Quantcast
ঢাকা, বুধবারর 26 September 2012, ১১ আশ্বিন ১৪১৯, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৯৮৮ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

মাওলানা নিজামীর মামলায় জেরার জবাবে বললেন মিছবাহুর রহমান

জোট সরকারের সময়ে অনৈতিক সুবিধা চেয়ে পাইনি বলে নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়েছি- ইহা সত্য নয়

0আমি সওয়াবের জন্য সাক্ষ্য দিতে এসেছি0

শহীদুল ইসলাম : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ১৯৭১ সালের মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী আওয়ামী মহাজোটের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরীকে গতকাল মঙ্গলবার পুনরায় জেরা করেছেন অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী। গতকাল সকালে প্রথম সেশনেই মাওলানা নিজামীর উপস্থিতিতে তার জেরা হয়। জেরা অসম্পূর্ণ থাকায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পুনরায় তাকে জেরা করা হবে। বিচারপতি নিজামুল হক ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ গতকাল মিছবাহুর রহমানের জেরা হয়। মাওলানা নিজামীর আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম তাকে প্রশ্ন করেন যে, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আপনি নিজামী সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করে অনৈতিক সুবিধা চেয়েছিলেন। তিনি আপনাকে কোন অনৈতিক সুবিধা দিতে রাজি হননি বিধায় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে অন্য রাজনৈতিক জোটের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করার জন্য একটি চিঠি তৈরি করে তা সিরাজুল ইসলাম মতলিবের চিঠি বলে এই আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মিছবাহুর রহমান চৌধুরী এর জবাবে বলেন, ইহা সত্য নয়। সকাল ১০টা ৪০ মি. থেকে বেলা ১টা ৫ মিনিট পর্যন্ত গতকাল মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর জেরা হয়। জেরা রেকর্ড শেষে জেরার কপিতে সই করার আগ মুহূর্তে তিনি ট্রাইব্যুনালে বলেন, আমি সওয়াবের উদ্দেশে স্বউদ্যোগে এই ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসেছি। এ কথা বলার পর ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত কিছু সংখ্যক জুনিয়র আইনজীবী জোরে হেসে দিলে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান রেগে বলেন, কেন এই হাসি। আমরা সাক্ষীর প্রটেকশন দিতে চাই। এভাবে হাসলে সাক্ষী আসবে না। এ সময় এডভোকেট তাজুল ইসলামের সাথে চেয়ারম্যানের কিছু বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান নিজেও বলেন, আমরাও এখানে সওয়াবের জন্য বসেছি।

মিছবাহুর রহমানের জেরায় সহায়তা করেন এডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক, নাজিব মোমেন প্রমুখ। গত ১৭ সেপ্টেম্বরের পরে গতকাল মিছবাহুর রহমানের পুনরায় জেরা হয়।

মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর গতকাল ২৫ সেপ্টেম্বরের জেরার বিবরণ নিম্নরূপ :

প্রশ্ন : মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আটক হয়েছিলেন কি না?

উত্তর : বিষয়টি আমার জানা নেই।

প্রশ্ন : আমির হোসেন মোল্লা, পিতা-মৃত হাজী সুরজত আলী মোল্লা, সাং- দোয়ারীপাড়া, থানা- পল্লবী, ঢাকা- এই নাম ঠিকানার কাউকে চেনন?

উত্তর : চিনি না।

প্রশ্ন : মোজাফফর আহমেদ খান, পিতা- মৃত নূর মোহাম্মদ খান, সাং- ভাওয়াল খানবাড়ী, থানা- কেরানীগঞ্জ, জেলা- ঢাকাকে চেনেন?

উত্তর : চিনি না।

প্রশ্ন : দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিজামী সাহেব গ্রেফতার হয়েছিলেন?

উত্তর : আত্মগোপনে ছিলেন।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনি পত্রিকা পড়তেন?

উত্তর : জি, পড়তাম।

প্রশ্ন : কোন কোন পত্রিকা পড়তেন?

