিযোগে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের আবেদন করেছেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির কাছে এ আবেদন করেছেন তিনি। এ নিয়ে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার লিখিতভাবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের আবেদন জমা পড়লো। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী আবেদন করলে বঙ্গভবন থেকে বিধি অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি বিচার বিভাগ ও জাতীয় সংসদ মুখোমুখি হয়ে পড়েছিল বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর একটি আদেশের কারণে। স্পিকার কটি রুলিং জারি করে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছিলেন। পরে ওই রুলিংয়ের কার্যকারিতা হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদসহ কয়েকজন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন।

মাহমুদুর রহমানের করা আবেদনে মানিলন্ডারিং (মুদ্রা পাচার), বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আইন ভঙ্গ ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সম্পদের হিসাব গোপন এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের আচরণবিধি ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট ২৯টি অভিযোগ করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ও রাষ্ট্রপতির কাছে ইংরেজীতে লেখা ১৬ পৃষ্ঠার অভিযোগ তিনি স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে জমা দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এই অভিযোগ গ্রহণ করেছেন। পরে বেলা ১টার দিকে বঙ্গভবনে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি জমা দেয়া হলে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল ফখরুদ্দিন আহমদ তা গ্রহণ করেন। মাহমুদুর রহমানের পক্ষে দৈনিক আমার দেশের বিশেষ প্রতিনিধি অলিউল্লাহ নোমান আবেদনটি বঙ্গভবনে পৌঁছে দেন।

 অভিযোগে বলা হয়, মানিলন্ডারিং (মুদ্রা পাচার) আইন, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আইন ও আয়কর আইন অনুযায়ী বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে লন্ডনের একটি আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলায় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী জবাব দেয়ার জন্য সময়ের আবেদন করেছেন।

মানিলন্ডারিং আইন ভঙ্গের অভিযোগে বলা হয়, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ২০১০-১১ সালের আয়কর হিসাবে দেখিয়েছেন, লন্ডনে তাঁর ৩টি বাড়ি রয়েছে। এই বাড়িগুলো কিনেছেন ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে। ৩টি বাড়ির মধ্যে একটি বাড়ির ঠিকানাও অসম্পূর্ণ বা ভুল দেয়া হয়েছে। আয়কর নথিতে উল্লেখ করা 6 Ruskin Way, London SW17 বাড়িটির অঁস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি। আয়কর নথিতে দেখানো হয় তিনি ৫০ লাখ টাকায় এলিফ্যান্ট রোডের একটি বাড়ি বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে ৪০ লাখ টাকা লন্ডনে ৩টি বাড়ি ক্রয় করতে ব্যয় হয় । অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আয়কর নথিতে উল্লেখিত ৩টি বাড়ির বাইরেও লন্ডনে তার আরো একটি বাড়ি রয়েছে। আয়কর নথিতে লন্ডনে ৩টি বাড়ি ক্রয়ে যে পরিমাণ টাকা ব্যয় দেখিয়েছেন তার কয়েক গুণ বেশি মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। অতিরিক্ত এই টাকার কোন হিসাব বা উৎস আয়কর নথিতে দেখানো হয়নি। বাংলাদেশ থেকে টাকা লন্ডনে কি পন্থায় পাঠানো হয়েছে তার কোন উল্লেখ আয়কর নথিতে নেই। বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আইন ও মানিলন্ডারিং (মুদ্রা পাচার) আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের বাইরে এত বিপুল পরিমান টাকা সরাসরি পাঠানোর কোন সুযোগ নেই।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, লন্ডনের ভূমি অফিসের তথ্যানুযায়ী বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী লন্ডনের 108 Sheppey Road, Dagenham (RM9 4LB) ঠিকানার বাড়িটি কিনেছেন সেখানকার স্থানীয় মূদ্রা ১ লাখ ৮৬ হাজার পাউন্ডে। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ ২  কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

২০০৮ সালের ৭ অক্টোবর তিনি এই টাকা পরিশোধ করে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করেছেন।

লন্ডন ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী 26 The Warrent, London (E12 5HY)  ঠিকানার বাড়িটির মালিক হলেন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী। ২০০৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তিনি এই বাড়িটি কিনেছেন। রেজিস্ট্রি দলীলের তথ্যানুযায়ী বাড়িটির ক্রয় মূল্য হচ্ছে লন্ডনের স্থানীয় মুদ্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড। বাংলাদেশী টাকায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

