Quantcast
ঢাকা, বুধবারর 26 September 2012, ১১ আশ্বিন ১৪১৯, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২৩২ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

আহ্্মাদুল্লাহ্্ আশরাফ ও আব্দুল লতিফ নেজামীকে অবিলম্বে মুক্তি দিন

অন্যথায় জনগণ বিশ্বাস করবে সরকার রসূলের অবমাননাকারীদের পক্ষ নিয়েছে আল্লামা শাহ আহমদ শফী

চট্টগ্রাম অফিস : মহাজোট সরকারের ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ড বন্ধের দাবিতে এবং আমেরিকা ও ফ্রান্সে মহানবী (সা.)কে অবমাননার প্রতিবাদে ইসলামী ও সমমনা দলসমূহের আহূত মহাসমাবেশে বাধা এবং প্রবীণ আলেম ও  খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামীসহ ইসলামপন্থী  নেতাকর্মীদেরকে গণহারে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের শীর্ষ আলেম এবং দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ক্বওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক) সভাপতি পীরে কামেল হযরত আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী (দা.বা.)।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর সোমবার হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের কার্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষক-ছাত্র ও স্থানীয় ইসলামী নেতৃবৃন্দের সামনে প্রদত্ত বিবৃতিতে আল্লামা শাহ্্ আহ্্মদ শফী অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত বয়োবৃদ্ধ নেতৃবৃন্দসহ অপরাপর মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্রকে মুক্তিদানের দাবি জানিয়ে বলেন, সরকারের ভুল নীতির কারণেই হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে তারা বাধ্য হয়েছেন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদেরকে মহাসমাবেশ করতে দিলে আমার বিশ্বাস তারা হরতালের এই কর্মসূচি দিতেন না।

তিনি বলেন, মাওলানা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ ও মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামীকে সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে  গ্রেফতার করে এই বৃদ্ধ বয়সে অসুস্থ অবস্থায় তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। অবিলম্বে সরকার তাদেরকে মুক্তি না দিলে আলেম সমাজ, ছাত্র-শিক্ষক ও তৌহিদী জনতার ক্ষোভ সামাল দেয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না। তখন জনগণের এই বিশ্বাস দৃঢ় হবে যে, সরকার আলেম-ওলামাদের গ্রেফতার করে রাসূলের অবমাননাকারীদের পক্ষ অবলম্বন করেছে।

তিনি বলেন, সভা, সমাবেশ ও প্রতিবাদ করা প্রতিটি মানুষের নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। সরকরের ইসলাম বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ডের প্রতিবাদে ইসলামী ও সমমনা ১২ দল কয়েক মাস পূর্বেই এই মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল এবং আমার জানামতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর অনুমতির জন্য দরখাস্তও করেছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে শেষ মুহূর্তে সেই সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে উলামায়ে কেরামের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দমন-পীড়ন চালিয়েছে।

বিবৃতিতে হযরত আল্লামা শাহ্্ আহ্্মদ শফী আরো বলেন, ইউরোপ-আমেরিকা, পশ্চিমা বিশ্বসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে হারে আল্লাহ্, রাসূল (সা.), কুরআন ও ইসলামী বিধি-বিধান নিয়ে অবমাননা, বিষোদগার ও অপপ্রচার শুরু হয়েছে, এর মোকাবিলায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ-আন্দোলনের বিকল্প নেই। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বেশি দেরি নেই, বর্তমান পরাশক্তিগুলোরও মুসলমানদের হাতে পতন ঘটবে। বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত, সর্বকালের সবশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে ব্যঙ্গ ও কুটূক্তি করে চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে শুধু ইসলামের মর্যাদাই ক্ষুণ্ণ হয়নি, এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকেও তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। আল্লামা আহ্্মদ শফী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে নিন্দা প্রস্তাব আনার দাবি জানিয়ে বলেন, মার্কিনীদের এই অপকর্মের জন্য ওবামাকে সারা বিশ্বের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং চলচ্চিত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে অবশ্যই শাস্তি প্রদান করতে হবে। তিনি ইসলামের শত্রু এই ইহুদীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াসহ তাদের পণ্যসামগ্রী বর্জন করার জন্য দেশবাসীসহ সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, রসূল (স.) এর অবমাননার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা সকল মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য।

আল্লামা শাহ্্ আহ্্মদ শফী আরো বলেন, পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমগুলো মনে করে, তারা যেকোন ধরনের কথা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রাখে। তাদের মতে, তাদের বক্তব্য যদি দেড়শ কোটি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে তবুও তারা সে বক্তব্য প্রকাশের ব্যাপারে স্বাধীন। আসলে এটা হচ্ছে বাক স্বাধীনতার অপব্যবহার।

তিনি বলেন, মানুষ যদি একে অপরকে অবজ্ঞা ও অপমান করতে থাকে, তাহলে কি ধরনের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে? রাষ্ট্র, সমাজ, ব্যক্তি কোথাও কোনো শান্তি থাকবে না। তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকবে। কিন্তু অপমান করার অধিকার কারো নেই। অন্য জাতির ধর্ম ও মূল্যবোধকে আঘাত করা হলে বিশ্ব থেকে শান্তি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ঘৃণা ও সংঘাত বেড়ে যাবে।