উত্তর : আমাদের মৌলবীবাজারের বাসায় সংবাদ ও আজাদ পত্রিকা যেত। তবে নিয়মিত নয়, মাঝে মাঝে যেত।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের কোন পত্রিকায় আপনি দেখেছেন যে মতিউর রহমান নিজামী আলবদর বাহিনী প্রধান ছিলেন?

উত্তর : স্মরণ নেই।

প্রশ্ন : আপনি লন্ডন যাওয়ার আগে আলবদর বাহিনীর প্রধান নিজামী সাহেব ছিলেন মর্মে কোন পত্রিকায় খবর দেখেছিলেন?

উত্তর : বেশ কয়েকটি পত্রিকায় কয়েকটি খবর প্রকাশিত হয়েছিল যাতে মতিউর রহমান নিজামী আলবদর বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি ঐ বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তবে সুনির্দিষ্টভাবে পত্রিকার নাম ও তারিখ বলতে পারব না।

প্রশ্ন : ১৯৭১-৭২ সালের কোন পত্রিকা আপনার সংগ্রহে আছে?

উত্তর : অনেক পত্রিকাই আমার সংগ্রহে আছে।

প্রশ্ন : ঐ সময়কার পত্রিকার কোন কপি তদন্ত কর্মকর্তা আপনার কাছে চাননি এবং আপনি দেননি।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ইংল্যান্ডে থাকাকালে কোন পত্রিকা পড়তেন?

উত্তর : গার্ডিয়ান পত্রিকা নিয়মিত পড়তাম। বাংলা সাপ্তাহিক জনমত পত্রিকাটিও নিয়মিত পড়তাম।

প্রশ্ন : ১৯৭২ সালের কোন মাসে আপনি ইংল্যান্ডে যান?

উত্তর : জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে।

প্রশ্ন : ইংল্যান্ডে থাকাকালে গার্ডিয়ান পত্রিকার কোন খবরে কি আপনি দেখেছিলেন যে মতিউর রহমান নিজামী আলবদর বাহিনীর প্রধান বা এই বাহিনীর সদস্য ছিলেন?

উত্তর : মনে নেই।

প্রশ্ন : জনমত পত্রিকায় দেখেছেন?

উত্তর : জনমত পত্রিকায় নিজামীকে আলবদর প্রধান হিসেবে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তারিখ বলতে পারব না। ১৯৭২-১৯৭৩ সালে জনমত পত্রিকায় এই খবরগুলো প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রশ্ন : আপনার সাথে তদন্ত কর্মকর্তার কতবার দেখা হয়েছিল?

উত্তর : তদন্তকালে ২ বার দেখা হয়।

প্রশ্ন : জনমত পত্রিকার তথ্যগুলো আপনি তদন্ত কর্মকর্তাকে দেননি।

উত্তর : তিনি এ ব্যাপারে কোন প্রশ্ন না করায় তাকে দেইনি।

প্রশ্ন : সিরাজুল ইসলাম মতলিব সাহেবের চিঠির কপি আপনি তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়েছিলেন।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : তদন্ত কর্মকর্তার সাথে প্রথম কত তারিখে দেখা হয়?

উত্তর : স্মরণ নেই।

প্রশ্ন : চিঠি জব্দ করার আগে প্রথম বার তদন্ত কর্মকর্তার সাথে যখন দেখা হয় তখন চিঠির কথা বলেছিলেন?

উত্তর : প্রথম বার দেখা হলে চিঠির কথা তাকে বলি। দ্বিতীয় বার চিঠির কপি হস্তান্তর করি।

প্রশ্ন : এই দুইবার দেখা হওয়ার মধ্যে সময়ের ব্যবধান কতদিন?

উত্তর : ২৫/৩০ দিন হবে।

প্রশ্ন : চিঠি কোথায় দিয়েছিলেন?

উত্তর : দ্বিতীয় বার তিনি আমার অফিসে এসে চিঠি জব্দ করেন।

প্রশ্ন : আপনার অফিস কোথায়?