ভূমি অফিসের রেকর্ড অনুযায়ী 94 East Hill. London (SW18 2HF) বাড়িটির মালিক হলেন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী এবং নাদিয়া চৌধুরী। গত বছরের (২০১১) সালের ২১ নবেম্বর বাড়িটি তাদের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। এর ক্রয় মূল্য হচ্ছে লন্ডনের স্থানীয় মূদ্রায় ১০ হাজার পাউন্ড। এই বাড়িটির ক্রয় রেজিস্ট্রারে তাদের ঠিকানা দেখানো হয়েছে 108 Sheppey Road, Dagenham (RM9 4LB)| 94 East Hill. London (SW18 2HF এই সম্পত্তিটি আয়কর নথিতে দেখানো নেই।

তার আয়কর নথিতে 6 Ruskin Way, London SW17 ঠিকানায় আরো একটি সম্পত্তি দেখানো হয়েছে। এই ঠিকানাটি ভুল অথবা  অসম্পূর্ণ অথবা তিনি ঠিকানা গোপন করেছেন। লন্ডন ভূমি অফিসের রেকর্ডে এই ঠিকানায় কোন সম্পত্তি তার নামে নেই।

বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী 108 Sheppey Road, Dagenham (RM9 4LB) ঠিকানার বাড়িটি ক্রয়ের ক্ষেত্রে Mortgage express নামের একটি অর্থঋণ কোম্পানি থেকে ঋণের জন্য আবেদন করেন। এই আবেদনে তিনি নিজেকে লন্ডনের একটি কোম্পানিতে মার্কেটিং ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত বলে দাবি করেন। মার্কেটিং ম্যানেজার হিসাবে তিনি বছরে লন্ডনের স্থানীয় মূদ্রায় ৩৪ হাজার ৪৫০ পাউন্ড বেতন পান বলেও উল্লেখ করা হয় ঋণের আবেদনে। ঋণের আবেদনে তিনি ২০০৩ সালের ১ জুন তারিখে এই বর্ণনা উল্লেখ করেন। অথচ তিনি তখন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত একজন বিচারপতি। তিনি হাইকোর্ট বিভাগে ২০০৩ সালের ২ জুলাই পর্যন্ত অস্থায়ী বিচারপতি হিসাবে কর্মরত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি ও সুপ্রিম জুডিশিয়ালের কাছে পেশ করা আবেদনে বলা হয় সুপ্রিম কোর্টের আচরণবিধি অনুযায়ী বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থাকা অবস্থায় ভিন্ন কোন চাকরি করতে পারেন না। তিনি বিচারপতি থাকা অবস্থায় লন্ডনে ঋণের আবেদনে নিজেকে সেখানে একটি কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার হিসাবে দাবি করে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছেন।

অভিযোগে আরো জানানো হয়, চলতি বছরের (২০১২ সালের) ২৫ জুন জিসান নাসিম নামে এক ব্যক্তি লন্ডনের আদালতে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দাবি করা হয় ওই ব্যক্তির কাছে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী নিজেকে একজন ইমিগ্রেশন এডভাইজার হিসাবে পরিচয় দেন। ইমিগ্রেশন এডভাইজার হিসাবে তিনি ওই ব্যক্তিকে লন্ডন ওয়েস্টমিনিস্টার কলেজে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন এবং বলেন এই কলেজের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। মামলায় দাবি করা হয় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী ইমিগ্রেশন এডভাইজারের পাশাপাশি নিজেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি হিসাবে দাবি করে এবং তাঁকে কলেজটিতে ভর্তি হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। বিচারপতি মানিকের পরামর্শে সেই কলেজে ভর্তি হয়ে জিসান নাসিম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লন্ডনের স্থানীয় মূদ্রায় ১৫ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করেছেন। লন্ডনের দি নর্দাম্পটন কাউন্টি কোর্টে এ দায়ের করা মামলাটির নম্বর হচ্ছে 2QT70489। মামলার নোটিশ পাওয়ার পর গত ৭ জুলাই বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী আদালতে একটি সময়ের আবেদন জানান। মামলার নোটিশের জবাব দিতে সময়ে আবেদনে তিনি নিজেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি হিসাবে উল্লেখ করেন। এছাড়া ভিত্তিহীন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে দাবি করে বলা হয় জবাবের জন্য পর্যাপ্ত সময়ের দরকার।