উত্তর : ৪৪ দিলকুশা বা/এ ঢাকা।

প্রশ্ন : উনার সাথে তখন আর কে ছিলেন?

উত্তর : নাম জিজ্ঞেস করি নাই। আরো ২/৩ জন ছিলেন।

প্রশ্ন : তখন কি কোন কাগজে সাক্ষর করেছিলেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনি তদন্ত সংস্থার অফিসে কখনো গিয়েছিলেন?

উত্তর : প্রথম বার উনি নোটিশ করেছিলেন। এজন্য গিয়েছিলাম।

প্রশ্ন : তখন সেখানে গিয়ে জবানবন্দী দিয়েছিলেন?

উত্তর : জি, ওখানে বসে জবানবন্দী দিয়েছিলাম।

প্রশ্ন : (মতলিব সাহেবের চিঠি দেখিয়ে) প্রদর্শিত চিঠির ফটোকপি ডকুমেন্টে আছে তা কি পূর্ণাঙ্গ না কিছু অংশ বাদ গেছে। সম্পূর্ণ অবিকলভাবে আপনি দেননি।

উত্তর : অবিকলই আছে। ১/৮/৭১ থেকে ইসলামী ছাত্রসংঘ পর্যন্ত হুবহু আছে। পরে লেখা ছিল মৌলবীবাজার সাংগঠনিক জেলা শাখা- এই অংশটুকু বাদ গেছে।

প্রশ্ন : মূল চিঠি থেকে যে ফটোকপি করা হয়েছিল সেটা আপনি ট্রাইব্যুনালে দেননি।

উত্তর : সত্য নয়। মূল ফটোকপিতেই এই শব্দগুলো বাদ পড়েছে।

প্রশ্ন : নাবিল মুনতাসির নামে কোন ব্যক্তিকে আপনি চেনেন?

উত্তর : চিনি না।

প্রশ্ন : এই চিঠি প্রদর্শন করে কারো কাছে আপনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন?

উত্তর : জি, ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি প্রেস কনফারেন্স প্রদর্শন করি। পরে ২/১টি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়ে চিঠি প্রদর্শন করেছি।

প্রশ্ন : মূল চিঠিটা কার কাছে রেখেছিলেন?

উত্তর : এডভোকেট নুরুল ইসলাম খানের কাছে রেখেছিলাম ২০০৭ সালে তাকে বিশ্বস্ত মনে করে।

প্রশ্ন : নূরুল ইসলাম খান সাহেবের বেঁচে আছেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : উনি যে কাগজপত্রগুলো আপনাকে ফেরত দিলেন না। এ জন্য কি আপনি কোন আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন?

উত্তর : ২০১০ সালে থানায় ডায়েরী করি।

প্রশ্ন : জিডির তদন্তের ফলাফল জানেন?

উত্তর : তদন্ত এখনো অব্যাহত আছে।

প্রশ্ন : চিঠিটি উদ্ধারের জন্য আদালতের কাছে তল্লাশি পরোয়ানা চেয়ে কোন আবেদন করেছেন?

উত্তর : না, করিনাই।

প্রশ্ন : মতলিব সাহেবের হাতের লেখা অন্য কোন কাগজ তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়েছিলেন?

উত্তর : না, দেইনি। তদন্ত কর্মকর্তা চাননি।

প্রশ্ন : চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালে আপনি নিজামী সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করে অনৈতিক সুবিধা নিতে চেয়েছিলেন। তিনি তাতে সম্মত না হওয়ার সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অন্য রাজনৈতিক জোটের কাজ থেকে সুবিধা আদায় করার জন্য এই চিঠিটা নিজে তৈরি করেছেন।

উত্তর : ইহা সত্য নয়।

প্রশ্ন : ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক শাহরিয়ার কবির সাহেবকে চেনেন?

উত্তর : জি, চিনি।

প্রশ্ন : উনার নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘যুদ্ধাপরাধ একাত্তর'-এ আপনি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন?

উত্তর : ঐ চলচ্চিত্রে আমি কোন সাক্ষাৎকার দেইনি। তিনি একবার রয়টারের একজন সাংবাদিকসহ আমার অফিসে যান। সেখানে রয়টারের সাংবাদিক ও শাহরিয়ার কবিরের কাছে আমি দুটো পৃথক সাক্ষাৎকার দিয়েছিলাম।

প্রশ্ন : ঐ সময়ও আপনি এই চিঠির ফটোকপি প্রদর্শন করেছিলেন।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে কোন পাকিস্তান আর্মি অফিসারের সাথে আপনার দেখা বা কথা-বার্তা হয়েছিল?

উত্তর : এই মুহূর্তে স্মরণ নেই।

প্রশ্ন : ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার পরে ঢাকায় বা মৌলবীবাজারে কর্মরত কোন পাকিস্তান আর্মির সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন?

উত্তর : করি নাই।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কখনো পাকিস্তান গিয়েছিলেন?

উত্তর : ১৯৯৫ সালে গিয়েছিলাম।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে যেসব পাকিস্তান আর্মি অফিসার সারেন্ডার করেছিল তাদের কারো সাথে আপনি সাক্ষাৎ করেছিলেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে যেসব পশ্চিম পাকিস্তানী সিভিল অফিসার পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন তাদের কারো সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যার বিষয় জানার জন্য জেনারেল নিয়াজী বা অন্য কোন সেনা অফিসারের কাছে আপনি চিঠি দিয়েছিলেন?

উত্তর : না, কারো কাছে পত্র দেইনি। তবে যারা একাত্তরের গণহত্যার বিষয়ে পাকিস্তানে বসে গবেষণা করেছেন তাদের অনেকের কাছে চিঠি দিয়েছিলাম এবং গবেষণার ফলাফল এনেছিলাম।

প্রশ্ন : ঐ সময় গবেষণার ফলাফলে কোন পাকিস্তানী জেনারেল বা অফিসারের উদ্ধৃতি দেয়া ছিল কি না?

উত্তর : ছিল না।

প্রশ্ন : আপনার গবেষণা কাজে সহায়তার জন্য জেনারেল নিয়াজীর লেখা ‘রিট্রায়াল অব ইস্ট পাকিস্তান' এবং জেনারেল রাও ফরমান আলীর লেখা ও বাংলায় অনুদিত ‘বাংলাদেশের জন্ম' বই দু'টি আপনি পড়েছেন?

উত্তর : না, পড়ি নাই।

প্রশ্ন : কোন পাকিস্তানী নাগরিকের লেখা রাজাকার, আল বদর, আল শামসের গঠন সংক্রান্ত বই আপনি পড়েছেন!

উত্তর : পড়ি নাই। তবে বিভিন্ন জার্নাল ও ম্যাগাজিনে তাদের লেখা পড়েছি?

প্রশ্ন : পাকিস্তানের বহুল প্রচারিত কোন পত্রিকার নাম বলতে পারেন?

উত্তর : ডন ও ইমপ্যাক্ট উল্লেখযোগ্য।

প্রশ্ন : ডন পত্রিকার ১৯৭১ সালে ঢাকার সংবাদদাতার নাম জানেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ডন পত্রিকার কোন সম্পাদকীয় বা লেখা আপনার সংগ্রহে আছে?

উত্তর : নেই। তবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি সম্পর্কে বিভিন্ন লেখনী আমার কাছে আছে।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে অক্সিলারী ফোর্স গঠন ও পাকিস্তান আর্মিদের নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আপনার কোন ধারণা আছে?

উত্তর : নেই।

প্রশ্ন : আপনার গবেষণার প্রয়োজনে ১৯৭১ সালের পুলিশের স্পেশাল ব্রান্সের যিনি ইনচার্জ ছিলেন তার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন?