রাষ্ট্রপতি ও সুপ্রিম জুডিশিয়ালের কাছে পেশ করা আবেদনে আরো বলা হয়, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বিভিন্ন সময়ে লন্ডনে গিয়ে টেলিভিশন টক শো-তে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখেন। বর্তমান শাসক দলের পক্ষে ও বিরোধী দলের বিপক্ষে বক্তব্য রাখেন এসব টক শো-তে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পুলিশের নির্যাতনে গত বছরের ২৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম ইউ আহমদ নিহত হন। এই ঘটনার পর সেপ্টেম্বরে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী লন্ডনে সেখানকার চ্যানেল আই-তে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। চ্যানেলটির লন্ডনের প্রধান নির্বাহী রিয়াজ আহমদ ফয়সলের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই টক শো-তে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বিভিন্ন রাজনৈতিক বিতর্কিত বিষয়ে বক্তব্য দেন। পুলিশি নির্যাতনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম ইউ আহমদের হত্যাকান্ডের বিষয়েও তিনি বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। তিনি সুস্পষ্ট করে বলেন এই ইউ আহমদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ছিল। পুলিশের নির্যাতনে নয়, তিনি রোগে মারা গেছেন। তদন্তাধীন ও বিচারাধীন কোন বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতের বিচারপতি এ ধরনের পাবলিক বক্তব্য প্রদান করে বিচারপতিদের জন্য তৈরি করা আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যালে লালবাতির কারণে আটকে দেয়ায় পুলিশ ও ট্রাফিক সদস্যদের রাস্তায় কান ধরিয়ে ওঠা-বসা করানো, রুল জারি করে আদালতে ডেকে এনে গালাগালি করা, সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মানিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রুল জারি করে তলব করা এবং তাদের অকথ্য ভাষায় গালি দেয়ার বিষয়টিও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিচারপতিদের জন্য সর্বশেষ প্রণীত আচরণবিধির ১, ২, ৩, ৯ ও ১১ লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়। আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্ট করে বলে দেয়া আছে বিচারপতিদের অসদাচরণের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি ও কর্মে প্রবীণ অপর দুই বিচারপতিকে নিয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল তদন্ত করবে।

গত ১৪ মে সড়ক ভবন নিয়ে আদালত অবমাননা মামলায় বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী এবং বিচারপতি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ ৫ জুনের মধ্যে ব্লক সি এর বাকি অংশ ও ব্লক এ'র দু'টি কক্ষ সুপ্রিম কোর্টকে হস্তান্তর করতে নির্দেশ দেন। এ আদেশের বিষয় উত্থাপিত হলে স্পিকার আবদুল হামিদ গত ২৯ মে সংসদে বলেছিলেন, দেশের মানুষের বিচারের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর লেগে যাবে আর নিজেদের বিষয় বলে বিচার বিভাগ ঝটপট সিদ্ধান্ত  নিয়ে নেবেন, এটি ভালো দেখায় না। আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ হলে জনগণ বিচার বিভাগের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে পারে। ৫ জুন বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ স্পিকারের এ বক্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটা হলো রাষ্ট্রদ্রোহিতা। স্পিকারের বক্তব্য আদালত অবমাননাকর। পদে থাকার অধিকার তার নেই। একই দিন সন্ধ্যায় সংসদে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর সমালোচনা করে বক্তব্য দেন সরকারদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য। তারা বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারপতিকে অপসারণের দাবি জানান। পরে  ১৮ জুন স্পিকার আবদুল হামিদ এ ব্যাপারে রুলিং দেন। রুলিংয়ের শেষ অংশে তিনি বলেন, ‘২৯ মে ২০১২ তারিখে সংসদে আমার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ৫ জুন ২০১২ তারিখে হাইকোর্টের একজন মাননীয় বিচারপতি সংবিধানের ৭৮(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে সংসদ সম্পর্কে, আমার সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন তা কোন বিবেকবান মানুষ উচ্চারণ করতে পারেন কি না আমার সন্দেহ রয়েছে। একই সাথে বলবো আদালতের এ ধরনের আচরণে কি করণীয় থাকতে পারে মাননীয় প্রধান বিচারপতি সে বিষয়টি ভেবে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তাতে আমাদের সমর্থন থাকবে।' গত ১৮ জুলাই রুলিংয়ের এই দুটি অংশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সাবেক বিচারপতি এ কে এম শফিউদ্দিন হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন। রিট আবেদনে হাইকোর্টের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর মন্তব্যের বিরুদ্ধে স্পিকারের রুলিং কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের রুলিং বা আদেশ জারি করা না হয় সে নির্দেশনা চাওয়া হয়। এরপর ২৪ জুলাই বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ সংক্রান্ত রিট নিত্তি করেন কিছু পর্যবেক্ষণসহ সংক্ষিপ্তভাবে।

পরে ২৭ আগস্ট পুর্ণাঙ্গ রায়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার আবদুল হামিদের রুলিংয়ের দু'টি অংশকে বেআইনী এবং অকার্যকর করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে স্পিকারের রুলিংয়ে যে কথা বলা হয়েছে তার কোন আইনগত ভিত্তি নেই, আইনের দৃষ্টিতে যা অস্তিত্বহীন বলে উল্লেখ করা হয় রায়ে। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৬ জুন সপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোঃ মোজাম্মেল হক। বঙ্গভবন থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে বলা হলেও এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ তখন বলেছিলেন, বিধি অনুযাযী আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু করণীয় নেই।