উত্তর : না। আমি শুধু রাজনীতিবিদ, লেখক, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং যারা এসব গণহত্যার বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। অনেক সেক্টর কমান্ডারের সাথেও আমি সাক্ষাৎ করেছি।

প্রশ্ন : আপনার বাড়ি মৌলবীবাজার জেলা কোন সেক্টরের অধীনে ছিল? এর সেক্টর কমন্ডার ছিলেন কে?

উত্তর : মেজর জেনারেল (অব.) সিআর দত্ত ছিলেন।

প্রশ্ন : উনার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন?

উত্তর : সাক্ষাৎকার নেইনি। তবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উনার সাথে অনেক কথা হয়েছে।

প্রশ্ন : আপনার গবেষণার ফল কবে নাগাদ প্রকাশিত হবে?

উত্তর : ধারাবাহিকভাবে প্রচার হচ্ছে।

প্রশ্ন : এ পর্যন্ত কত কিস্তি গবেষণার ফল প্রকাশ হয়েছে?

উত্তর : এ পর্যন্ত ৫০টির মত প্রেস বিজ্ঞপ্তি, প্রেস কনফারেন্স ও প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয়েছে। আমার গবেষণার বিষয় হলো জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি এবং মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগীদের ভূমিকা।

প্রশ্ন : শাহীন ফৌজের সাথে মাওলানা আব্দুর রহিমের সম্পর্ক আপনার গবেষণায় এসেছিল?

উত্তর : ওটা আমার গবেষণার বিষয় নয়।

প্রশ্ন : শাহীন ফৌজ জামায়াতে ইসলামী বা ছাত্রসংঘের নিয়ন্ত্রিত কোন সংগঠন ছিল কি না?

উত্তর : ছাত্রসংঘের নিয়ন্ত্রিত শিশু সংগঠন ছিল।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে বা পূর্বে ইসলামী ছাত্রসংঘের কোন তৎপরতার খবর আপনার গবেষণায় এসেছে?

উত্তর : জি, এসেছে।

প্রশ্ন : আপনার গবেষণার কাজে ১৯৭১ সালে প্রকাশিত ইসলামী ছাত্রসংঘের ক'টি সংবাদ বুলেটিন ব্যবহার করেছেন?

উত্তর : তা বলতে পারব না। তবে আব্দুল মালেকের উপরে একটি স্মরণিকা বুলেটিন আমার কাছে আছে।

প্রশ্ন : ছাত্রসংঘের প্রকাশিত বুলেটিনের নাম বলুন।

উত্তর : স্মরণ নেই।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে ইসলামী ছাত্র সংঘের বুলেটিনে পাকিস্তান বাহিনী বা তাদের সহযোগী বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে কোন লেখা ছিল কি না?

উত্তর : ছিল না। তবে মতিউর রহমান নিজামীর একটি প্রবন্ধ ছিল যাতে ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্যদের করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা ছিল।

প্রশ্ন : ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে আপনি কোথায় ছিলেন?

উত্তর : ঢাকায় ছিলাম বলে মনে পরে। ১৬ ডিসেম্বরের কয়েক দিন আগে ঢাকায় আসি। পরে আরো কয়েক দিন ঢাকায় ছিলাম।

প্রশ্ন : ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় এসে ঐ ক'দিন কোথায় ছিলেন?

উত্তর : রায়ের বাজার মিতালী রোডে।

প্রশ্ন : আপনি যেখানে থাকতেন সেখান থেকে রায়ের বাজার বধ্যভূমি কতদূর?

উত্তর : খুব নিকটে।

প্রশ্ন : ঐ ডিসেম্বর মাসে বধ্যভূমিতে গিয়েছিলেন?

উত্তর : না যাইনি।

প্রশ্ন : ডিসেম্বর মাসে মিরপুরে গিয়েছিলেন?

উত্তর: না যাইনি।

প্রশ্ন : স্বাধীনতার পর মতিউর রহমান নিজামীর সাথে আপনার দেখা হয়েছিল?

উত্তর : হয়নি।

প্রশ্ন : ১৬ ডিসেম্বরের পরে আপনি দেশে থাকাকালে মতিউর রহমান নিজামী সম্পর্কে কোন পত্রিকায় খবর দেখেছেন?

উত্তর : দেখেছি। পত্রিকার নাম স্মরণ নেই। তবে আমার সংগ্রহে আছে।

প্রশ্ন : তাতে নিজামীকে কি আল বদর বাহিনীর প্রধান বলা হয়েছিল?

উত্তর : প্রধান নয় প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়েছিল।

প্রশ্ন : এসব তথ্য আপনি তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়েছেন?

উত্তর : তিনি জিজ্ঞেস করেননি।

প্রশ্ন : বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের বিষয়টি আপনার গবেষণার মধ্যে আছে?

উত্তর : আছে।

প্রশ্ন : বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের বিষয়ে অন্য কোন দেশের কোন মন্ত্রীর বক্তব্য আপনার গবেষণায় স্থান পেয়েছে?

উত্তর : আমার স্মরণে আসছে না।

প্রশ্ন : বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনায় কতজন পাকিস্তানী জেনারেল বা সেনা কর্মকর্তাকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে?

উত্তর : এ বিষয়ে আমি গবেষণা করিনাই। তবে জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করা হয়েছে- এটা বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের বিজয়ের পরে সরকারিভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যার ব্যাপারে একটি এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যা ও অন্যান্য হত্যাকান্ড এবং অপরাধের বিষয়ে আলাদা আরেকটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে আপনার জানা আছে?

উত্তর : জি, জানা আছে।

প্রশ্ন : গঠিত এই কমিশনের প্রধান ও সদস্য কে কে ছিলেন?

উত্তর : তদন্ত কমিশনের প্রধান বা সদস্য কে কে ছিলেন তা আমার জানা নেই । তবে বঙ্গবন্ধুর তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ পরবর্তীতে আমাকে বলেছিলেন যে, উভয় তদন্ত কমিশনের রিপোর্টেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের বিষয়ে জামায়াত এবং ইসলামী ছাত্রসংঘকে দায়ী করা হয়েছে।

প্রশ্ন : তোফায়েল আহমেদের সাথে এই সাক্ষাৎকারটি কখন হয়েছিল?

উত্তর : ২০০৭ সালে।

প্রশ্ন : আপনি কি তোফায়েল আহমেদের কাছে তদন্ত কমিশনের রিপোর্টের কোন কপি চেয়েছিলেন?

উত্তর : চাইনি, তার কথায় বিশ্বাস করেছি। রিপোর্ট দেখার প্রয়োজন মনে করিনাই।

প্রশ্ন : বেসরকারী উদ্যোগে বুদ্ধিজীবী হত্যার বিষয়ে একটি তদন্ত কমিশন হয়েছিল।

উত্তর : একাধিক বেসরকারী তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল বলে শুনেছি।

প্রশ্ন : একটি কমিটির প্রধান ছিলেন জহির রায়হান।

উত্তর : তিনি কোন তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন না। কিন্তু এখন এটা প্রচার করা হচ্ছে।

প্রশ্ন : ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ সাহেব কোন তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলেন?

উত্তর : আমার জানা নেই।

প্রশ্ন : বেসরকারী তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট আপনি দেখেছিলেন।

উত্তর : দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পর যে কমিশন হয়েছিল তার রিপোর্ট দেখিনাই।

প্রশ্ন : বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে মাওলানা মান্নানও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

উত্তর : জি, একজন বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে তিনি জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রশ্ন : মাওলানা মান্নান সাহেব কখনো জামায়াতে ইসলামী করতেন না।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : বুদ্ধিজীবী হত্যার বিষয়ে স্বাধীনতার পরে ৪০টিরও বেশি মামলা হয়েছিল। এটা আপনার জানা আছে?

উত্তর : অনেক মামলা হয়েছিল। তবে ৪০টির বেশি কি না তা আমি জানি না।